বুমরাহ : নায়ক হয়েও খলনায়ক!
দীপঙ্কর গুহ ( এডিটর ইন চিফ)
কলকাতা: আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ এর সেরা দল বলে কথা। দক্ষিণ আফ্রিকা। ভারতে এসে প্রথম টেস্টটি খেলতে নেমেছে ইডেনে। এসব নতুন তথ্য নয়। বিস্ময়কর তথ্যটি হল এই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দল তাদের প্রথম ইনিংস শেষ করে ফেলেছে মাত্র ১৫৯ রানে! প্রোটিয়াদের ১০ উইকেট চলে গেল নভেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহেই! শীত পড়ে নি। গ্যালারিতে একটাও শীতের পোশাক দেখলাম না। অথচ ভারতের পেসার জসপ্রীত বুমরাহ ১৪ ওভার বল করে ২৭ রানে ৫ উইকেট নিয়ে নিলেন!!! দিনের শেষে ভারতের এক ওপেনার যশস্বী আউট হয়ে ফিরে গেছেন বিপক্ষের এক পেসারের বলে। আর বুমরাহের নুতন বলের সাথী সিরাজ নিয়েছেন দুটি উইকেট। হিসাব বলছে: সারাদিনে দুই দলের ৪ জন পেসার ৩৭ ওভার বল করে ৮ উইকেট নিলেন। বাকি তিনটির দুটি ভারতের কুলদীপ ( ২/৩৬), তাও ১৪ ওভার বল করে। তাহলে এই ২২ গজ কাদের কথা ভাবছে?
প্রচার মাধ্যমে কী হৈ চৈ! ভারতীয় দলের পক্ষ থেকে নাকি ২২ গজে স্পিনারদের বিচরণক্ষেত্র হোক – এমনটাই চাওয়া হয়েছিল। বেচারা পিচ কিউরেটর সুজন মুখার্জি! কেউ কেন ভরসা রাখতে পারে না? টেস্ট তো পাঁচদিনের। তাও আবার বিশ্বের সেরা টেস্ট দলের সঙ্গে খেলছে টিম ইন্ডিয়া। দলের কোচ দিল্লির। কিন্তু কেকেআরের হয়ে সফলতম নেতা। গৌতম গম্ভীর সবচেয়ে বেশি চেনেন এই মাঠ আর এই কিউরেটরকে। তাহলে! অস্বস্তি কোথায়? উইকেট স্পোর্টিং হোক, পাঁচদিন খেলা হোক। “ আমরা লড়ে হারিয়ে দেব ওদের” — এই মানসিকতা কোথায়! সেটা থাকলে তো চার স্পিনার ( এরমধ্যে জাদেজা – সুন্দর – অক্ষর প্রকৃত অলরাউন্ডার) নামতে হয়! কী জানি!
মাঝখান থেকে একজন প্রকৃত ব্যাটসম্যান মাঠের বাইরে। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমেছেন, বাঁহাতি ওয়াশিংটন সুন্দর। জানি তিনি ধীর স্থির। রক্ষণ মজবুত। হয়তো অপর ওপেনার কে এল রাহুলের সঙ্গে দ্বিতীয় দিনের প্রথম ঘণ্টা খেলে দেওয়ার দম আছে। তিনি তো স্পিনার হয়ে বল হাতে মাত্র একটি ওভার করেছেন। তাহলে তিনি এই ম্যাচে ব্যাটসম্যান – তাই তো গম্ভীর বাবু? গম্ভীর মুখ আর “গুস্সাভরা” হাবভাব চারদিনের পর কেমন থাকে এটা দেখার।
ভারতের বুমরাহ যখন নিজের ক্যারিয়ারের ১৬ তম ৫ উইকেট শিকার করে বল হাতে সাজঘরে ফিরছেন, তখন দক্ষিণ আফ্রিকা কপাল ধরে বসে আছে নিশ্চই। সেই দলের সেরা পেসার রাবাদা যে চোটের জন্য খেলতেই পারলেন না। “কার পৌষ মাস – কার সর্বনাশ” এখনই বোঝার উপায় কিন্তু নেই। বুমরাহ – একটা উইকেট পেয়েছেন লম্বা ব্যাটারের সামনে বল হঠাৎ নীচু হয়ে যাওয়ায়। এটা প্রথমদিনের শেষ পর্বের নমুনা।
আরও আছে। দক্ষিণ আফ্রিকার দুই স্পিনার কেশব মহারাজ আর সিমোন হারমের বুঝে গেছেন, বলে পড়ে গতি বদলাচ্ছে। জানি ভারতীয় ব্যাটাররা স্পিনারদের ভালো খেলার সুনাম নিয়ে ক্রিজে যান। কেমন পারেন, ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড স্পিনাররা বুঝিয়ে দিয়ে গেছেন। কোচ গৌতম নিশ্চয়ই তার থেকে কিছু শিক্ষা নিয়ে দলের সকলকে সচেতন থাকতে বলবেন। আরও আছে। দক্ষিণ আফ্রিকার দুই স্পিনার কেশব মহারাজ আর সিমোন হারমের বুঝে গেছেন, বলে পড়ে গতি বদলাচ্ছে। জানি ভারতীয় ব্যাটাররা স্পিনারদের ভালো খেলার সুনাম নিয়ে ক্রিজে যান। কেমন পারেন, ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড স্পিনাররা বুঝিয়ে দিয়ে গেছেন। কোচ গৌতম নিশ্চয়ই তার থেকে কিছু শিক্ষা নিয়ে দলের সকলকে সচেতন থাকতে বলবেন।
কেমন ক্রিকেট দেখলো ইডেন?
