শেষ বিশ্বকাপের মঞ্চে বিশ্বের দুই তারকা
দীপঙ্কর গুহ ( এডিটর ইন চিফ) :
একমাস আগের এক সাক্ষাৎকারে পিয়ার্স মর্গানকে ক্রিশ্চিয়ান রোনালদো এই প্রশ্ন করে বসেছিলেন। “ লিও মেসি আসার আগে কটা বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনা জিতেছিল?”
ইতিহাস কিংবা পরিসংখ্যান বলছে, অতীত কিছুই জেতায় না। বর্তমানের পারফর্মেন্স জেতায়। সাফল্য এনে দেয়।

ইতালির কথা ভাবুন। ৪ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন – শেষ দুটি বিশ্বকাপে মূল পর্বের টুর্নামেন্টে খেলার যোগ্যতাই অর্জন করতে পারেনি। এবার আছে। কে গ্রুপে ব্রাজিলের সঙ্গে আছে।
জার্মানি। এই দেশও চারবারের বিশ্বসেরা দল। ফেলে আসা দুটো বিশ্বকাপে প্রথম পর্বের বাধাই টপকাতে পারে নি। এবার এফ গ্রুপে আছে উরুগুয়ের সঙ্গে।
ভাবুন উরুগুয়ের কথা। অতীতে কারা সব খেলে গেছেন! উজ্জ্বল নক্ষত্র সব। দুই বারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন। শেষবার বিশ্বসেরা হয়েছিল এই দেশ সেই ১৯৫০ সালে! ৭৫ বছর হতে চলেছে, সেই পুরনো গৌরব ফেরাতে পারেনি লাতিন আমেরিকার এই দল। এবার কী করে সেটাই দেখার।
এসব লেখার কারণ একটাই, অতীতের কথা শুনিয়ে বর্তমান চলে না। সাফল্যের অতীত কখনও হলফ করে বলতে পারে না – আজও সাফল্য আসবে। তাই, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বলা কথা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সাফল্যের ইতিহাস আঁকড়ে বর্তমানের সাফল্য আসেনা। তাই তো মারাদোনা দেশকে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ দেওয়ার ৩৬ বছর পর মেসি কোম্পানি আগের বিশ্বকাপ জিতেছিল।
আজকের দিনে ফুটবলে দেশের অতীতের সাফল্য কোনও প্রভাব ফেলে না। সাফল্যের একটাই হাতিয়ার। এখন – এইদিন আপনি কেমন ফর্মে আছেন, সেদিনের যা সব অতীত। তাই তো মেসি কাতার বিশ্বকাপে শেষ হাসি হেসেছিলেন।

সেই মেসি #espn চ্যানেলে এক সাক্ষাৎকারে বলে দিয়েছেন, “ জানিনা ২০২৬ বিশ্বকাপে আমি মাঠে নামতে পারবো কিনা, কিন্তু মাঠের কোথাও তো থাকবো। মন চায় মাঠের ভিতর থাকতে। আমি রেকর্ডের কথা ভেবে মাঠে নামি না। নামি নি। নিজে কটা গোল করলাম, আমি কটা গোল করলাম – এসব পরিসংখ্যান নিয়ে আমার কোনও মাথাব্যথা নেই। আমি বল পায়ে মনের আনন্দে খেলি।”
মেসি নিজেই বলে বসেছেন, তিনি অনিশ্চিত। রোনালদো আছেন পর্তুগালের সঙ্গে। নেইমার আছেন ব্রাজিলের সঙ্গে। এমবাপে – ফ্রান্সের সঙ্গে আছেন। শুক্রবার বিশ্বকাপের খেলার সূচী প্রকাশ পেয়ে গেলে বোঝা যাবে, খেতাব জয়ের দৌড় কে কতো কঠিন লড়াই করে এগুবে।
📸 : X / ESPN