Saturday, August 15, 2026,

Sports Funda: স্বাধীনতা দিবসে গলে: ভারত ৬০০তম টেস্ট, ঝুঁকির একাদশ

Total Views: 8

ভারত ৬০০তম টেস্ট শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে গলে—স্বাধীনতা দিবসেই সার্জপ্রাইজ একাদশ। জয়সওয়াল থেকে কুলদীপ: কেন আমি সিরাজ রাখিনি।

দীপঙ্কর গুহ ( এডিটর ইন চিফ, pinnaclenews.in)

এই প্রথম একাদশটার “ক্রিকেটিং লজিক” বেশ আলাদা, আর সেটাই এটাকে আকর্ষণীয় আপনার লাগতেই পারে। দলটা মূলত গলে সম্ভাব্য স্পিন সহায়ক , ব্যাটিং মজবুত এবং উইকেট তোলার এক কম্বিনেশন সাজিয়েছি ।

✅ এই একাদশের ভাবনাএই একাদশে সবচেয়ে বড় শক্তি হল ব্যাটিং গভীরতা। জয়সওয়াল, রাহুল, পাডিক্কল, গিল, পন্থ, সারফরাজ—এই ছয়জনের মধ্যে চার-পাঁচজনই লম্বা ইনিংস খেলতে পারে, আর সেটা গলে খুব দরকারি। কারণ গলে প্রথম ঘণ্টায় উইকেট সহজে খেলা না গেলেও, একবার সেট হয়ে গেলে বড় স্কোর তোলা সম্ভব। এই দলটা আসলে “সেফ” নয়, বরং বিপক্ষের উপর “প্রেসার তৈরি করা” একাদশ । শুরু থেকেই এমন ব্যাটসম্যান রেখেছি যাঁরা ইনিংস ধরে খেলতে পারে। আর নিচে জাডেজা, মনভ, সারণশ, গুরনূর, কুলদীপ—সব মিলিয়ে রানও আছে, বোলিং গভীরতাও আছে। ফলে ৫০০+ টার্গেট সাজিয়ে দেওয়ার ভাবনাটা একেবারে অযৌক্তিক নয়।

✅ গলে এই কম্বিনেশন কেন কাজ করতে পারে : গলে সাধারণত উইকেট একটু ধীরে ধীরে আচরণ বদলায়। শুরুতে ব্যাটিং করলে ব্যাটাররা কিছুটা সুবিধা পেতে পারে। কিন্তু ম্যাচ যত এগোবে, টার্ন আর অসম বাউন্স বাড়তে থাকে। সেই কারণে এমন একাদশ, যেখানে ৩ ধরণের স্পিন বিকল্প আর একাধিক স্পিন ফ্রেন্ডলি উইকেটের জাদুগর আছে। তাই জোরালো লজিক আছে। অধিকাংশই জানেন, গলে সবসময় ফাস্ট বোলারের জন্য সাজানো ২২ গজ থাকে না। তাই “শুধু নাম দেখে” সিরাজকে নেওয়ার বদলে গুরনূর ব্রারের মতো এক জনকে বেছে নিয়েছি , যাঁর অতিরিক্ত বাউন্স বিপক্ষের জন্য নতুন সমস্যার জন্ম দিতে পারে। যদি পিচ খুব বেশি সিম না করে, তাহলে এই সিদ্ধান্তটি যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত হয়ে উঠতে পারে।

✅ওপেনিং ফর্মুলা : জয়সওয়াল আর কেএল রাহুল—এই জুটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। জয়সওয়াল আক্রমণাত্মক, রাহুল তুলনামূলকভাবে টেকনিক্যাল ও ধৈর্যশীল। এই জুটিতে একজন আক্রমণ করে, অন্যজন দৃঢ়তা দেয়—এটাই আদর্শ জুটি। দেবদত্ত পাডিক্কলকে তিনে রাখা মানে left-hand balance এবং clean strokeplay-এর সুবিধা নিতে চাই । যদি তিনি শুরুতে ছন্দটা পেয়ে যান, তাহলে তিনি বড় ইনিংস খেলতে পারেন। এতে গিলকে চার নম্বরে নামিয়ে ব্যাটিং গভীরতাকে নানানভাবে খেলার সুযোগ থাকছে। ইনিংসের মাঝের ওভারগুলোকে খুব ভালোভাবে কাজে লাগে।

