ইডেনে KKR-এর আয় কত? আকাশদীপের বদলে কেন ব্রাত্য বাংলার ক্রিকেটাররা? আইপিএল ২০২৬-এ টিকিটের দাম বাড়ার আসল কারণ জানুন পিনাকল নিউজে।
স্পোর্টস ডেস্ক ( pinnaclenews.in) : আইপিএল মানেই গ্ল্যামার, চার-ছক্কার বৃষ্টি আর গ্যালারি ভর্তি উন্মাদনা। কিন্তু ২০২৬ সালে কলকাতার সমর্থকদের কাছে এই উন্মাদনার স্বাদ পেতে বেশ মোটা টাকা এবার খসতে চলেছে । বাংলার পেসার আকাশদীপ চোটের জন্য টুর্নামেন্টে খেলতে পারবেন না। পরিবর্তে বাংলার আর কাউকে নেওয়া গেল না! এভাবেই দিনের পর দিন বাংলার ক্রিকেটারদের ব্রাত্য রাখার ক্ষোভের মাঝেই ঘি ঢেলেছে টিকিটের চড়া দাম।
ইডেন থেকে কেকেআর-এর আয় কত?
ইডেন গার্ডেন্সের দর্শক আসন সংখ্যা প্রায় ৬৬,০০০। একটি মেগা ম্যাচে টিকিটের গড় দাম এবং স্পনসরশিপ ধরলে কেকেআর-এর আয়ের অংকটা চমকে দেওয়ার মতো।
টিকিট বিক্রি থেকে আয়: এসব হিসেব যারা রাখে তাদের মতে, একটি হাউসফুল ম্যাচে শুধুমাত্র সাধারণ এবং প্রিমিয়াম টিকিট বিক্রি করেই কেকেআর-এর আয় হয় প্রায় ৫ থেকে ৭ কোটি টাকা! এবার গুণে দেখুন ইডেনে ম্যাচ কটা।
কর্পোরেট বক্স ও হসপিটালিটি: ইডেনের ৩২টি এসি বক্স এবং ভিআইপি লাউঞ্জ থেকে আয় আরও কয়েক কোটি। সব মিলিয়ে ৭টি হোম ম্যাচ থেকে কেকেআর-এর টিকিট ও হসপিটালিটি বাবদ আয় প্রায় ৪০-৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
অন্যান্য আয়: এর বাইরে খাবারের স্টল, মার্চেন্ডাইজ এবং মাঠের বিজ্ঞাপনের একটি অংশ সরাসরি ফ্র্যাঞ্চাইজির পকেটে যায়।
কেন এবার টিকিটের দাম বাড়ল?
সমর্থকদের মনে প্রশ্ন, লোগোতে বাংলার আবেগ থাকলেও টিকিটের দামে কেন এত চড়া ? ক্লাব হাউসের বিশাল ফেসিয়াল ঢেকে কেকেআর এর ডিজাইন। ইডেন ভাড়া নেয়, তাই এটা প্রচারের অঙ্গ। আর টিকিটের দাম বাড়ার পেছনে মূলত দুটি বড় কারণ কাজ করছে—–
জিএসটি (GST) বৃদ্ধি: কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আইপিএল-এর মতো ইভেন্টকে ‘লাক্সারি গুডস’ বা বিলাসদ্রব্য হিসেবে গণ্য করে এর ওপর জিএসটি ২৮% থেকে বাড়িয়ে ৪০% করা হয়েছে। এই ১২% বাড়তি করের বোঝা এখন সরাসরি দর্শকদের ওপর চাপানো হয়েছে।
অপারেশনাল খরচ: গত বছরের তুলনায় মাঠের রক্ষণাবেক্ষণ, বিদ্যুৎ বিল (প্রায় ৪২-৪৫ লক্ষ টাকা প্রতি ম্যাচ), এবং নিরাপত্তার জন্য কলকাতা পুলিশকে দেওয়া ফির পরিমাণও বেড়েছে। এছাড়া বিনোদন কর (Amusement Tax) এবং বুক মাই শো-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর কনভিনিয়েন্স ফি যোগ হয়ে ১০০০ টাকার টিকিট শেষ পর্যন্ত প্রায় ১১৭০ টাকায় গিয়ে ঠেকছে। জানা যাচ্ছে, সিএবি ক্লাব হাউসের upper tier টিকিট ৩০০০ টাকা। আর সবচেয়ে আকর্ষণীয় lower tier এবার দাম ৮০০০ টাকা।
সাধারণের নাগালের বাইরে ইডেন ম্যাচ ?
২০২৬ আইপিএল-এ ইডেনের সর্বনিম্ন টিকিটের দাম ধরা হয়েছে ১০০০ টাকা (যা দ্রুত বিক্রি হয়ে যায়)। এরপরের ধাপগুলো যথাক্রমে ১২০০, ১৫০০, ২০০০ এবং প্রিমিয়াম গ্যালারির জন্য ৮০০০-৮৫০০ টাকা পর্যন্ত। আহমেদাবাদ বা লখনউয়ের মতো মাঠে যেখানে ৫০০ টাকায় টিকিট পাওয়া যায়, সেখানে কলকাতার এই অগ্নিমূল্য নিয়ে সাধারণ সমর্থকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
সিএবির অনুমোদিত ক্লাবের কর্তারা আবার কয়েকদিন ধরেই দাবী তুলেছিল, সংস্থার প্রধান ( সভাপতি ) যে নিজের কোটায় টিকিট বিলির ব্যবস্থা চালু করেছিলেন তা চালু হোক। একসময় চালু হয়েছিল, বিনামূল্যে একটি ক্লাব হাউস আর গোছা খানেক পাশের ব্লকের টিকিট দেওয়া। তা সংখ্যায় কমতে কমতে শূন্য চলে যায়। এবারের আইপিএলে কি সেই ধারা বজায় থাকবে ? নাহ্ – আবার ফিরছে আগের নিয়ম। বুধবার, ম্যাচের আগের দিন সকালেই সংস্থার অফিসিয়াল গ্রুপে নাকি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে – প্রতিনিধিদের টিকিট বিলি করা হবে। সেখান টিকিটের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি বলে সূত্রের মারফৎ জানা যাচ্ছে।

বাংলার প্লেয়ার নেই, অথচ বাংলার মানুষের আবেগ ও পকেট ব্যবহার করে কেকেআর-এর ভাঁড়ার পূর্ণ হচ্ছে—সোশ্যাল মিডিয়ায় এই দাবি এখন জোরালো। এমনকি বাংলায় এবার পোস্টার – ব্যানার – হোর্ডিং – ব্র্যান্ডিং করা হয়েছে। বাংলা তাহলে বড় ব্যবসার মঞ্চ। নিন্দুকেরা যা বলছে বলুক।
পিনাকল নিউজের পাঠকদের জন্য প্রশ্ন: টিকিটের এই মূল্যবৃদ্ধি কি সত্যিই যুক্তিযুক্ত, নাকি শুধু লাভের অংক কষছে ফ্র্যাঞ্চাইজি?