৯ মে, রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী কে ? শেষ চার মুখ্যমন্ত্রী এই শহর কলকাতার মানুষ। শহর ছেড়ে কি এবারে বিজেপি জেলার দিকে নজর দিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বেছে নেবে? নাকি শহর কলকাতাতেই বেড়ে ওঠা কেউ রাজ্য চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে চলেছে?
দীপঙ্কর গুহ, এডিটর ইন চিফ ( pinnaclenews.in) :
স্বাধীনতার পর বাংলার সব মুখ্যমন্ত্রী কি শহরের মানুষ ছিলেন? – প্রশ্নটা সহজ। কিন্তু উত্তরটা রাজনীতির গভীরে ঢুকে আছে।আসুন, একবার দেখে নেওয়া যাক – শহর আর গ্রামের নিরীখে রাজ্য মুখ্যমন্ত্রী পেয়েছে। স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীদের তালিকা নিচে দিলাম—সংক্ষেপে, ক্রমানুসারে:
🔵 মুখ্যমন্ত্রীদের তালিকা (১৯৪৭–বর্তমান)
Prafulla Chandra Ghosh – প্রফুল্ল চন্দ্র ঘোষ (১৯৪৭–১৯৪৮); Bidhan Chandra Roy- বিধান চন্দ্র রায় (১৯৪৮–১৯৬২); Prafulla Chandra Sen – প্রফুল্ল চন্দ্র সেন (১৯৬২–১৯৬৭); Ajoy Mukherjee – অজয় মুখার্জি (দুই দফা: ১৯৬৭, ১৯৬৯–১৯৭০); Siddhartha Shankar Ray – সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় (১৯৭২–১৯৭৭); Jyoti Basu – জ্যোতি বসু (১৯৭৭–২০০০); Buddhadeb Bhattacharjee – বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য (২০০০–২০১১); Mamata Banerjee- মমতা ব্যানার্জি (২০১১–বর্তমান)। 👉 (মাঝে কয়েকবার President’s Rule হয়েছে, তখন কোনও নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন না)।
https://www.facebook.com/share/p/1JyaSu1hMX
শেষ ৫৪ বছর শহরের কেউ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। আবার কি জেলা থেকে কেউ এবার মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন?
প্রশ্ন❓- এর আগে সবাই কি শহরের মানুষ ছিলেন?এককথায় — না, সবাই শহরের মানুষ নন। বরং অনেকেই গ্রামীণ বা মফস্বল পটভূমি থেকে উঠে এসেছেন।
🟢 গ্রাম/মফস্বল পটভূমি :
Prafulla Chandra Ghosh – নদীয়া/গ্রামীণ বাঙালি শিকড়; Prafulla Chandra Sen – হুগলির গ্রামীণ এলাকা; Ajoy Mukherjee – তমলুক (মেদিনীপুর), স্পষ্ট গ্রামীণ রাজনীতি; Jyoti Basu – শুরু কলকাতায় হলেও রাজনৈতিক সংগঠন বিস্তার মূলত গ্রামাঞ্চলে।
🔴 শহরকেন্দ্রিক/কলকাতা-ভিত্তিক
Bidhan Chandra Roy – কলকাতা-কেন্দ্রিক, শহুরে উন্নয়নের স্থপতি; Siddhartha Shankar Ray – কলকাতা-এলিট রাজনৈতিক পটভূমি; Buddhadeb Bhattacharjee – কলকাতা-নির্ভর; Mamata Banerjee – কলকাতার (ভবানীপুর) বাসিন্দা, তবে রাজনীতি গ্রাম-শহর দু’জায়গাতেই বিস্তৃত।
🔴 শহর বনাম গ্রাম নয়—বাংলার ক্ষমতার আসল লড়াই কোথায়? স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার ইতিহাস বলছে—👉 কলকাতা কখনও একা রাজ্য চালায়নি। 👉 আবার গ্রামও এককভাবে ক্ষমতা দখল করে রাখেনি। 👉 যারা শহরের কৌশল আর গ্রামের মাটি—দুটোই বুঝেছেন, তারাই টিকে গেছেন।
🧠 প্যাটার্নটা কোথায়?
👉 Bidhan Chandra Roy — কলকাতাকে আধুনিক শহরে গড়ে তুললেন, শহরকেন্দ্রিক উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি। 👉 Prafulla Chandra Sen — খাদ্য আন্দোলন, গ্রামবাংলার ক্ষোভ সামনে এলো। 👉 Ajoy Mukherjee — মফস্বল ও গ্রামীণ রাজনীতি শক্তিশালী হয়ে উঠলো।
🟥 টার্নিং পয়েন্ট: গ্রামই শক্তির উৎস👉 Jyoti Basu-এর সময়ে স্পষ্ট হয়ে গেল—“গ্রামকে দখলে রাখলেই বাংলা দখলে।”জমি সংস্কার, পঞ্চায়েত—👉 ক্ষমতার আসল কেন্দ্র সরে গেল গ্রামবাংলায়।
⚠️ ভুলটা কোথায় হয়েছিল?
👉 Buddhadeb Bhattacharjee শিল্পায়নের দিকে এগোলেন। কিন্তু—👉 গ্রামকে সঙ্গে না নিয়ে শহরের উন্নয়ন চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ। 👉 ফল: রাজনৈতিক পালাবদল।
🟢 বর্তমান সমীকরণ👉 Mamata Banerjee মুখ: কলকাতা শক্তি : গ্রামবাংলা স্কিম, গ্রাসরুট কানেক্ট, বুথ-লেভেল সংগঠন। 👉 খেলা জেতা হয় গ্রামে, টিভি ডিবেটে নয়। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে গ্রাম বনাম শহর—দুই ধারার মিশ্রণ সবসময়ই ছিল ১৯৬০–৭০ দশকে গ্রামীণ আন্দোলন (খাদ্য আন্দোলন, নকশাল ইস্যু) নেতৃত্বে বড় ভূমিকা বামফ্রন্ট আমলে (বিশেষ করে জ্যোতি বসু ) গ্রামাঞ্চল ছিল শক্ত ঘাঁটি২০১১-র পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর রাজনীতিও গ্রামীণ ভোট ব্যাঙ্কে গভীরভাবে নির্ভরশীল, যদিও নেতৃত্ব শহর থেকে।
🔥 বাংলার রাজনীতিতে আসল লড়াইটা “শহর বনাম জেলা ” নয়—👉 এটা বর্ণনা (Narrative) বনাম বাস্তব (Ground Reality)-এর লড়াই
📌 কলকাতা narrative তৈরি করে📌 গ্রাম ফল নির্ধারণ করে।
⚡ বাংলার রাজনীতির অলিখিত নিয়ম:👉 “গ্রাম জিতলে, বাংলা জিতবে—আর কলকাতা তখন নিজে থেকেই অনুসরণ করবে।”
#WestBengalPolitics #শহরVsগ্রাম #BengalCM #PoliticalAnalysis #PinnacleNews #GrassrootPolitics #Election2026