চিপস, বিস্কুট, কেক ও সফট ড্রিঙ্কসহ প্যাকেটজাত খাবারে Front-of-Pack Warning Label চালুর প্রস্তাব নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি। FSSAI-এর সময়সীমা নিয়ে আদালতের প্রশ্ন। জানুন কী বদল আসতে পারে।
পিনকেল ডিজিট্যাল ডেস্ক : প্যাকেটজাত খাবার কেনার আগে এবার কি সামনের দিকেই চোখে পড়বে বড়সড় ‘সতর্কবার্তা’? চিপস, বিস্কুট, কেক, সফট ড্রিঙ্কসহ অতিরিক্ত চিনি, লবণ বা ফ্যাটযুক্ত প্যাকেটজাত খাবারে Front-of-Pack Warning Label বা প্যাকেটের সামনের দিকে সতর্কীকরণ লেবেল চালুর প্রস্তাব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে মামলা।
Food Safety and Standards Authority of India বা FSSAI এই ব্যবস্থা কার্যকর করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমার প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু ২৮ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে সেই দীর্ঘ সময়সীমা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানতে চেয়েছে, জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একটি বিষয়ে আরও এত সময় কেন প্রয়োজন। মামলার রায় অবশ্য এখনও ঘোষণা হয়নি; সুপ্রিম কোর্ট রায় সংরক্ষণ করেছে।
কী থাকতে পারে সেই সতর্কবার্তায়?
প্রস্তাবিত ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হল প্যাকেটের পিছনের ছোট অক্ষরের Nutrition Information-এর উপর নির্ভর না করে ক্রেতাকে সামনের দিকেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানানো।
FSSAI-এর সাম্প্রতিক প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনও পণ্যে নির্ধারিত সীমার বেশি চিনি, লবণ বা ফ্যাট থাকলে সতর্কীকরণ চিহ্ন ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হতে পারে। সাম্প্রতিক প্রস্তাবে একটি পুষ্টি-উপাদান নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করলেও সতর্কীকরণ প্রযোজ্য হতে পারে।
তাহলে কোন কোন খাবার নজরে?
চিপস ও অন্যান্য নোনতা স্ন্যাকস, বিস্কুট, কেক, প্যাকেটজাত মিষ্টি বা বেকারি পণ্য, সফট ড্রিঙ্ক এবং বিভিন্ন processed food—অর্থাৎ সাধারণত যেসব খাবারে চিনি, লবণ বা ফ্যাটের মাত্রা বেশি থাকতে পারে, সেগুলিই এই ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারে।
তবে কোনও নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড বা পণ্য নিশ্চিতভাবে সতর্কীকরণ লেবেল পাবে কি না, তা নির্ভর করবে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত nutritional threshold এবং চূড়ান্ত নিয়মের উপর।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে packaged food-এর nutrition information সহজে বোঝা যায় কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। সুপ্রিম কোর্টও nutritional literacy এবং শিশুদের ক্ষেত্রে অজ্ঞাতসারে বা impulse-এর ভিত্তিতে খাদ্য বেছে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
FSSAI-এর প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় প্রথমে নিয়ম চূড়ান্ত করার জন্য কয়েক মাসের প্রক্রিয়া এবং তারপর food businesses-এর জন্য একটি transition period রাখার কথা বলা হয়েছিল। এই সময়সীমাই আদালতের বিশেষ নজরে এসেছে।
এখন কী হবে?
এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত নির্দেশ কী হয়।
আদালত FSSAI-এর প্রচেষ্টাকে স্বীকার করলেও বাস্তবায়নে দীর্ঘ সময় নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। রায় ঘোষণার পরই পরিষ্কার হবে, Front-of-Pack Warning Label কবে, কীভাবে এবং কোন nutritional criteria-র ভিত্তিতে কার্যকর হবে।
অর্থাৎ, আজ যে চিপসের প্যাকেট বা বিস্কুটের প্যাকেট আমরা শুধু ব্র্যান্ড দেখে কিনছি, ভবিষ্যতে সেই প্যাকেটের সামনেই হয়তো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে একটি ‘লাল সতর্কবার্তা’—কী আছে খাবারে, তা জানার জন্য।
খাবারের প্যাকেট এবার শুধু বিজ্ঞাপন নয়—স্বাস্থ্যের সতর্কবার্তাও বহন করবে কি না, সেই সিদ্ধান্তের দিকেই নজর দেশবাসীর।
FSSAI food warning label, Supreme Court food warning, Front of Pack Warning Label India, packaged food warning India, chips warning label, biscuit warning label, soft drink warning, junk food India, sugar salt fat warning, FSSAI latest news, Supreme Court FSSAI, packaged food health warning, Indian food safety