টেস্ট বিপর্যয়ের পর একদিনের সিরিজে জয়
দীপঙ্কর গুহ ( এডিটর ইন চিফ) :
মাঠে আর মাঠের বাইরে হাসিটাই উবে গিয়েছিল। টেস্ট সিরিজের হার, টিম ইন্ডিয়ার বডি ল্যাঙ্গুয়েজে “হেরো লেখা প্ল্যাকার্ড” ঝুলিয়ে দিয়েছিল। প্রায় চল্লিশ এর কাছে পৌঁছে যাওয়া দুই চরিত্র এসে জুটলো ওয়ান ডে সিরিজে। একজন ইংল্যান্ড থেকে। অন্যজন মুম্বই থেকে। রাঁচিতে শুরু, বিশাখাপত্তনমে শেষ। কিছু বছর পর হয়তো তাঁদের “চালশে দাদা” বলতে হতে পারে। কিন্তু মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে তিনটে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে দাদাগিরি দেখিয়ে গেল। বিরাট কোহলি। দুটি দেশের মধ্যে এতদিনের যে ওয়ানডে সিরিজ হয়েছে, কোহলি এ বাড়ি সিরিজ সেরা হলেন – সেরা পারফরমেন্স করে। ভারত ২-১ ম্যাচে সিরিজ জিতেছে। আর রোহিত শর্মা দুটি অর্ধশত রানের ইনিংস খেললেন সিরিজে । এটা বলা ভালো – মাঠে আর মাঠের বাইরে দলটার বড় দাদা হয়ে চালিয়ে গেলেন। ম্যাচের শেষে বিভিন্ন ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে। কয়েক সেকেন্ডের একটা ফুটেজ বেশি নজর কাড়লো । মাঠের ধারে রোহিত শর্মা ডান হাত দিয়ে বুকে টেনে নিচ্ছেন নেতা রাহুলকে। আর বাঁহাত দিয়ে শরীর মিলিয়ে নিচ্ছেন বিরাটের সঙ্গে । আর কোচ গৌতম হয়তো মুখে হাসি ঝুলিয়ে রাখলেন, মনকে গম্ভীর রেখে।
কিন্তু মানতেই হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে দলটার কেমিস্ট্রি তাই বদলে দিয়ে গেল রো-কো। মাত্র তিনটি ম্যাচ খেললো ওঁরা। আইপিএল খেললেও দেশের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে আর খেলেন না ওঁরা। অর্থাৎ ২০২৫ – এর জাতীয় দলের গেঞ্জি পরে রোহিত আর কোহলিকে যা দেখার- তা দেখা হয়ে গেল। কী দেখলাম? মন ভরে গেছে। বারবার মনে হচ্ছে কেন ওঁরা সামনের পাঁচটা কুড়ি – কুড়ি ওভারের ম্যাচগুলো খেলবে না ! আবার অপেক্ষায় দিনগুলো শুরু। যদিও ঘরোয়া ক্রিকেটে রোহিত আর কোহলি দুজনেই খেলবেন বলে জানা যাচ্ছে। বিজয় হাজারে ট্রফিতে খেলবেন ওঁরা। কোন সন্দেহ নেই। রো-কো দের টানে সেইসব ম্যাচে ক্রিকেটপ্রেমীদের ভিড় উপচে পড়বে।
রাঁচিতে জিত। রায়পুরে হার। দুটিতেই টসে হার মানতে হয়েছিল ভারতের নেতা কে এল রাহুলকে। নভেম্বর টপকে ডিসেম্বর মাসে ভারতের যেকোনো জায়গায় ডে-নাইট ম্যাচে খেলা হলেই “শিশির” সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তবুও রাঁচিতে পরে বল করেও ম্যাচ জেতা গেছিল। কারণ কোহলি-রোহিত-রাহুলের ব্যাটিং। বোলাররা বল নিয়ে কোন কারিকুরি দেখাতে পারেনি। রায়পুরে