...
Thursday, May 21, 2026,

Political Adda: সরকারি কর্মী ? সোশাল মিডিয়ায় সাবধান!

Total Views: 10

সরকারি কর্মচারীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ খোলায় নিষেধাজ্ঞা! ১৯৫৯ ও ১৯৮০-র নিয়ম ফিরিয়ে আনল নবান্ন। কী আছে নতুন নির্দেশিকায়? ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যগুলোতেই বা কী নিয়ম? জেনে নিন বিস্তারিত।

পলিটিক্যাল ডেস্ক ( Pinnaclenews.in) : সরকারি কর্মচারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষক থেকে শুরু করে অধ্যাপক—সবার জন্যই জারি হলো কড়া ফতোয়া। সরকারের নীতি বা সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট, টুইট কিংবা পত্রপত্রিকায় লেখালেখি করা এখন থেকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যসচিবের দপ্তর থেকে জারি করা হয়েছে এক নজিরবিহীন কড়া নির্দেশিকা (সার্কুলার নং: ১৩৯-সিএস/২০২৬)। তবে এই নিয়মে কি নতুন কিছু আছে? নাকি এটি পুরনো বোতলে নতুন মদ? আসুন জেনে নেওয়া যাক।

পুরনো নিয়মের ‘আধুনিক রূপ’! কী তফাত ১৯৫৯, ১৯৮০ আর ২০২৬-এর?

এই কড়া নির্দেশিকা আসলে নতুন কিছু নয়। এটি বিধান রায়ের আমলের ১৯৫৯ সালের আচরণ বিধি এবং জ্যোতি বসুর আমলের ১৯৮০ সালের কর্তব্য ও অধিকার বিধির একটি ডিজিটাল ও আধুনিক সংস্করণ মাত্র।

আইনি পরিধি ও ফারাক: ১৯৫৯ এবং ১৯৮০ সালের নির্দেশিকার মধ্যে মৌলিক ফারাক ছিল আইনি পরিধি এবং কর্মচারীদের অধিকারের ব্যাপ্তিতে। ১৯৮০ সালের নিয়মে বাম আমলে কর্মচারীদের কিছু গণতান্ত্রিক অধিকার ও সংগঠনের ছাড় দেওয়া হলেও, মূল নির্যাস কিন্তু একই ছিল।

যুগ বদলালেও মূল নিয়ম বদলায়নি—

সরকারের সমালোচনা করে কোনো লেখালেখি করা যাবে না। — আগে যা ছিল কাগজের কলমে বা সংবাদপত্রে, ২০২৬ সালের ডিজিটাল যুগে তা এসে ঠেকেছে ফেসবুক পোস্ট, হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাস বা ইউটিউব ভিডিওতে।

ছাড় পাচ্ছেন কারা ?-– এই কড়া নির্দেশিকা থেকে আপাতত কিছুটা স্বস্তিতে আছেন রাজ্য সরকারের সাহায্যপুষ্ট (Government-Aided) স্কুলগুলির শিক্ষক-শিক্ষিকারা। তাঁরা এই নিয়মের পরিধির বাইরে থাকছেন।

অন্যান্য রাজ্যে কী নিয়ম? ‘ডাবল ইঞ্জিন’ রাজ্যগুলোর চিত্রটা কেমন?

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, এই নিয়ম কি শুধু পশ্চিমবঙ্গেই? ভারতের অন্যান্য রাজ্য, বিশেষ করে বিজেপি শাসিত ‘ডাবল ইঞ্জিন’ রাজ্যগুলিতে সরকারি কর্মচারীদের জন্য কী নিয়ম রয়েছে?বাস্তবতা হলো, ভারতের প্রায় সব রাজ্যেই Central Civil Services (Conduct) Rules, 1964-এর আদলে নিজস্ব আচরণ বিধি রয়েছে।

ত্রিপুরা ও অসম:

উত্তর-পূর্বের এই দুই ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যে গত কয়েক বছরে একাধিক সরকারি কর্মচারীকে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারের সমালোচনা বা রাজনৈতিক পোস্ট করার জন্য সাসপেন্ড হতে হয়েছে। ত্রিপুরা সরকার তো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সরকারি কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক মিছিলে অংশ নিতে পারবেন না এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারের নীতির বিরোধিতা করতে পারবেন না।

উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশ:

যোগী রাজ্য বা মধ্যপ্রদেশেও সরকারি কর্মীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ওপর কড়া নজরদারি চালানো হয়। আইটি অ্যাক্ট এবং সার্ভিস রুলস ভঙ্গ করলে চাকরি খোয়ানোর মতো শাস্তিও দেওয়া হয়েছে সেখানে।

ডাবল ইঞ্জিন রাজ্য হোক বা পশ্চিমবঙ্গ—কুর্সিতে যে দলই থাকুক না কেন, ‘সরকারি কর্মচারী হয়ে সরকারের সমালোচনা করা যাবে না’—এই নিয়মে দেশের প্রায় সব শাসকদলই এককাট্টা।

👇 আপনার এই বিষয়ে কী মতামত? বাক-স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ নাকি প্রশাসনিক শৃঙ্খলার জন্য এটা জরুরি? কমেন্ট সেকশনে জানান।

Share with

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *