ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের নদীবেষ্টিত যেসব অংশে বেড়া দেওয়া কার্যত অসম্ভব, সেই ১৭৪.৫ কিমি “নন-ফিজিবল গ্যাপ” রুখতে নয়া ভাবনা —বিএসএফ কি প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধক হিসেবে সাপ ও কুমিরের মতো উপায় শুধুই ভাবছে ?
ডিজিট্যাল ডেস্ক ( pinnaclenews.in) : ” ঘুসপেটিয়া ” শব্দটা সকলের চেনা। বিজেপি ভারত –বাংলাদেশ সীমান্ত নিয়ে চাপান উতোর প্রবল। কিন্তু বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ এখন আর শুধু অনুপ্রবেশ নয়, ভৌগোলিক আর প্রাকৃতিক চ্যালেঞ্জই। সংসদে কেন্দ্রের জবাবে স্পষ্ট হয়েছে, মোট সীমান্তের ১৭৪.৫ কিমি অংশ কখনওই বেড়া দিয়ে আটকানো যাবে না। যেখানে নদী, জলাভূমি, বন্যাপ্রবণ চর এবং ক্রমাগত বদলে যাওয়া নদীর গতিপথ – সেখানে এই জটিল সমস্যার কারণে কাঁটাতার বসানো প্রায় অসম্ভব।
এই পাঁচ রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ সীমান্ত পশ্চিমবঙ্গে—২,২১৬.৭ কিমি। ফলে বসিরহাট, হিঙ্গলগঞ্জ, হাসনাবাদ, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ এবং মালদার নদীবেষ্টিত অংশগুলো নিরাপত্তার দিক থেকে সবসময়ই স্পর্শকাতর।
সাম্প্রতিক আলোচনায় বিএসএফ-এর সম্ভাব্য “ বনের কৌশল ” হিসেবে সাপ ও কুমিরকে পরিবেশের অঙ্গ ভেবে প্রহরী হিসেবে ভাবনার বিষয়টি সামনে এসেছে। যদিও এটি এখনও প্রাথমিক আলোচনা স্তরে আছে । বাস্তবে কেন্দ্রীয় সংস্থার দপ্তর বর্তমানে বেশি জোর দিচ্ছে স্মার্ট সেন্সর, নাইট ভিশন ক্যামেরা ব্যবহার, ফ্লোটিং বিপিও, উঁচুতে ড্রোন ব্যবহার এবং থার্মাল ইমেজিং-এর উপর।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের জলের যোজনা-এ সমস্যা শুধু ফেন্সিং নয়—জলপথে দ্রুত গতির ছোট নৌকা, চর বদল, ঘন জনবসতি এবং সীমান্তের দু’পারের সাংস্কৃতিক মিল নজরদারিকে আরও জটিল করে তুলছে প্রতিদিন ।
ফলে “সাপ–কুমির” কৌশল বাস্তবায়ন হোক বা না হোক, পশ্চিমবঙ্গের নদী সীমান্ত আগামী বিধানসভা ভোটের আগেও বড় রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যু হয়ে উঠতে পারে এমন আঁচ ছিল। সেটা প্রবল থেকে প্রবলতর হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের লম্বা তালিকা নির্বাচন কমিশনের থেকে পাওয়া যায় নি। কিন্তু এই বর্ডার ধরে টানা কাঁটা তারের বেড়া রাজ্য সরকার জমি দিয়ে দিলেই সম্ভব নয়। তাই বিচিত্র বিকল্প ভাবনা নাড়াচাড়া শুরু হচ্ছে।