...
Wednesday, March 18, 2026,

Sports Funda: IPL আপডেট – পেস সংকট’: নিয়তির খেলা নাকি ভুল পরিকল্পনা?

Total Views: 22

আইপিএল ২০২৬-যুদ্ধ শুরুর আগেই যেন কেকেআর-এর প্রধান অস্ত্রগুলো গায়েব! কী মনে হয়, এই বোলিং ইউনিট কি ইডেনে প্রতিপক্ষকে রুখতে পারবে ?

দীপঙ্কর গুহ ,এডিটর ইন চিফ ( pinnaclenews.in)

২০২৪ সালের চ্যাম্পিয়ন কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR) তাদের নতুন আইপিএল মিশন শুরু করার আগেই বড় ধরণের পেস বোলিং সংকটে পড়েছে। ইনজুরি এবং খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি এক খেতাব জয়ী দলের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। দলের অন্যতম প্রধান ভরসা হর্ষিত রানা হাঁটুর ইনজুরির কারণে আইপিএল-২০২৬ থেকে ছিটকে গেছেন। কদিন আগে বিসিসিআই-এর বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তাঁকে ক্রাচে ভর দিয়ে হাঁটতে দেখা গেছে। এটা অবশ্যই কেকেআর ভক্তদের জন্য বড় দুঃসংবাদ। অন্যদিকে, ১৮ কোটি টাকা দিয়ে কেনা লঙ্কার পেসার মথিশা পাথিরানা-ও কাফ ইনজুরির কারণে চোট সারানোর প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। পাথিরানা টুর্নামেন্টের পরের দিকে যোগ দিতে পারেন বলে আশা করা হলেও, শুরুর ম্যাচগুলোতে তাকে পাওয়া যাবে না।

বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের অনুপস্থিতি এবং প্রধান বোলারদের ইনজুরিতে কেকেআর এখন বৈভব অরোরা, উমরান মালিক এবং আকাশ দীপের মতো ভারতীয় তরুণদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে । মুস্তাফিজুরের বদলে জিম্বাবুয়ের ব্লেসিং মুজারবানিকে দলে নিলেও অভিজ্ঞতার ঘাটতি দলকে ভোগাতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অনেকেই বলতে পারেন, মুস্তাফিজ বিদায়ের পর কি ‘পেস বোলিং অভিশাপে’ পড়ল কেকেআর? ইনজুরিতে জর্জরিত এই শিবিরকে দেখে কেউ কেউ মনে করছেন ( বিশেষ করে বাংলাদেশি ক্রিকেটপ্রেমীরা) — এটি কি কেবলই দুর্ভাগ্য, নাকি ভাগ্যের কোনো নির্মম পরিহাস ? কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR) থেকে বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের বিদায়ের পর থেকেই যেন ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ওপর ‘পেস বোলিং দেবতাদের’ বাঁকা দৃষ্টি পড়েছে। ২০২৪ সালের চ্যাম্পিয়নরা নতুন সিজন শুরুর আগেই দলের মূল বোলিং শক্তি কমে যাওয়ায় দিশেহারা।

টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগেই ইনজুরির কবলে পড়েছেন দলের দুই তুরুপের তাস—হর্ষিত রানা এবং মথিশা পাথিরানা। ২০২৪ সালের শিরোপা জয়ের নায়ক হর্ষিত রানা (৪ কোটি টাকা) এবং নিলামে ১৮ কোটি টাকার বিশাল অঙ্কে কেনা লঙ্কাবাসী তারকা পাথিরানা—দুজনের কেউই এখনও পুরো ফিট নন। ধারণা করা হচ্ছে, আইপিএল ২০২৬-এর একটি বড় অংশ জুড়ে তাদের সার্ভিস পাবে না কেকেআর। মুস্তাফিজের মতো অভিজ্ঞ বোলারকে ছেড়ে দেওয়ার পর এভাবে একের পর এক ইনজুরি কেকেআর-এর স্কোয়াডের গভীরতাকে এক কঠিন পরীক্ষার মুখে ঠেলে দিয়েছে।আইপিএল ২০২৬ শুরু হওয়ার আগেই বড় ধরণের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR)।

