...
Wednesday, February 4, 2026,

Cricket: চলতি সিরিজে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৫০ রানে হার কী কী শেখালো টিম ইন্ডিয়াকে ?

Total Views: 21

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ জেতা হয়ে গেছে। কিন্তু চতুর্থ ম্যাচে টসে জিতেও ৫০ রান হার টিম ইন্ডিয়ার। কোথায় গলতি?

দীপঙ্কর গুহ ( এডিটর ইন চিফ) :

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে আর ন দিন বাকি। টিভি সম্প্রচার সত্য যাদের হাতে তারা ইতিমধ্যে একটা নতুন প্রমোশন স্টার্ট করে দিয়েছে। এর আগে এই বিশ্বকাপ জিতে পরের পর্বে তা ধরে রাখা নজির কারোর নেই। এমনকি দেশের মাঠে বিশ্বকাপ জেতার নজিরও নেই। এই সব কিছু বদলে দিতে সুযোগ কি কাজে লাগাতে ভারত পারবে? উত্তর খুঁজে যেমন ভারতের ক্রিকেটপ্রেমীরা, তেমনি প্রশ্নপত্র সাজিয়ে লেটার মার্কস পাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছে টিম ইন্ডিয়া। পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম তিন ম্যাচ দাপটে জিতে সিরিজ পকেটে ভারতের। কিন্তু চতুর্থ ম্যাচ চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে গেল এই দল হারতেও পারে। এবং বড় ব্যবধানে হারতেও পারে। তাহলে নজির সৃষ্টি করার জন্য এই দলটি তৈরি? চলুন উত্তর খোঁজা যাক।

প্রথমে প্রতিপক্ষকে নিয়ে একটা আলোচনা সেরে নেওয়া যাক।

এই নিউজিল্যান্ড টিম থেকে (বিশেষ করে এই ৪র্থ ম্যাচের পারফরম্যান্স থেকে, যেখানে তারা ২১৫/৭ করে ভারতকে ৫০ রানে হারিয়েছে) অনেক কিছু শেখা যায়। বিশেষ করে T20 ক্রিকেটে কীভাবে ম্যাচ জিততে হয় এবং কীভাবে দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে হয় – সেটা কিউই দল দেখাল। এটা ছিল সিরিজে তাদের প্রথম জয় (সিরিজ ৩-১-এ ভারত এগিয়ে)। কিন্তু পারফরম্যান্সটা অনেক পজিটিভ সূত্র তাদের ধরিয়ে দিয়েছে। গৌতম গম্ভীরের টিমেরও এই ম্যাচ থেকে শিখে নেওয়া উচিত – কী পরিকল্পনা ছিল এবং সেই পরিকল্পনা কেন ব্যর্থ হল? নিউজিল্যান্ড এর সঙ্গে শেষ ম্যাচ থেকে মূল শিক্ষাগুলো (ম্যাচ রিপোর্ট পড়ে দেখা যেতে পারে, স্ট্যাটিসটিকাল অ্যানালিসিস এবং প্লেয়ার পারফরম্যান্স খতিয়ে দেখে এবং হাইলাইটস দেখে) সাজিয়ে নেওয়া যাক।

** ওপেনিং পার্টনারশিপের গুরুত্ব : টিম সিফার্ট (৬২ রান ৩৬ বলে , ৭ টি বাউন্ডারি + ৩ ওভার বাউন্ডারি ) এবং ডেভন কনওয়ে (৪৪ রান ২৩ বলে ) মিলে প্রথম ৮.২ ওভারে ১০০ রানের পার্টনারশিপ বানিয়েছিল । পাওয়ারপ্লে-তে ৭১ রান! এটা দেখায় যে আক্রমণাত্মক ওপেনিং দিয়ে বড় টোটালের বেস তৈরি করা যায়, এমনকি ভারতের মতো হোম কন্ডিশনে।

** টপ অর্ডার যদি ফ্লাইং স্টার্ট দেয়, তাহলে মিডল অর্ডারের চাপ কমে যায়: মিডল ওভারে ম্যাচের উপর কন্ট্রোল এবং লেট অ্যাক্সিলারেশন করা সহজ হয়। প্রথম ৮ ওভারে ১০০ রানের পর, মিডল ৮ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৬৩ রান করেছিল। কিন্তু শেষ ৩ ওভারে ৪৭ রান তুলে ২১৫ পৌঁছে যায় সাদা- কালো টিম । ড্যারিল মিচেলের ক্যামিও এবং মিচেল স্যান্টনারের অবদান গুরুত্বপূর্ণ।

** মিডল ওভারে উইকেট পড়লেও প্যানিক না করে ডেথ ওভারে ফিনিশারদের রাখা দরকার। বোলিং-এ উইকেট বুঝে স্পিন + পেস ব্যালেন্স + ফিল্ডিং ঠিকঠাক সাজানো খুব দরকার। মিচেল স্যান্টনার ৩/২৬ (৪ ওভার), ইশ সোধি ২ উইকেট, জ্যাকব ডাফি ২/৩৩। তারা ভারতের টপ অর্ডারকে নাড়িয়ে দিয়েছে (অভিষেক, সূর্যকুমার, সঞ্জু স্যামসন দ্রুত আউট হয়েও যায় )। ফিল্ডিংও চোস্ত ছিল।

** স্পিনাররা (স্যান্টনারের মতো) ডেথ ওভারে কন্ট্রোল করেছে , আর পেসাররা ভ্যারিয়েশন দিয়ে উইকেট নিল। ভারতের মতো ব্যাটিং লাইনআপের বিরুদ্ধে স্লোয়ার বল + কাটার কাজ করেছে। বোঝা যায়, ম্যাচের হোমওয়ার্ক ঠিকঠাক ছিল। সিরিজ হেরে গেলেও, নিজেদের উপর আত্মবিশ্বাসকে খুইয়ে ফেলেনি। আর নিজেদের পরিকল্পনাকে মাঠে ফলপ্রসু করার বিশ্বাস ছিল সকলের মধ্যে। সিরিজে ০-৩ পিছিয়ে থেকেও তারা ফাইটব্যাক করেছে। ক্যাপ্টেন স্যান্টনার/টিম বলেছে যে “গুড হ্যাবিটস রিপিট করা” এবং “প্রসেসে বিশ্বাস” জিতিয়েছে।

** একটানা হারার পরও মানসিকতা শক্ত রাখলে ঠিক কামব্যাক সম্ভব। এটাই #T20WCup -এর আগে নিজেদের ফিরে পাওয়ার উদাহরণ ছিল ।পরিবেশ আর পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়া। ভারতের নিজেদের ঘরের মাঠে ( পরের হাফে শিশির পড়ার সম্ভাবনা প্রবল থাকলেও) তারা ব্যাট আগে করে বড় টোটাল সাজিয়ে ছিল। এবং শিশিরের মধ্যে বোলিং কৌশল সঠিকভাবে করেছে।

** এই কৌশলের শিরোনাম হতে পারে, কন্ডিশন যাই হোক, প্ল্যান এ + বি সাজিয়ে রাখা দরকার। ম্যাচের সাফল্যের সারকথা : নিউজিল্যান্ড দেখিয়েছে যে T20-তে আক্রমণাত্মক স্টার্ট + স্মার্ট মিডল ওভার ম্যানেজমেন্ট + স্ট্রং ফিনিশ + ক্লিনিক্যাল বোলিং মিলে বড় ম্যাচ জেতা যায়। এটা ভারতের ওয়েক-আপ কল রূপে ধরা। আর, নিউজিল্যান্ডের জন্য এটা প্রমাণ করে যে তারা এখনও বিশ্ব ক্রিকেটে অন্যতম শক্তিশালী টিম। সময় বেশি নেই। তার আগে এই ফর্ম্যাট এর বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে এমন জয়, বাড়তি আত্ম বিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে।

এই হার থেকে ভারতের শিক্ষা কী?

  • সঞ্জু স্যামসনের জায়গায় ইশান কিষানকে খেলানো উচিত।
  • তিলক ভার্মাকে নম্বর ৩-এ অবশ্যই রাখা ।
  • অর্শদীপ সিংকে সবসময় প্লেয়িং ইলেভেনে রাখা উচিত।
  • অভিষেক শর্মা সব ম্যাচ জিতিয়ে দেবে না, তাঁর ব্যর্থতার দিনে টিমের ব্যাকআপ প্ল্যান থাকা দরকার।
  • হার্ষিত রানাকে বাদ দেওয়া দরকার।
  • শিবম দুবে খুব গুরুত্বপূর্ণ।
  • হার্দিক পান্ডিয়াকে অ্যাঙ্কর রোলে না খেলিয়ে পরে নামানো উচিত বলে মনে হয়।

ওপেনিং কম্বিনেশন নিয়ে আরও পরীক্ষা দরকার (কিষান-অভিষেক?)।হার্দিক পান্ডিয়া বা অন্য অলরাউন্ডারদের রোল কী হবে- তা নিশ্চিত করা।বোলিং-এ স্পিনার/পেসার ব্যালেন্স ঠিক রাখা, বিশেষ করে দেশের মাটিতে খেলার সময় ।

এটা পরিষ্কার, ৭ জন ব্যাটার নিয়ে জমাট ব্যাটিং থাকলেও, টপ অর্ডারের ব্যর্থ হলে – মিডল অর্ডার চাপে পড়ে যাচ্ছে।

এই একটা ম্যাচকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিৎ। এটা একটা বড় টুর্নামেন্টের আগের (T20 WC 2026) ওয়েক-আপ কল। টিম ম্যানেজমেন্টকে চুড়ান্ত দল গড়া নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। না হলে দল ছন্দ হারাতে পারে। তবে ভারতের সামগ্রিক T20 রেকর্ড এখনও খুব জোরদার ( শেষবার বিশ্ব সেরা হওয়ার পর থেকে অনেক জয় পেয়েছে)। আইসিসি রাঙ্কিংয়ে পয়লা নম্বরে ভারত । তাই এই হার থেকে শিখে জয়ের ছন্দে ফিরে আসার সম্ভাবনা প্রচুর।

Share with

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *