দুইদিন ২৬ উইকেট – হোম গ্রাউন্ডে !
:দীপঙ্কর গুহ (এডিটর ইন চিফ) :
কলকাতা : টেস্ট ম্যাচ চলছে। ইডেনে ছিল শনিবার ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিন। দিনের শেষে তৃতীয় ইনিংসটি প্রায় শেষের মুখে। রবিবার সকালে ম্যাচের তৃতীয় দিনে দক্ষিণ আফ্রিকা যখন ব্যাট করতে নামবে – তখন ম্যাচে ৬৩ রানে এগিয়ে শুরু করবে। তিনটি উইকেট ওদের সম্বল। বিচিত্র টেস্ট ম্যাচ চলছে ইডেনে! দু দল মিলিয়ে প্রথম দুইদিন খোয়াতে দেখলাম ১১টি উইকেট। আর দ্বিতীয় দিন দেখলাম ১৫ টি উইকেট। মোট ২৬ টি উইকেট দুই দিনে!
https://www.facebook.com/share/p/17Q4BwMzvz/
কোনো দলের কোন ব্যাটসম্যান ৫০ রানের গন্ডি টপকাতে পারলো না। অথচ, ক্রিকেটপ্রেমী কলকাতার ভীড় বেড়েই চলেছে। বরাবরই, টেস্ট ম্যাচের তৃতীয় দিনের টিকিটের চাহিদা থাকে তুঙ্গে। দুই দলের ব্যাটিং- বোলিং দেখার সম্ভাবনা প্রবল থাকে। রবিবার তো দেশের জয় দেখার শতকরা ৯৯ ভাগ সুযোগ।
এই টেস্ট ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রাক্তন অধিনায়ক রিচি রিচার্ডসন – ম্যাচ রেফারি। ইডেনের ২২ গজ যে আদর্শ স্পোর্টিং উইকেট নয় – তা নিয়ে দু এক লাইন কি নিজে রিপোর্টে লিখবেন? ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড এর প্রাক্তন বড় কর্তা এখন আইসিসির চেয়ারম্যান। এই ভুল আজকের দিনে কোনও ম্যাচ রেফারি করবে! ম্যাচ পোস্টিং তো চাই।

আসলে, দায়ী একটা সিস্টেম। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপে ভারত এখন তিন নম্বরে। এই দুটি টেস্টের সিরিজ ২-০ তে জিতলে, অনেকটাই এগিয়ে থাকা যাবে। তাই উইকেটে জল দেওয়া বন্ধ “করিয়ে” কাজের কাজটি গিল – গম্ভীররা করিয়ে নিচ্ছেন। তাই কি লজ্জা থেকে নিজেকে সরাতে নেতা শুভমনের ঘাড়ের পেশিতে চোট! একটা বাউন্ডারির বাইরে বল পাঠিয়েও- তিনি নিজেই মাঠের বাইরে! তাঁর বদলে, পন্থ নেতাগিরি সারছেন। ভালোই সারছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ১৫৯ রান টপকে যে ভারত ১৮৯ রান করে থেমেছে – তাতে পন্থের অবদান অনেকটাই। নিজে যখন ২৪ বলে চার – ছক্কা হাঁকিয়ে ২৭ রানে আউট হলেন, দল তখন ১৩২ রানে পৌঁছে গেছে। তার আগে, চোটে কাবু নেতা গিল, কোচ গৌতমের ঘরে। এরপর সেই অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজার ( ৪৫ বলে ২৭ রান) কাঁধে চেপে বিপক্ষের রানের গন্ডি টপকে যাওয়া। জাদেজা ৪০০০ টেস্ট রান আর ৩০০ উইকেট নিয়ে গিয়ে বসলেন বোথাম – কপিল – ভিত্তোরিদের পাশে।