গত ১৫ মার্চ বিসিসিআই-এর ‘নমন অ্যাওয়ার্ডস’ অনুষ্ঠানে দলের প্রধান পেসার হর্ষিত রানাকে ক্রাচে ভর দিয়ে হাঁটতে দেখা গেছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে তার হাঁটুতে একটি অস্ত্রোপচার হয়। যার ফলে আসন্ন পুরো সিজন থেকেই তাঁর ছিটকে যাওয়া এখন প্রায় নিশ্চিত । অন্যদিকে, লঙ্কান তারকা মথিশা পাথিরানাকে নিয়ে দুঃশ্চিন্তা আরও বেড়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ চলাকালীন কাফ মাসলে গুরুতর চোট পেয়ে তিনি টুর্নামেন্টের মাঝপথেই ছিটকে গিয়েছিলেন। ১৬ মার্চ পর্যন্ত পাথিরানা বা কেকেআর শিবিরের পক্ষ থেকে তাঁর বর্তমান অবস্থা নিয়ে কোনো ইতিবাচক বার্তা আসেনি। মুস্তাফিজুর রহমানের বিদায়, হর্ষিত রানার অস্ত্রোপচার এবং পাথিরানার ইনজুরি—এই তিন ধাক্কায় কেকেআর-এর পেস আক্রমণ এখন খাদের কিনারে। নিলামের দিন যে আক্রমণভাগকে শক্তিশালী মনে হচ্ছিল, মাঠের লড়াই শুরুর আগেই তা এখন ভঙ্গুর। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি এখনো হর্ষিত রানার কোনো বিকল্প ক্রিকেটারের নাম ঘোষণা করেনি।

যদি এভাবে লেখা যায়: খাদের কিনারে কেকেআর-এর বোলিং ? হর্ষিত-পাথিরানা না থাকলে কাদের ওপর ভরসা করবে কিং খানের দল ?পেস বোলিংয়ের গভীর সংকটে পড়া কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (KKR) এখন বাধ্য হয়েই তাদের রিজার্ভ বেঞ্চের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অভিজ্ঞ বোলারদের অনুপস্থিতিতে এখন দলের মূল ভরসা সুইং স্পেশালিস্ট বৈভব অরোরা। দীর্ঘ সময় পরীক্ষিত না হওয়া কার্তিক ত্যাগী। ফর্মের অভাবে থাকা উমরান মালিক এবং লাল বলের বিশেষজ্ঞ বোলার আকাশ দীপ। এই চার ভারতীয় পেসারের পাশাপাশি আছেন জিম্বাবুইয়ান পেসার ব্লেসিং মুজারবানি, যিনি সম্প্রতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে গুডবাই জানানোর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন। কাগজে-কলমে এই বোলিং ইউনিট অভিজ্ঞতায় অনেক পিছিয়ে। সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয় হলো, কেকেআর তাদের বোলিংয়ের যে বৈচিত্র্যের পেছনে বিপুল বিনিয়োগ করেছিল, তা এখন পুরোপুরি অনুপস্থিত।

মুস্তাফিজের বাঁহাতি অ্যাঙ্গেল এবং পাথিরানার স্লিঙ্গি অ্যাকশন ও ডেথ ওভারের ধার—দলের বোলিং কাঠামো তৈরিতে এই দুটি অস্ত্রই ছিল প্রধান। এই দুই অস্ত্র ছাড়া কেকেআর-এর আক্রমণভাগ এখন অনেকটাই একঘেয়ে বা ‘ওয়ান-ডাইমেনশনাল’ মনে হচ্ছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই যেন অস্ত্রাগার থেকে দুটি প্রধান অস্ত্র হারিয়ে ফেলেছে চ্যাম্পিয়নরা।