✅ মিডল অর্ডারের শক্তিগিল, পন্থ , সারফরাজ—এই তিনজনই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। গিল টেম্পো ধরে রাখবে, পন্থ দ্রুত রান তুলতে পারে, আর সারফরাজ লম্বা সময় ব্যাট করতে পারলে সেটাই বড় ইনিংস গড়ার হাতিয়ার হবে। এটা ভেবে দেখলে এমন একাদশ – আসল মানসিকতা বুঝিয়ে দিচ্ছে: এই দল শুধু “defend” করতে চান না, বরং “dominate” করতে চায়। বিশেষ করে পন্থ ও সারফরাজ থাকলে ৪০০-এ থেমে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে, ৫০০-র দিকে যাওয়ার রাস্তাটা খোলা থাকে। জয়ের দল হবে এটি, ড্র এর নয়।

✅ অলরাউন্ডার স্লট : জাডেজা, মনভ সুতার, সারণশ জৈন—এই তিনজনের উপস্থিতি দলকে ভারসাম্য দিচ্ছে। জাডেজা তো নিশ্চিতভাবে ব্যাটিং +বোলিং+ ফিল্ডিং- দক্ষতা নিয়ে, সেরা ট্রাম্প কার্ড । মনভ যদি নতুন বলে সুইং শুরু দিতে পারেন, তাহলে তাঁকে দিয়ে শুরুতেই উইকেট তোলার চেষ্টা করা যেতে পারে। সারণশ জৈনকে রাখার অর্থ হলো ব্যাটিং গভীরতাকে খাটো না করে বাড়তি বোলার বাড়িয়ে নিলাম । এই ধরনের প্রথম একাদশ সাধারণত সাবকন্টিনেন্টাল উইকেট – পরিবেশে বেশি কার্যকর। বিশেষ করে যখন পিচ ধীরে ধীরে হাবভাব বদল করে। আমার ধারণা যে ২০ ওভারের পর টার্ন বাড়তে শুরু করবে। সেটার সঙ্গে এই দল সাজানো খুব মিলে যাবে বলে আশাবাদী।

✅ বোলিং আক্রমণ : গুরনূর ব্রার + মনভ সুতার নুতন বলের জুটি—এই আইডিয়াটা বেশ হাটকে, কিন্তু এর সঙ্গে লজিক আছে। দুজনকেই মূলত বলে নিয়ন্ত্রণ রেখে উইকেট শিকারি হিসেবে দেখছি। যদি নতুন বলে সুইং না মেলে, তবু একজনের বাউন্স নির্ভর , অন্যজনের সিম- সুইং মিলিয়ে এক ধরনের আনপ্রেডিক্টেবল চাপ তৈরি হবে। কুলদীপ এরপর মাঝের ওভারে এলে আক্রমণের চাপ বাড়বে। গল উইকেট স্পিনে যত সাড়া দিতে থাকে , ততই তার কদর বেড়ে যায়। আর জাডেজা থাকলে একদিকে কৃপণ বোলিংয়ে রান রোখা যাবে। অন্যদিকে কন্ট্রোল —দু’টোই থাকবে।

✅ অভিজ্ঞ সিরাজকে না রাখার যুক্তি : জানি আমার সবচেয়ে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত হল, সিরাজকে বাদ দেওয়া। কারণ এই ম্যাচকে পেস সহায়ক উইকেটে লড়াই হিসেবে দেখছি না। যদি পিচে সুইং বা মুভমেন্ট না থাকে, তবে এক জন প্রকৃত পেসারকে দলে রাখা মানে ব্যাটিং গভীরতাকে কমিয়ে খেলতে নামা । তবে এই সিদ্ধান্তটা পুরোপুরি পিচের হাবভাবের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। যদি প্রথম সেশনে আকাশের মুখ ভার থাকে, বা নতুন বলে সিম মুভমেন্ট দেখা যায়, তাহলে সিরাজের মতো বোলার হঠাৎ খুব কার্যকরী হয়ে যেতে পারেন। অর্থাৎ, এই নির্বাচন ঝুঁকির হলেও পরিস্থিতি-নির্ভরভাবে যুক্তিসঙ্গত বলে মনে করি ।

✅ শেষের কথা: আমার এই সেরা একাদশ -এর ইউএসপি হল আক্রমণাত্মক – সাহসী, স্পিন নির্ভর এবং মজবুত ব্যাটিং নির্ভর। আপনিও যদি রক্ষণাত্মক না হয়ে এমন দল বেছে নেন – সেটা গলে ( সিরিজে প্রথম টেস্ট) ম্যাচের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তবে এটা একেবারেই নিশ্চিন্তের একাদশ নয়। এটা উইকেট পর্যবেক্ষণে ঠিক হলে দারুণ কাজ করবে, ভুল হলে কিন্তু সমালোচনার মুখেও পড়তে পারে। ঝুঁকি নিলাম।

Share with

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *