দীপঙ্কর গুহ ( এডিটর ইন চিফ), মুম্বই:
বারো বছর আগেও একটা বিশ্বকাপ ফাইনাল হয়েছিল এই মুম্বইতে। মেয়েদের ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৩। আর ২০২৫ সালে হল আবার সেই মেয়েদের বিশ্বকাপ ক্রিকেট। এবারও সেই মুম্বইতে ফাইনাল। দুটো ফাইনালের ছবি পরপর রেখে দেখলাম, অবাক হয়ে গেলাম। কারণ ২০১৩ তে সেই ফাইনালে ছিল না ভারত। আর ২০২৫ এর ফাইনালে মাঠে ছিল এই দেশের মেয়েরা। সেদিনের মাঠ ছিল ফাঁকা। কাক পক্ষী সাক্ষী ছিল। আর ২ নভেম্বর, নভি মুম্বই স্টেডিয়ামে কাক পক্ষী বসার জায়গা ছিল না। ঠাসা মানুষের ভিড়।

ভারতের মেয়েদের মরণপণ লড়াই দেখলো দেশবাসী। ১৪০ কোটির দেশ আবার বিশ্বসেরা! ভিভিআইপি বক্সে বসে এক বিশ্বকাপ জয়ী নেতা রোহিত শর্মা দেখলেন। একই সারিতে বসা বিশ্বকাপ জয়ী যোদ্ধা সচিন তেন্ডুলকর দেখলেন। আর এইসময় বিশ্ব ক্রীড়া সংস্থার চেয়ারম্যান , এক ভারতীয় জয় শাহ উপভোগ করলেন। আমাদের মেয়েরা হয়েছে বিশ্ব সেরা। আমরা গর্বিত। আগে দুবার বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠেছিলেন মিতালি – ঝুলানরা। হয়নি সেই দুইবার। এই সফল দলের অধিনায়িকা – সহকারী হরমনপ্রীত – স্মিতা মাঠের মাঝে টেনে আনলেন দুই প্রক্তনীকে। মিতালি – ঝুলনকে ট্রফি ছুঁইয়ে বলেছেন, “ দিদি, ইয়ে আপকি লিয়ে।”

আবেগ ছুঁয়ে গেছে ভারতবাসীর হৃদয়। ২০১৭ সালের বিশ্বকাপ জয় গোটা ভারতীয় ক্রিকেটকে ১৯৮৩ সালের পর আরো একবার বদলে দিল। ভারতীয় ক্রিকেটের মেয়েদের মনের উদগ্র-বাসনা চাগার দিয়ে উঠেছিল। “আমরাও পারি” এই বীজমন্ত্র প্রতিটি প্রমীলা ক্রিকেটারের মনে। না হলে, দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতে থাকা শেফালি ভার্মা এভাবে করে দেখাতে পারে! চূড়ান্ত দলেই ছিল না। ছিল স্ট্যান্ড বাই। ডাক পেয়ে সেমি ফাইনালে সফল। ফাইনালে ম্যাচের নায়িকা। শুরুতে দাপুটে ব্যাটিং আর হাতে বল পেতেই দুই উইকেট! আত্মবিশ্বাসের ফসল। দীপ্তি শর্মা – ব্যাট হাতে এক পাক্কা অলরাউন্ডার। আর টুর্নামেন্ট সেরা ফাইনালে ৫ উইকেট নিয়ে ২০ র শিকারী!

বোর্ড সচিব দেবজিৎ শইকিয়া বলছিলেন, “জয় শাহ, ভারতীয় বোর্ডের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বদলে দিয়েছিলেন দেশের মেয়েদের ক্রিকেটের খোলনলচে। একমাস আগে আইসিসি চেয়ারম্যান হয়ে বিশ্বকাপের প্রাইজমানি ৩০০% বাড়িয়ে দিয়েছেন। মেয়েদের সাফল্যে ভারতীয় বোর্ড ৫১ কোটি টাকা দেবে গোটা চ্যাম্পিয়ন দলকে।” মেয়েদের প্রিমিয়ার লিগ গোটা বিশ্বকে ভারতের মাটিতে টেনে এনেছে। ছেলেদের সমান টাকা মেয়ে ক্রিকেটারদের। বিশ্বসেরা তো হল!