ভারতীয় দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স কি চিন্তার ভাঁজ ফেলছে? টপ অর্ডারের ব্যর্থতা থেকে শুরু করে বাজে ফিল্ডিং—টিম ইন্ডিয়ার প্রধান ৩টি দুর্বলতা কেন!
Sports Desk ( pinnaclenews.in) : ক্রিকেট মাঠে জয়ই শেষ কথা। কিন্তু সেই জয় যদি প্রতিবার খাদের কিনারা থেকে ফিরে এসে পেতে হয়, তবে উল্লাসের চেয়েও বেশি চিন্তার ভাঁজ পড়ে কপালে। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে ভারতীয় দলের জয়গুলো অনেকটা ‘থ্রিলার’ সিনেমার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ভারত কি সত্যিই আধিপত্য নিয়ে জিতছে, নাকি ভাগ্যের জোরে পার পাচ্ছে ?
টপ অর্ডারের ওপর অতি-নির্ভরতা : ভারতীয় ব্যাটিং লাইন-আপ বর্তমানে অতিরিক্ত মাত্রায় ওপেনারদের ওপর নির্ভরশীল। যদি আমাদের ওপেনিং জুটি দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফিরে যায়, তবে দলের মোট স্কোরে অন্তত ৪০-৫০ রানের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচেও আমরা এর প্রতিফলন দেখেছি। সেদিন যদি ঈশান কিষাণ দ্রুত কিছু রান না তুলতেন, তবে ম্যাচের ফলাফল ভারতের বিপক্ষেও যেতে পারত। টপ অর্ডার ব্যর্থ হলে মিডল অর্ডার সেভাবে চাপ সামলাতে পারছে না।
ভরসাযোগ্য মাত্র ৩ জন মিডল অর্ডার ব্যাটারওপেনিং জুটি দ্রুত আউট হয়ে গেলে ধস সামলানোর জন্য বর্তমানে আমাদের দলে মাত্র তিনজনের ওপর চোখ বন্ধ করে ভরসা করা যাচ্ছে—হার্দিক পান্ডিয়া, শিভম দুবে এবং ‘ভাউ’ (সূর্যকুমার যাদব)।
গত চারটি ম্যাচের চিত্রটাই এমন :
প্রথম ম্যাচে সূর্যকুমার যাদব আমাদের বিপর্যয় থেকে বাঁচিয়েছিলেন। দ্বিতীয় ম্যাচে কেবল হার্দিক এবং দুবে সম্মানজনক পারফরম্যান্স করেছেন। তৃতীয় ম্যাচে তিলক ভার্মা কিছুটা অবদান রাখলেও, বর্তমান ফর্ম অনুযায়ী তাকে খুব একটা নির্ভরযোগ্য বলা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, এই তিনজন দ্রুত আউট হয়ে গেলে দলের স্কোর এক ধাক্কায় ৭০-৭৫ রান কমে যাচ্ছে, যা গত ম্যাচেও দেখা গেছে।
ফিল্ডিংয়ের ‘গাফিলতি’ না কি ‘অযোগ্যতা’ ? — বিপক্ষ দলের ব্যাটিংয়ের চেয়েও ভারতের বড় শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজেদের ফিল্ডিং। পরিসংখ্যান বলছে, গত কয়েকটি সিরিজে ক্যাচ মিসের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারের ক্যাচ মিস করা মানেই স্কোরবোর্ডে অতিরিক্ত রান যোগ হওয়া। স্লিপ থেকে শুরু করে ডিপ মিড-উইকেট—সব জায়গাতেই যেন ফিল্ডারদের হাত থেকে বল পিছলে যাচ্ছে। আধুনিক ক্রিকেটে ফিল্ডিংকে ‘তৃতীয় বিভাগ’ বলা হয়। ভারত সেখানেই হালে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত ।”Catches win matches”—এই পুরনো প্রবাদটি ভারত ভুলে গেলে চলতি টুর্নামেন্টে বড় মাশুল গুনতে হতে পারে।
ফিল্ডিংয়ের বেহাল দশা : “Catches win matches”, কিন্তু ভারতীয় দল হালে যেন ঠিক উল্টো পথে হাঁটছে। ফিল্ডিংয়ের মান অত্যন্ত হতাশাজনক। গত চারটি ম্যাচেই প্রচুর সহজ ক্যাচ হাতছাড়া হয়েছে। হার্দিক পান্ডিয়া এবং শিভম দুবে (কেবল ক্যাচ ধরার ক্ষেত্রে) ছাড়া বাকি কাউকেই মাঠে সাবলীল বা তৎপর মনে হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটে এই পর্যায়ের মিস-ফিল্ডিং বড় টুর্নামেন্টে ভারতের জন্য মাথা ব্যথার কারণ হতে পারে।
জয়ের ধারা বজায় থাকলেও টিম ইন্ডিয়ার এই দুর্বলতাগুলো দ্রুত কাটিয়ে ওঠা জরুরি। বিশেষ করে বড় দলগুলোর বিপক্ষে জেতার জন্য মিডল অর্ডারের ধারাবাহিকতা এবং ফিল্ডিংয়ের উন্নতি ছাড়া সাফল্যের কোনও বিকল্প নেই।
বোলিং কি ধার হারিয়েছে?
জশপ্রীত বুমরাহ দলে না থাকলে বা বিশ্রামে থাকলে ভারতীয় বোলিং ইউনিটের কঙ্কালসার চেহারাটা মাঝেমধ্যেই বেরিয়ে পড়ছে। বিশেষ করে ডেথ ওভারের বোলিং এখন বড় দুশ্চিন্তার বিষয়। টি-টোয়েন্টি বা ওয়ানডে ম্যাচ — শেষ ৫ ওভারে যেভাবে বোলাররা ইয়র্কার মিস করছেন এবং ফুল-টস বল দিচ্ছেন, তাতে বিপক্ষ দল সহজেই ২০-৩০ রান অতিরিক্ত তুলে নিচ্ছে। কুলদীপ বা অক্ষরের স্পিন মাঝের ওভারে রান আটকালেও উইকেট নিতে না পারাটা চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
জয়ের ব্যবধান কেন কমছে ?
জয়ের ব্যবধান বা ‘মার্জিন’ কমে যাওয়ার মূল কারণ হল স্কোরবোর্ডে রানের দৌড়ে পিছিয়ে থাকা । টপ-অর্ডার ব্যর্থ হলে মিডল অর্ডার সেভাবে হাল ধরতে পারছে না। ফলে ১৭০-১৮০ রানের পুঁজি নিয়ে টি-টোয়েন্টিতে বড় ব্যবধানে জেতা অসম্ভব। বোলাররা শেষ ওভার পর্যন্ত লড়াই করে টেনেটুনে ম্যাচ জেতা যাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু দাপটের সেই চেনা ‘ইন্ডিয়ান ব্র্যান্ড’ অফ ক্রিকেট উধাও।