সিরিজ বাঁচানো অসম্ভব গম্ভীরদের
দীপঙ্কর গুহ ( এডিটর ইন চিফ)
তাহলে মাত্র দুদিনেও টেস্ট ম্যাচ শেষ হয়। ইডেনে ভারত আর দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে প্রথম টেস্ট শেষ হয়েছিল পৌনে তিন দিনে। হিসেব করলে দুদিনের বেশি সময়ের পর। আর অ্যাসেজ সিরিজে? প্রথম টেস্ট দু দিনেই শেষ অর্থাৎ ৪০টা উইকেট পড়ে গেল! অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইংল্যান্ডের এমন টেস্ট বিপর্যয় সেই শেষবার ১৯২১ সালে হয়েছিল। যাক অস্ট্রেলিয়া ইংল্যান্ড সিরিজের প্রথম টেস্টটি এত কম সময়ের ব্যবধানে হয়ে গেল যে ইডেনে মাত্র আট সেশনের খেলায় তৈরি হওয়া সমালোচনার পাহাড় কোথাও যেন ধসে গেল বলে মনে হচ্ছে। বিশ্ব ক্রিকেট এটাতো বলতেই পারে অস্ট্রেলিয়া ইংল্যান্ড যদি দু’দিনে তাদের টেস্ট ম্যাচ শেষ হয়ে যায় তাহলে ভারত আর বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম টেস্ট ইডেনে শেষ হয়েছে কম দিনে …তো কি যায় আসে?
তবে এটা মানতে হবে অ্যাসেজ সিরিজের প্রথম টেস্টের উইকেট কিন্তু ব্যাটারদের জন্য ভেবে বানানো হয়নি। ইংল্যান্ড ১০৫ রানের নয় উইকেট খুঁইয়ে বসেছিল। আর অজিরা প্রথম ই শেষ করেছিল ১৩২ রানে। এমনটা ঘটে যাওয়ার সাড়ে চার ঘন্টার মধ্যে ইংল্যান্ডকে হারতে হল আট উইকেটে! এর মধ্যে অবশ্য চা – পান বিরতির কুড়ি মিনিট ধরা আছে।
ক্রিকেট কী ঘোর অনিশ্চয়তার খেলা-তাই না? ম্যাচের শেষ সেশনে ইংল্যান্ড যখন খেলতে নামছে তখন কিন্তু ম্যাচ ঢলে আছে এই ব্রিটিশ দলের দিকেই। উইকেটের কথা মাথায় রেখে অস্ট্রেলিয়ার ২০৫ রান করে জেতাটা কেউ ভাবতেই পারছিলেন না। ঠিক ২৮.৫ ওভার পর! কাজ শেষ। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচটা জিতে নিয়ে চলে গেল!
দলের দায়িত্ব যবে থেকে ব্র্যান্ডন ম্যাকুলাম আর বেন স্টোক মিলে সামলাচ্ছেন, এমন যন্ত্রণাদায়ক পরাজয় এই দুজনে কখনও মুখোমুখি হননি। সেই ২০২৩ সাল ভাবুন। ইংল্যান্ড নিউজিল্যান্ডকে ফলোআন করালো। সেই বছরই লড়াইয়ে ইংল্যান্ড প্রথম দিনই ইজবাস স্টনে ডিক্লেয়ার করে দিল। আর না থালি লিওন লর্ডসে লর্ড হয়ে উঠলো। ইংল্যান্ড হেরে গেল।
ঠিক তার পরের বছর – ভারতের রাজকোটের কথা ভাবুন। ৪৪৫ রানের জবাবে বিদেশী দল – ২২৪/২। পারিবারিক কারণে রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে ম্যাচ ছেড়ে ফিরে যেতে হয়েছিল। তারপরও ইংল্যান্ড হারল। এই বছর এই জুলাই মাসের কথা। ইংল্যান্ডের আর মাত্র ৭৩ রান দরকার তাহলে ওভালে ইতিহাস সৃষ্টি করে ম্যাচ জিতে নেবে। এটা সেই ম্যাচ যে ম্যাচে হ্যারি ব্রুক আর জো রুট সেঞ্চুরি করেছিলেন। নাহ্, ইংল্যান্ড জিততে পারিনি, হেরেছিল।

ইংল্যান্ড আর ভারত একই সময় একটা সিরিজ খেলছে আর তাতে কী অদ্ভুত মিল! ইংল্যান্ড বিদেশের মাটিতে গিয়ে প্রথম টেস্ট দু দিনে হেরে বসে আছে। ভারত দেশের মাটিতে পৌনে তিন দিনের টেস্ট ছেড়ে বসে আছে। ভারত গুয়াহাটি তে দ্বিতীয় টেস্টের খেলা শুরু করেছে। টসে হেরেছে। দক্ষিণ আফ্রিকা দল প্রায় ৫০০ রান করে ফেলেছে। এবার ভারতের পালা। এই টেস্ট জিততে না পারলে, সিরিজে হার। আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে বেশ পিছিয়ে পড়া। আর অস্ট্রেলিয়া নিজেদের দেশের মাটিতে এবার পিঙ্ক বল টেস্ট খেলতে নামছে। দ্বিতীয় টেস্ট ব্রিসবেনে। আর দিন রাতের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার নিজের দেশের মাটিতে হেরেছে, এ সংখ্যা খুব কম। এই টেস্টেও দলের নেতা প্যাট কামিন্স চোট ছাড়িয়ে ফিরে আসতে পারছেন না। কামিন্স নেই তো কি, মিচেল স্টার্ক তো আছেন। পারতে প্রথম টেস্টের দশ- দশটা উইকেট! দাপট ভাবুন! ঠিক যেমন ইংল্যান্ড দলকে নিয়ে দ্বিতীয় টেস্টেই কেউ আশা রাখছেন না, ঠিক তেমন ভারতীয় দলকে নিয়েও সিরিজের শেষ টেস্টে কেউ জয়ের আশা দেখছেন না। ইংল্যান্ড মাত্র দু’দিনে হেরে যাওয়ার পর এমন রসিকতা শুরু হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়, লেখা হচ্ছে- পার্থ থেকে ইংল্যান্ড দল দেশে ফিরে পরিবারের সাথে থেকে মুডটা ঠিক করে উইকেন্ড কাটিয়ে সরাসরি উড়ে আসতেই পারে ব্রিসবেনে। তার আগে একটা দিন নাকি গলফ খেলেও কাটাতে পারে। ভাবুন ক্রিকেট মাঠের ব্যর্থতা কতটা কটুক্তির আসনে বসিয়ে ফেলতে পারে ক্রিকেটারদের।
