পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি মাত্র ১৫% অবশিষ্ট! এমন খবরে দেশজুড়ে উদ্বেগ। অ্যাডিয়ালা জেলে চিকিৎসা উপেক্ষার অভিযোগের পর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মেডিকেল টিম গঠন হয়েছে।
ডিজিটাল ডেস্ক ( Pinnaclenews.in) :
রাওয়ালপিন্ডির অ্যাডিয়ালা জেলে বন্দী ইমরান খানের (৭৩) স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁর আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট-নিযুক্ত অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের বন্ধু) ব্যারিস্টার সালমান সাফদারের রিপোর্ট অনুযায়ী, ডান চোখে “right central retinal vein occlusion” নামক সমস্যা প্রকট। সেই কারণে দৃষ্টিশক্তি নাকি প্রায় ৮৫% খুইয়ে ফেলেছেন। চলতি মাসের ৬ তারিখের মেডিকেল রিপোর্টে এটা নিশ্চিত হয়েছে।ইমরান খানের পক্ষে দাবি, গত অক্টোবর থেকে সমস্যা শুরু হলেও জেল কর্তৃপক্ষ ৩-৪ মাস এই সমস্যাকে পাত্তাই দেয়নি । জানুয়ারির শেষে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (PIMS)-এ একবার সার্জারি হয়, রক্ত জমাট বাঁধা পরিস্কার করতে। এখন দ্বিতীয় সার্জারি বা বিশেষ চিকিৎসার জরুরি প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ ও সরকারের পদক্ষেপ: ১২ ফেব্রুয়ারি রিপোর্ট জমা হতেই সুপ্রিম কোর্ট মেডিকেল টিম গঠনের নির্দেশ দেয়। এবং ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পরীক্ষা ও ছেলেদের সঙ্গে ফোন কথা বলানোর আদেশ দেয়। ১৫ ফেব্রুয়ারি – রবিবার জেলে ৫ জন ডাক্তারের টিম ঘণ্টাখানেক তাঁকে পরীক্ষা করে। পরে অ্যাম্বুলেন্স এসে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পরে । সরকারের পক্ষ থেকে (পার্লামেন্টারি অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরীসহ অনেকেই ) জানিয়েছেন, “মানবিক কারণে” হাসপাতালে স্থানান্তর ও মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হচ্ছে। কিছু পাকিস্তানের স্থানীয় রিপোর্টে বলা হয়েছে, রাওয়ালপিন্ডির আল-শিফা আই ট্রাস্ট হাসপাতালে রুম রিজার্ভ করা হয়েছে তাঁর জন্য। অন্যদিকে, পিটিআই অভিযোগ করছে যে পরিবার বা ব্যক্তিগত ডাক্তারকে না জানিয়ে গোপনে এসব হচ্ছে। ইমরানের জীবনের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে এসব । এই মেডিকেল বোর্ড মানছে না ইমরানের শিবির।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: পিটিআই ও সহযোগী দলগুলো পার্লামেন্ট হাউসের সামনে এই নিয়ে অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে , যা তৃতীয় দিনে পড়েছে । এতদিন দাবি ছিল —প্রথমে সঠিক চিকিৎসা, পরে সরাসরি মুক্তি। দেশের প্রাক্তন ক্রিকেট তারকা ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনিস সমেত অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ইমরানের সঠিক চিকিৎসার দাবি তুলেছেন।
ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে অ্যাডিয়ালা জেলে আছেন। একাধিক মামলায় (দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় উপহার রাখা ইত্যাদি) সাজাপ্রাপ্ত। যদিও তিনি সব অভিযোগ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করেন। দীর্ঘদিন জেলে থাকায় স্বাস্থ্য আরও খারাপ হয়েছে বলে অভিযোগ।
রাওয়ালপিন্ডির পরিস্থিতি এখনও উত্তাল। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও , পিটিআই মুক্তির দাবিতে অটল। পাকিস্তানের রাজনীতিতে এই ঘটনা নতুন মোড় আনতে পারে – এমনটা অভিজ্ঞ মহলের মত।