মোট বাউন্ডারি দেখেছে: ২৩ টি ( ভারতের ৫টি); মোট ওভার বাউন্ডারি দেখেছে: ২ টি ( দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনার); ক্যাচ মিস: ২ টি ( ভারতের ফিল্ডিংয়ে উইকেটের পিছনে একটি, আর শর্ট স্কয়ার লেগে); রান আউট মিস: ১ টি ( ৫০-৫০, দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যাটারের) ; অর্ধ শতরান: ০ ( দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটার সবচেয়ে বেশি রান পেলেন – ৩১)
আর কেমন যেন ফাঁকা ফাঁকা ইডেন। ছুটির দিন নয়। ভারতের ব্যাটিং নয়। শনিবার মাসের তৃতীয় শনিবার। ব্যাংক খোলা। আছে ( তৃতীয়দিন) রবিবার। প্রথম দিন যদি সরকারি ঘোষণা বলে ৩১ হাজার দর্শক। তাহলে দৈনিক ৬০ টাকার টিকিটে ৬০ হাজারে সিট ভরবেই।
সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে একটা “বিতর্ক” টের পেয়ে যায় মাঠের মানুষরা। বুমরাহের একটি বল ছোবল মারে বিপক্ষের নেতা তেম্বা বাভুমার প্যাডে। এলবিডব্লু – র জোরালো আবেদন। আম্পায়ার সাড়া দেননি। ভারত রিভিউ নিতে পারতো। কিন্তু উইকেটরক্ষক পন্থ, স্লিপে থাকা গিল – রাহুলরা উইকেটের উপর এসে আলোচনায় মাতেন। স্ট্যাম্প মাইক্রোফোন গা ঝাড়া দিয়ে উঠেছিল। শোনা গেল, বুমরাহের জন্য বলা হচ্ছে – ব্যাটারের ছোট চেহারা। লাভ নেই রিভিউ নিয়ে। নিজেরদের মধ্যে হিন্দিতে আলোচনা চলছিল। বুমরাহ এরই মধ্যে বলে বসেছিলেন: “ বাহুনা ( BAHUNA) হি তো হ্যায় ইয়ে” … বেন*দ ! শেষ শব্দটি হিন্দিতে গালি। গুগল ঘেঁটে দেখা গেল – মাথায় খাটো মানুষকে পাঞ্জাবি ভাষায় ( উত্তর ভারতে) : বাউনা ( অর্থাৎ বামন) বলে। কে জানে, টিভি কমেন্ট্রিতে বসে থাকা প্রাক্তন দক্ষিণ আফ্রিকা নেতা গ্রেম স্মিথ “হিন্দি” জানেন!😄! X – হ্যান্ডেলে পোষ্ট করে দিলেন! একি অভব্য আচরণ! আইসিসির কাছে দুটি ম্যাচের জন্য এমন “বডি শামিং” ইস্যু সামনে এনে শাস্তির সুপারিশ করে বসে আছেন! আর থামেননি: তেম্বা বাভুমা। তিনিও নিজের X হ্যান্ডেলে ছবি বসিয়ে ভারতীয় দলকে কড়া ঝাঁকুনি দিতে ছাড়েননি। আরে! কোনও দল নিজেদের মধ্যে, নিজেদের ব্যবহৃত ভাষায় কথা বললে দোষ? দুই ব্যাটার অনেক দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁদের লক্ষ্য করে কিছু বলা হয়নি। তাঁরা অভিযোগ করেছে বলে শুনিনি এখনও। এতেই উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া। X হ্যান্ডেলে অনেকক্ষণ ট্রেন্ডিং “বুমরাহ”। বল হাতে, মুখের বুলিতে। মানতেই হবে – দিনের সেরা তিনিই। তাঁকে সামলাতে না পেরে বিপক্ষ তিনটি রিভিউ নিল। সবকটি বিপক্ষে গেল – আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। বুমরাহ – টপাটপ উইকেট নিতে থাকেন। ভাবা যায়, বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দল লাঞ্চে ৩/১০৫ থেকে চা বিরতিতে ৮/১৫৪! বুমবুম বুমরাহ ৯৬ টি ইনিংসে ২৩১ টি উইকেটের মালিক। আরও আছে: এই বোলারটি দেশের মাটিতে ১৫ টি টেস্টে নিয়েছেন ৫৬ টি উইকেট। আর দেশের বাইরে? ৩৬ টি ম্যাচে ১৭২টি।
বোলারদের প্রথম দফার কাজ শেষ। এবার গৌতমের গর্বের ব্যাটারদের দফা – ওয়ান শুরু।