আবার সেই কোহলি আর সঙ্গে ঋতুরাজ। জোড়া সেঞ্চুরি বাঁচাতে পারেনি দলকে। শিশির – আর টিম ইন্ডিয়ার বোলারদের লড়াইয়ে হার মানেন পেসার – স্পিনাররা। বিশাখাপত্তনমে একটা টস জয় সিরিজটাও জিতিয়ে দিল দলকে – এটা বলা খুব একটা ভুল হবেনা। ম্যাচের শেষে ভারতীয় দলের বাঁ হাতি পেসার অর্শদীপ একটি ছোট্ট ভিডিও ক্লিপ নিজের ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন। নিমেষে তা ভাইরাল! কোহলিকে সেখানে জিজ্ঞেসা করছেন : “সেঞ্চুরি হাতছাড়া হয়ে গেল তো!” রসিক বিরাটের পাঞ্জাবি ভাষায় উত্তর: “ টস না জিতলে তোমারই বেরিয়ে যেত”🤣। সত্যিই তাই। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা শিশিরে বলের গ্রিপই মজবুত করতে হিমশিম খেল। ২৭১ রানের গন্ডি ৬১ বল বাকি থাকতে কোহলি – যশস্বী টপকে গেলেন। রোহিত সত্তরের ঘরে গিয়েও সেঞ্চুরি পেলেন না। ১০ উইকেটে জয় আসতে পারতো। এল ৯ উইকেটে। শুরু থেকে সঙ্গী ওপেনার জয়সওয়ালকে সামলে রাখলেন যেভাবে, তাতে বোঝাই যায় – তিনি শর্মা। তিনিই দলের বড় দাদা।
ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে রোহিত শর্মা হলেন চতুর্থ ব্যাটার যিনি এই ম্যাচের করা রানে ওয়ান ডেতে ২০,০০০ রানের গন্ডি টপকে গেলেন। আগের তিনজন: সচিন তেন্ডুলকর। রাহুল দ্রাবিড়। বিরাট কোহলি। আর যশস্বী যখন সেঞ্চুরিটি সারলেন, তখন ক্রিজে কোহলি। একরান নিতে নিতে দৌড়ের মধ্যেই নিজের ব্যাটের পিছনে গ্লাভস পরা হাতেই ঠুকে ঠুকে সাবাশি দিলেন। ভীষণ চাপে ছিলেন ভারতের এই প্রতিভাবান ওপেনারটি। রান পাচ্ছিলেন না। পেলেন তো পেলেন এক্কেবারে অপরাজিত সেঞ্চুরি! ক্রিজে সাহস জুগিয়ে গেলেন সেই রো – কো!
গিল সুস্থ। টি টোয়েন্টি সিরিজে দলে ফিরেছেন। আছে অভিষেক শর্মা। পরে আছেন শ্রেয়াস আয়ার। তিনমাস পর দেশের মাটিতে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, সংশয়ের মুখে চলে গিয়েছিল যশস্বীর জোশ। এই একটা সেঞ্চুরি তাঁকে আত্ম বিশ্বাসের ট্যাংকে আরও অক্সিজেন ভরে দিল। শুধু কী তাই? দেশের হয়ে ৩ টি ফরম্যাটেই সেঞ্চুরি ক্লাবের মেম্বার হয়ে গেলেন। সেখানে আছেন: সুরেশ রায়না, রোহিত শর্মা, কে এল রাহুল, বিরাট কোহলি আর শুভমন গিল। আর তিনি।
পুরস্কার মঞ্চে কোহলি বললেন, এইভাবে আরও ৩-৪ বছর খেলে যাওয়া হয়তো আর হবে না। কিন্তু যখনই নামবেন এভাবেই খেলে যেতে চান। দক্ষতা – আত্ম বিশ্বাস দিয়ে দলের সাফল্যের কারিগর হতে চান।
ওঁরা সাফল্যের কারিগর হোন, কিংবা জাদুকর – যশস্বী – গিল – কুলদীপরা যে আশেপাশে রো – কো কেই চায়, রেজাল্ট দেখিয়ে দিয়ে গেল।