কেন ফুটবলপ্রেমীরা যুক্তরাষ্ট্রে যেতে অনাগ্রহী? বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে কি পড়বে আয়োজক শহরগুলো? বিস্তারিত পড়ুন আমাদের আজকের বিশেষ প্রতিবেদনে।
স্পোর্টস ডেস্ক ( pinnacleNews.in) : ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে ফুটবল উন্মাদনা তুঙ্গে থাকলেও পর্দার পেছনের চিত্রটা কিছুটা ভিন্ন। আমেরিকার পশ্চিম এশিয়ায় ইসরায়েলের হাত ধরে যুদ্ধে নামায় নাকি বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা আতঙ্কে আছে। মাঠের লড়াইয়ে স্টেডিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ থাকার সম্ভাবনা এখনও জিইয়ে থাকলেও, পর্যটন খাতে প্রত্যাশিত সাফল্যের দেখা মিলবে কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি বিশ্বখ্যাত ম্যাগাজিন ফোর্বস-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।
আশার চেয়ে বুকিং অনেক কম :
যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আয়োজক শহর যেমন নিউইয়র্ক সিটি, ফিলাডেলফিয়া এবং সান ফ্রান্সিসকোর হোটেল অ্যাসোসিয়েশনগুলো জানিয়েছে, বিশ্বকাপের জন্য পর্যটকদের যে বিপুল চাহিদা থাকার কথা ছিল, তার প্রতিফলন এখনো দেখা যাচ্ছে না। ফিফা শুরুতে বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ পর্যটকের আগমন এবং ৩০.৫ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক মুনাফা লাভের পূর্বাভাস দিলেও বর্তমানে চিত্রটি অনেকটা বিপরীত।
রুম বুকিং বাতিল ও ফিফার পদক্ষেপ :
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, সম্প্রতি ফিফা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর আয়োজক শহরগুলোতে সংরক্ষিত হাজার হাজার হোটেল রুমের বুকিং বাতিল করেছে। নিউইয়র্ক হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সিইও বিজয় দণ্ডপানি জানান, জুন এবং জুলাই মাসের জন্য বর্তমান বুকিং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় সমান। তিনি বলেন, “চাহিদা যে পর্যায়ে পৌঁছানোর কথা ছিল, তার ধারেকাছেও নেই। আমরা আশা করছি শেষ মুহূর্তে হয়তো পরিস্থিতি বদলাবে, কিন্তু আশা আর বাস্তবতা এক নয়।”
আন্তর্জাতিক পর্যটকের অভাব : শেষ মুহূর্তের চমক কি আসবে? ইউনিভার্সিটি অফ সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার অধ্যাপক অ্যালান ফায়াল মনে করেন, টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে চাহিদা বাড়তেও পারে। তার মতে, “যখন কোনো নির্দিষ্ট দেশ ভালো খেলতে শুরু করবে, তখন সেই দেশের সমর্থকরা শেষ মুহূর্তে বিমানে চড়ে খেলা দেখতে চলে আসতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য তাৎক্ষণিক যুক্তরাষ্ট্রে আসা এখন আর খুব একটা সহজ নয়।” আগামী মে মাসের মাঝামাঝি নাগাদ বোঝা যাবে, এই বিশ্বকাপ আমেরিকার পর্যটন খাতের জন্য আশীর্বাদ হবে, নাকি কেবল টেলিভিশনের পর্দার এক চমৎকার এক প্রদর্শনীতেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
ফিফা জানিয়েছিল, ওই দেশে হাজির হাওয়া দর্শকদের ৫০ শতাংশ হবে আন্তর্জাতিক পর্যটক। সাধারণত বিদেশি পর্যটকরা স্থানীয়দের তুলনায় চার গুণ বেশি অর্থ ব্যয় করেন। তবে বিমানের বুকিং ডেটা বলছে ভিন্ন কথা। গত বছরের তুলনায় ইউরোপ থেকে বুকিং ৫ শতাংশ কমেছে এবং এশিয়া থেকে কমেছে ৩.৬ শতাংশ। এর বড় একটি কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা জটিলতা এবং গত কয়েক বছরের ভ্রমণ নীতিকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। সঙ্গে যুদ্ধ তো এখন বড় ইস্যু।
শেষ মুহূর্তের চমক কি আসবে ?
ইউনিভার্সিটি অফ সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার অধ্যাপক অ্যালান ফায়াল মনে করেন, টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে চাহিদাও বাড়তে পারে। তার মতে, “যখন কোনো নির্দিষ্ট দেশ ভালো করতে শুরু করবে, তখন সেই দেশের সমর্থকরা শেষ মুহূর্তে বিমানে চড়ে খেলা দেখতে চলে আসতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য তাৎক্ষণিক যুক্তরাষ্ট্রে আসা খুব একটা সহজ নয়।”
আগামী মে মাসের মাঝামাঝি নাগাদ বোঝা যাবে, এই বিশ্বকাপ আমেরিকার পর্যটন খাতের জন্য আশীর্বাদ হবে নাকি কেবল টেলিভিশনের পর্দার এক চমৎকার প্রদর্শনীতেই সীমাবদ্ধ থাকবে।