জাদেজা দলের ১৭১ রানে ফিরলেন। তারপর বাকি ৪ উইকেটে জোটে আরও ১৮ টি রান। আর বিপক্ষের থেকে ৩০ রানে এগিয়ে থাকা। তারপর বল হাতে খেল শুরু। চার স্পিনারের তিনজনকে কাজে লাগালেন পার্ট টাইম ক্যাপ্টেন পন্থ। উইকেটের হাল বুঝে কোনও বোলারকেই ৩ ওভারের বেশি স্পেল করলেনই না। নুতন বল হাতেই পেলেন না, প্রথম ইনিংসে ২ উইকেট পাওয়া সিরাজ! সবে দ্বিতীয় দিন! দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটাররা দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৫ ওভার খেলেছে। তারমধ্যে প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট পাওয়া বুমরাহই করলেন মাত্র ৬ ওভার। ঝুলি এখনও উইকেট শূন্য। নুতন বল হাতে পেয়ে স্পিনার অক্ষর প্যাটেল একটি উইকেট নিয়েছেন। বাকি ৬ এর ভাগীদার জাদেজা ( ১৩-৩-২৯-৪) আর ২ এর মালিক কুলদীপ যাদব ( ৫-১-১২-২)। জাদেজা তাঁর দেশের মাটিতে ২৫০ টেস্ট উইকেট পেলেন এই চারের মধ্যে। ভাবা যায়, কুলদীপ প্রথম ওভারে উইকেট পেলেও – বিশ্রাম কোটায় চলে যান! দুটি উইকেট পেতে তাঁকে নেতা তিন দফায় আক্রমণে আনলেন! আরেক স্পিনার ওয়াসিংটন সুন্দর তো ম্যাচে ব্যাটার। দিনের শুরুতে তিনি ( ৮২ বলে ২৯ রান) আর কে এল রাহুল ( ১১৯ বলে ৩৯ রান) মিলে দ্বিতীয় উইকেটে যে ৫৭ রান তুলেছেন – সেটাই ম্যাচের সেরা পার্টনারশিপ।
দলে তিনজন উইকেটকিপার খেলছেন। রাহুল দলের সেরা রান সংগ্রাহক। দ্বিতীয় পন্থ। আর জুরেল ( ১৪ বলে ১৪ রান) ডবল ডিজিটে নাম রাখতে পেরেছেন। অক্ষর (৪৫ বলে ১৬ রান) – ব্যাটেও কিছু দিয়েছেন। লক্ষ্যের বিষয়, দক্ষিণ আফ্রিকা দলের অফ স্পিনার হারমের ( ১৫.২-৪-৩০-৪) আর আরেক স্পিনার মহারাজ( ১৬-১-৬৬-১) মিলেই ৫ উইকেট। দুই স্পিনারের বদলে চার স্পিনার খেলালে?
কাগজ – পেন নিয়ে লিখে দেখলাম, টেস্ট ম্যাচে দুই দিনে দুই দলের পেসাররা এখনও পর্যন্ত ৬৩ ওভার বল করেছে। পেয়েছে মোট : ১১ উইকেট। আর স্পিনাররা প্রায় ৯০ ওভার বল করে তুলে নিয়েছে ১৫ উইকেট! স্পোর্টিং উইকেট এর নাম! হিসেব করে দেখুন, ১৫৩ ওভারে এসেছে – ৪৪১ রান। অর্থাৎ ওভার পিছু : প্রায় ২. ৮ রান। টেস্ট ম্যাচের জন্য মন্দ কী!
এটা যাঁরা বলবেন, তাঁদের দিকেও হয়তো চোখ তুলে তাকাতে চাইবেন না – এই ম্যাচের এক কুশিলব। কিউরেটর সুজন মুখার্জী। এমন ২২ গজের ইডেন হয়তো তিনিও দিতে চাননি। দেশের কথা ভেবে কোটি কোটি টাকার ক্রিকেটার আর কোচদের কথায় কাজ সাজিয়ে দিয়েছেন। এখন বাভুমারা ১২৫ রানের লিড নিয়ে যদি আমাদের বাবুদের চতুর্থ ইনিংসে কালঘাম ছুটিয়ে দেয়? সেটা দেখতে তাই রবিবার ইডেন টানবে অনেককে।
2 Responses
টেস্ট ক্রিকেট কে বলি দেওয়া হলো।
শুধু জিততেই হবে ,এই মানসিকতায় টেস্ট ক্রিকেট স্রেফ শেষ হয়ে যাবে।
দুদিনে প্রায় ৭০ হাজার দর্শক, তৃতীয় দিনে খেলা লাঞ্চ অবধি গড়ালেও অনেক। পাঁচ বছর বাদে ইডেনে টেস্ট ,মানুষের ঢল ,তবুও তাকে ধোঁকা দিতে হলো।
CAB র লজ্জা।
আজকের সমাজের এটা একমাত্র মন্ত্র: জয় হো। যেন তেন প্রকারেন।