যে ভাবে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে সরে যেতে হল, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড কি ভারতে ( কলকাতায়) বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে চাইবে? নাকি পাকিস্তানের মতো তারাও শ্রীলঙ্কায় খেলবে!
দীপঙ্কর গুহ ( এডিটর ইন চিফ)
মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল অপশনে জায়গা কারা দিয়েছিল? বিসিসিআই। অর্থাৎ ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের কর্তারা। অপশনে যখন তাঁকে লিস্টে রাখা হয়েছিল, তখন তাঁর নামের পাশে বাংলাদেশ লেখা ছিল। আজ যখন বিসিসিআই কলকাতা নাইট রাইডার্স কর্তাদের নির্দেশ দিচ্ছেন এই মোস্তাফিজুরকে ছেড়ে দিতে- তখনো তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেটার।
https://www.facebook.com/share/p/17ZKx53e4v
আজ আরও স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশের বাইরে যাবে না। কেন্দ্রীয় সরকার এখনো নিজেদের অবস্থান বাংলাদেশ ইস্যুতে স্পষ্ট করেনি। অথচ আগামী এপ্রিলের আইপিএলে বাংলাদেশী ক্রিকেটার আর রাখা যাবে না – এটা বোর্ডকে নির্দেশ দিয়ে দেওয়ার পর স্পষ্ট হচ্ছে যে, ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড কাদের দ্বারা পরিচালিত। এটা ঠিক আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোন দেশের ইস্যুতে কোন সিদ্ধান্ত ভারতীয় বোর্ডের হাতে থাকে না। অবশ্যই কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ মেনেই তাদের চলতে হয়। আশা ছিল এপ্রিল মাসে যে টুর্নামেন্ট হবে তার জন্য ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের শীর্ষ কর্তারা কেন্দ্রীয় সরকারের সেই সব মন্ত্রকের কর্তা ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে হয়তো একটা সমাধানের রাস্তা খুঁজবে। কিন্তু বিভিন্ন সূত্র থেকে যা জানা যাচ্ছে, এই ধরনের কোন প্রচেষ্টায় ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড অন্তত এই বাংলাদেশ ক্রিকেটারের জন্য করেনি। উল্টে অপেক্ষা করেছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার বকলমে বিজেপি পরিচালিত ভোটের বোর্ড কর্তাদের কি নির্দেশ দেয়।
এখন স্পষ্ট করেই বলা যায়, আইপিএলের দল থেকে রাজনৈতিক কারণে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। ভারতীয় প্রাক্তন জাতীয় ক্রিকেটার আকাশ চোপড়া বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন । তিনি মোস্তাফিজকে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে তুলনা করেছেন এবং বলেছেন, ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগতভাবে দোষ নেই, কিন্তু দেশের পরিস্থিতি কখনো কখনো তাঁদের উপর প্রভাব ফেলে। যেমন ২০০৪ সাল থেকে পাক ক্রিকেটারদের উপর বহাল আছে।
মোস্তাফিজকে কলকাতা নাইট রাইডার্স দলে নেওয়া নিয়েছিল আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ টাকায়। এই রেকর্ড মূল্যের নিলামের পর থেকেই কেকেআর ও দলের মালিক শাহরুখ খানকে রাজনৈতিক চাপ ও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। কিং খান বা তার সাপোর্ট স্টাফ বা টিম ম্যানেজমেন্ট এর এখানে কোন দোষই নেই। অকশনের লিস্টে নাম ছিল বলেই দলে নেওয়া হয়েছিল। যখন এই অকশন চলছিল সেই সময়ও কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ অশান্তির ছিল। এখন তার মাত্রা চড়েছে।
পরের মাসেই তো ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ডুপ্লিকে বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচ পশ্চিমবঙ্গের ইডেনে। বাংলাদেশ খেলতে আসবে তো? নাকি বাংলাদেশের সব ম্যাচ আবার শ্রীলঙ্কায় নিয়ে যেতে হবে? এখনতো বিসিসিআই আর আইসিসি হাতে হাত ধরে চলে। ভারতের পররাষ্ট্রনীতি আজ প্রতিক্ষেত্রে ঠোক্কর খাচ্ছে এটা প্রমাণিত। তার প্রভাব ক্রিকেটেও যে এন্তার পড়ছে এসব ঘটনা তারই প্রমাণ।