...
Saturday, February 21, 2026,

Sports Funda: সফল আয়োজক সিএবি, ব্যর্থ খেলার মাঠে

Total Views: 12

সিএবি আলোর বন্যায় সাজানো। কল্যাণীতে দারুন দক্ষতায় দুটি রঞ্জি ম্যাচ আয়োজন করা। অতি সাধারণ ম্যাচও টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৪০-৫০ হাজার দর্শকের ভিড়। এসবই যোগ্য আয়োজকের নমুনা। কিন্তু রাজ্যের ক্রিকেট পারফর্মেন্স ? সকলে নীরব।

রাহুল দাস ( ক্রিকেট কলমচি, ইউ টিউবার) :

জম্মু ও কাশ্মীর এই প্রথম রঞ্জি ট্রফি ফাইনালে উঠলো। ‌ জম্মু-কাশ্মীরকে অভিনন্দন । একই সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে সৌরভ গাঙ্গুলীর ভূমিকা নিয়ে।‌ ভালো – মন্দ পারফরম্যান্স বিচার করা হয় তার কাজের মধ্যে দিয়ে। কেউ যদি বলেন বা লেখেন কিংবা আলোচনাও করেনঃ সৌরভ গাঙ্গুলী সংগঠক হিসেবে কোনদিনই বাংলার কথা ভাবেনি। এটা মানতে কষ্ট হবে। একই কথা যদি বলা যায় তাঁর দাদা স্নেহাশীষ গাঙ্গুলী সম্বন্ধে? – সেটাও লজ্জার। কিন্তু এটা সময় বিশেষে তাঁরা বুঝিয়েছেন রাজ্যের ক্ষমতায় থাকা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে থাকলে নিজেদের স্বার্থ পূর্ণ করা যায়। খুউব খারাপ লাগে এই আলোচনা বা ট্রোলিং সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখলে।

সত্যিই কি ওনারা কিছু করেননি ক্রিকেট ব্যাট ছাড়ার পর? এই ধরণের সামগ্রিক ব্যর্থতায় বলা হয় সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের পদত্যাগ করা উচিত। তাঁদের পক্ষের লোকজন বলতেই পারেন, তাঁরা কি মাঠে নেমে খেলেছিলেন? কিংবা দলের কোচ ছিলেন? না – খেলেন নি। কোচিংও করান নি। কিন্তু বাংলার ক্রিকেট নিয়ে তাঁদের কোন দায়বদ্ধতা কাজের মধ্যে দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে? নৈতিকতার দায়িত্ব নিয়ে এইসব শীর্ষ কর্তাদের এবং কোচ প্রাক্তন এই রাজ্যের ক্রীড়া মন্ত্রী লক্ষীরতন শুক্লা পদত্যাগ অনেকেই দাবী করছে।দল বিপর্যস্ত হলে এতা হয়। সদ্য অ্যাশেজ সিরিজে ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রে হয়েছে। ভারতীয় দল টেস্টে ক্রমাগত খারাপ খেললে, কোচ গৌতম গম্ভীরকে নিয়েও হয়েছে। তাহলে বাংলা বাদ যাবে না, এটাই স্বাভাবিক।

কোচের ভূমিকায় লক্ষ্মীরতন শুক্লা সময় বিশেষে সাংবাদিকের ভূমিকা পালন করেন – এমনটা লেখাও হয়েছে। সত্যি মিথ্যা যাচাই করা হয়নি। তিনি নাকি সাংবাদিকদের দিয়ে অনেককে কন্ট্রোল করেন! খবর খাওয়ান। কোচের পদত্যাগ করা উচিত – দাবী জোরালো ।

ভাড়াটে সৈন্য দিয়ে যুদ্ধে জেতা যায় না। ‌ ড্রেসিংরুমের পরিবেশ নির্ভর করে খেলোয়ারদের উপর। ‌ বাংলায় পেস বোলারদের অভাব এই বক্তব্য বলে ভিন রাজ্যের খেলোয়াড়দের খেলানো । শুধু সিনিয়র নয় জুনিয়রদের ক্ষেত্রেও এমনকি ক্লাব ক্রিকেটেও ভিন রাজ্যের খেলোয়াড়রা এসে খেলে যাচ্ছে। প্রতিবাদের ভাষা নেই কেন ? বাঙালিরা প্রতিবাদ করতে পারে না।বাংলার অর্ধেক খেলোয়াড় ভিন রাজ্যে অথচ কলকাতায় ক্রিকেট খেলা হয়। আর কলকাতায় একাধিক ক্রিকেট একাডেমী আছে ।এখান‌ থেকে কিন্তু খেলোয়াড় উঠে আসে না।‌ কেন? গভীর চিন্তার বিষয় । আমার ইউ টিউব চ্যানেলেও আমি এ নিয়ে বিশদ ভাবে বলেছি।

https://www.facebook.com/share/r/1MjkNAGDzc

সিএবির শীর্ষ কর্তা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছের লোক। ব্যবসা করবো, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করবো, ক্রিকেট একাডেমি করবো, দক্ষিণ আফ্রিকায় টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভারতের এক ব্যবসায়ীর ক্রিকেট দলের প্রশিক্ষক হব , আবার আইপিএলে একটা দলের সঙ্গে জড়িয়ে থাকবো – এসবই চলেছে। পাশাপাশি মোহনবাগান ক্লাবকে সঞ্জীব গোয়েঙ্কার হাতে নিয়ে আসার জন্য কাজ করবো, আবার মুখ্যমন্ত্রীর হয়ে স্প্যানিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে মৌ চুক্তি করবো, এই মানসিকতা যদি থাকে তাহলে বাংলা ক্রিকেটের জন্য তিনি সময় কখন দেবে? তাঁকে তো ময়দানে NRI প্রেসিডেন্ট বলা চালু হয়ে গেছে। এর সঙ্গে রয়েছে তাঁর নিজস্ব ব্যবসা। নানান সংস্থার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়ে অর্থ রোজগারের কাজ। মানছি, সিএবির পদাধিকারী কাজটি সাম্মানিক। টাকা নিয়ে পেশাদার কাজ নয়। তাই বলে, এমনভাবে চলবে!