তাহলে কি বলা যেতে পারে – ইডেনের ব্যাটিং স্বর্গে দিশেহারা নেতা রাহানে ? বোলিং সংকট কাটাতে কেকেআর-এর সামনে এখন ‘ধর্মসংকট’। রানা ও পাথিরানার ইনজুরি অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানেকে এক কঠিন সমীকরণের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। প্রধান বোলারদের অনুপস্থিতিতে জিম্বাবুয়ের ব্লেসিং মুজারবানিকে মূল পেসার হিসেবে খেলানো নিশ্চিত হলেও, দ্বিতীয় পেসার স্লট নিয়ে এখনো কাটছে না ধোঁয়াশা। কার্তিক ত্যাগীর অভিজ্ঞতা, উমরান মালিকের গতি নাকি আকাশ দীপের নিয়ন্ত্রিত বোলিং—কার ওপর বাজি ধরবেন রাহানে, তা নিয়ে চলছে নানান বিশ্লেষণ। তবে চ্যালেঞ্জটা কেবল বোলিংয়ে নয়, চ্যালেঞ্জ ইডেন গার্ডেনসের পিচ নিয়েও। গত সিজনে এই মাঠ ছিল ব্যাটারদের স্বর্গরাজ্য, যেখানে ২৬১ বা ২২৩ রান তুলেও কেকেআর ম্যাচ বাঁচাতে হিমশিম খেয়েছিল। এমনকি সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটিও হারতে বসেছিল তারা, যদি না হর্ষিত রানা ডেথ ওভারে জাদুকরী সেই স্পেল করতেন।

এখন কেকেআর-এর হাতে একটিই পথ খোলা—ইডেনে মন্থর ও স্পিন সহায়ক উইকেট তৈরি করা। এতে সুনীল নারিন ও বরুণ চক্রবর্তীর সুবিধা হবে ঠিকই, কিন্তু তাতে ফিন অ্যালেন বা ক্যামেরন গ্রিনের মতো হার্ড হিটাররা বিপাকে পড়তে পারেন। অর্থাৎ, বোলিং বাঁচাতে গিয়ে ব্যাটিং শক্তি কমানোর এক বিচিত্র ‘ট্যাকটিক্যাল প্যারাডক্স’ বা কৌশলগত জটিলতায় এখন কিং খানের দল ।কেকেআর (KKR)-এর বর্তমান স্কোয়াড এবং নিলামে কেনা খেলোয়াড়দের তালিকা নিচে দেওয়া হল :

আইপিএল: কেকেআর স্কোয়াড (KKR SQUAD)নিলামে কেনা খেলোয়াড়দের তালিকা:

* ক্যামেরন গ্রিন: ২৫.২০ কোটি টাকা; * মথিশা পাথিরানা: ১৮ কোটি টাকা ; * মুস্তাফিজুর রহমান: ৯.২ কোটি টাকা (বর্তমানে রিলিজ করা হয়েছে) ; * ফিন অ্যালেন: ২ কোটি টাকা; * টিম সিফার্ট: ১.৫ কোটি টাকা; * রচিন রবীন্দ্র: ২ কোটি টাকা ; * আকাশ দীপ: ১ কোটি টাকা ; * রাহুল ত্রিপাঠি:৭৫ লক্ষ টাকা; * তেজস্বী সিং: ৩ কোটি টাকা; * সার্থক রঞ্জন: ৩০ লক্ষ টাকা ; * প্রশান্ত সোলাঙ্কি: ৩০ লক্ষ টাকা ; * কার্তিক ত্যাগী: ৩০ লক্ষ টাকা ; * দক্ষ কামরা: ৩০ লক্ষ টাকা।

রিটেইন করা খেলোয়াড়দের তালিকা (যাদের ধরে রাখা হয়েছে):

অজিঙ্কা রাহানে, অংকৃশ রঘুবংশী, অনুকূল রায়, হর্ষিত রানা, মনীশ পাণ্ডে, রমনদীপ সিং, রিংকু সিং, রোভম্যান পাওয়েল, সুনীল নারিন, উমরান মালিক, বৈভব অরোরা, বরুণ চক্রবর্তী।

Share with

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *