টেস্ট সিরিজের হেরো দল এখন নয় জিরো!
দীপঙ্কর গুহ ( এডিটর ইন চিফ) :
সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই অদ্ভুতভাবে পুরো দলটার মেজাজ মর্জি বদলে গেল। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে যে দলটির তকমা লেগে গেছিল হেরো দল – ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ জিতেই সে দল এখন হিরো দল। হতেই পারে দ্বিতীয় ম্যাচে হার। ক্রিকেটে সব সম্ভব। তাই রায়পুর ম্যাচে ৩৫৮ রান তাড়া করে ৪ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিতে পারে আফ্রিকা।
কিন্তু মানতেই হবে দলটার ব্যাটিং ব্যর্থতা রাতারাতি পাল্টে গেছে। এই বদলে যাওয়া মেজাজ – মর্জির কারিগর দুজন। একজন মুম্বাইয়ের মুম্বইয়ের মুম্বেটে রোহিত শর্মা। অন্যজন দিল্লি- দাদা বিরাট কোহলি বিরাট কোহলি। প্রথমজন এখনও নিজে সেঞ্চুরি না করতে পারলেও, রাঁচিতে প্রথম ম্যাচে বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি কেমন শর্মা। ব্যাট হাতে প্রথম বল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের এমন দাপটে শাসন করেছেন পরের ব্যাটারদের কাজ সহজ করে দিচ্ছেন। এরপর কোহলি কাহিনী! রাঁচির পর রায়পুর। পর পর দুটি সেঞ্চুরি! দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাঁর খেলা শেষ তিনটি ম্যাচেই তিনটি সেঞ্চুরি! ২০২৩ সালে আমাদের ইডেনে (১২১ বলে ১০১ রান)। ২০২৫ সালে রাঁচিতে (১২০ বলে ১৩৫ রান) । তিনদিনের মধ্যে পরের ম্যাচে এই রায়পুরে ( ৯৩ বলে ১০৩ রান) ! আর তাঁদের দল, এক ম্যাচ বাকি থাকতে সিরিজ জিতে দাপটে এগুনোর কথা, কিন্তু বোলিং ব্যর্থতা আবার হোঁচট খাওয়া।
কোহলি এখন না থাকেন দিল্লিতে , না থাকেন মুম্বইতে। আরব সাগরের তীরে নিজের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট লিখে দিয়েছেন দাদার নামে। নিজে স্ত্রী – সন্তান নিয়ে থাকেন লন্ডনে নতুন ঠিকানায়। দেশের হয়ে টেস্ট খেলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। এমনকি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটার খেলেন না। কেবল পঞ্চাশ ওভারের ওয়ানডে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলতে নিজেকে প্রস্তুত রাখেন। তাঁর প্রস্তুতি কেমন এই ম্যাচ দুটি দেখিয়ে দিয়েছে। রায়পুরে প্রায় পঞ্চাশ হাজার দর্শক দেখলেন কোহলির ৫৪ তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। ঠিক সেই সময় জিও হটস্টার ডিজিট্যাল স্ট্রিমিং দেখালো সরাসরি ম্যাচ দেখছেন সাড়ে ৯ কোটি মানুষ।
তিন নম্বরে এলেন, রোহিত ফিরতেই। তারপর নিজে দলের জন্য ইনিংসটি গড়লেন। আর রুতুরাজকে সঙ্গে নিয়ে বিপক্ষের বোলিং ফিল্ডিং ছারখার করে দিলেন। ভাঙলেন বিপক্ষকে। ৯৩ বলে কোহলির সংগ্রহ ১০২ রান। উল্টোদিকে রুতুরাজ ৮৩ বলে করলেন ১০৫ রান। দল শুরুতে ৬২ রানের দুই উইকেট খুইয়ে ফেলার পর, এই জুটি তৃতীয় উইকেটে তুলে নিল ১৯৫ রান। যা দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে এক নয়া রেকর্ড। রাঁচিতে প্রথম ম্যাচের সংগ্রহ তোকে রাহুলের দল তুলে নিল ৫ উইকেটে ৩৫৮ রান। ক্রমাগত টস হেরে গেলেও নেতা কি এল কিন্তু ৬ নম্বরে নেবে দলকে ভরসা দিয়েই চলেছেন। এই ম্যাচেও ৬৬ রান করে অপরাজিত রইলেন। পরপর দু ম্যাচে দুটি অর্ধ শতরানের ইনিংস। টেস্ট ম্যাচে যে রাহুল ওপেনার, সেই ব্যাটার ওয়ানডেতে স্লগার !!
টেস্ট সিরিজের পর রায়পুরের দ্বিতীয় ওয়ানডে ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচ আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে বোঝালো এই ভারতীয় দলের বোলারদের ভেদশক্তির অভাব প্রবল। অজিত আগারকর ভারতীয় দলে ডানহাতি মিডিয়াম পেসার হিসেবে খেলতেন। তিনি গোটা দেশে এখনও বুমরাহ–সিরাজ আর সামির পরিবর্ত তিন মূর্তি খুঁজে পেলেন না! বল হাতে ম্যাচ উইনার নেই। রাঁচিতে বরাত জোরে জয় মিলেছিল। কিন্তু বাভুমা নেতা হয়ে দলে ফিরতেই দক্ষিণ আফ্রিকা আবার জয়ের পথে! কোহলি – ঋতুরাজ – রাহুলের “দে ঘুমাকে” মেজাজ হেরে গেল! সামি, এখনও বাংলা দলের সাফল্যের আসল হোতা। আগরকর কেন ম্যাচ দেখতে হাজির থাকছেন না? সিএবি কর্তারা জোরদার দাবী তুলুক বোর্ড কর্তাদের কাছে, সামির জন্য। ২০২৩ বিশ্বকাপে আর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বিশ্বসেরা দলের এক কারিগর কেন বাতিল? জানতে চাওয়া হোক সরকারিভাবে।
এই রানার বদলে সামি, প্রসিদ কৃষ্ণার বদলে বিষ্ণোই, সুন্দরের বদলে রিঙ্কু আর কারোর বদলে অক্ষর প্যাটেলদের কি পরখ করলে হারতে হত? গুরু গম্ভীর জানেন। আর ওনার বিদেশী বোলিং কোচ মর্নি মর্কেল জানেন। এর চেয়ে নেহরা – জাহিররা থাকলে (সাপোর্ট স্টাফ হয়ে) এই পেসাররা আরও ধারালো হত হয়তো। এইবার শেষ ম্যাচেই চাপ তিনগুণ হল। সিরিজ ১-১। টেস্টের পর ওয়ান ডে সিরিজ বেহাত হলে? ব্যাটারদের পর বোলারদের দোষ বলা হবে। কোচ আর নির্বাচকদের কেন ছাড় মিলবে???
📸 বিসিসিআই/X