প্রথমেই বলি খেলোয়াড় ,প্রশিক্ষক এবৎ প্রশাসক , তিনটি ক্ষেত্রে তিন রকম ভূমিকা। ঘরের মাঠে জম্মু ও কাশ্মীরের কাছে রঞ্জি ট্রফি সেমিফাইনালে হারার পর আশা করেছিলাম এই রাজ্যের সংবাদপত্রগুলি সংগঠনের মাথায় যিনি রয়েছেন অর্থাৎ সিএবি সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলীর বক্তব্য ছাপা হবে। তিনি সব নিয়ে মন্তব্য দেন ইদানিং। এইসব ব্যর্থতার দিনে তিনি কোথায়! সৌরভ গাঙ্গুলীর নিজের কাগজ বলে যেসব সংবাদপত্র বলতে গেলে হাঁছলে , কাঁদলে খবর প্রকাশিত হয়, ছবি ছাপানো হয়, সেইসব সংবাদপত্রে এবং সেইসঙ্গে বাংলার কোন পিছনে ছোটা টিভি চ্যানেলে সৌরভ গাঙ্গুলী কোন বিবৃতি চোখে পড়লো না।

এটা কি সাংবাদিকদের ব্যর্থতা নয়? নাকি রাজনৈতিক চাপ ?

https://www.facebook.com/share/r/18A3QpYHKp

আমার প্রশ্ন কলকাতা থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে কল্যাণীতে সিএবির একাডেমি মাঠে রঞ্জি ট্রফি সেমিফাইনাল খেলা ছিল । সৌরভ গাঙ্গুলী কদিন মাঠে গিয়েছিলেন এবং কতক্ষণ ছিলেন? কদিন বাংলার খেলোয়াড়দের নিয়ে আলোচনায় বসে ছিলেন? তাঁর উপস্থিতি অনেক কিছুই বদলে দেয়। সেটা তিনিও জানেন। তাহলে হল না কেন? বোনাস পয়েন্ট নিয়ে বাংলা নক আউট পর্যায়ের খেলা শুরু করে। এবার তো দারুন সুযোগ ছিল, আবার ফাইনাল খেলার। সেটা এভাবে হাতছাড়া হল!

সাংবাদিকতাকে যদি পেশা হিসেবে নেন তাহলে প্রথম দায়িত্ব তো তথ্যমূলক লেখা উচিৎ। কিন্তু ব্যক্তি সংস্থার থেকে বড় হয়ে গেলে সেটা আর হয়ে ওঠে না। একই কথা বলবো সৌরভ গাঙ্গুলীর দাদা স্নেহাশিস গাঙ্গুলী সম্বন্ধে। যিনি সচিব ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একটা সময়ে সিপিএমের রাজত্বে সিএবির সহ সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। নানান সমস্যার জাল কেটে বেরিয়েছেন।

ভিন রাজ্যের খেলোয়াড়দের নিয়ে বাংলার ক্রিকেটের কি উন্নতি হয়েছে ? কিছুদিন আগে গত ডিসেম্বরে সৈয়দ মুস্তাক আলী ক্রিকেটে বাংলার সুপার লিগে কোয়ালিফাই করতে পারেনি। হরিয়ানার কাছে বাংলা হেরেছিল ২৪ রানে। সেই দলে ছিলেন মহম্মদ সামি, আকাশদীপ- শাহবাজরা ছিল । এবং ভিন রাজ্যের আরও ক্রিকেটার ছিল । বাংলা দলে ১১ জনের মধ্যে অর্ধেক ভিন রাজ্যের।‌ এখন তো সবচেয়ে লজ্জা লাগে সিএবি সভাপতির গর্ব করে বলা – বাংলার সেরা পেস বোলার ভারত সেরা, কথা গুলো মনে পড়লে ।বাংলার ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কোথায় বলবেন “আমার লজ্জা হচ্ছে যে এগারো জন বাঙালি খেলোয়াড় বাংলার হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে খেলছেন না” । ভারতীয় দলে বাঙালি ক্রিকেটাররা খেলবে কিভাবে?

বিজয় হাজারে ট্রফিতে বরোদার কাছে বাংলা চার উইকেটে হেরেছিল ।এবং কোয়ার্টার ফাইনালে হরিয়ানার কাছে। সেই দলেও ছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলীর পছন্দ করা খেলোয়াড়েরা। যেখানে খবর খাওয়ানো সাংবাদিকরা লিখেছিলেন সঙ্গে ছবি ছেপে : ভারতের সেরা পেস বোলার বাংলার।‌জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ এবং লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা দুজনে জম্মু-কাশ্মীরের এই সাফল্য নিয়ে প্রশংসা করেছেন। দুঃখের বিষয় এই রাজ্যে কোন সংবাদপত্রে দেখলাম না মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির কোন বক্তব্য। এইরকম চলতে থাকলে বাংলার ক্রিকেট এবং সবমিলিয়ে ক্রীড়ার কোন উন্নতি কি হবে ? মনে হয় না ।

( পুরো প্রতিবেদনটি লেখকের ব্যক্তিগত অভিমত)

Share with

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *