...
Wednesday, February 11, 2026,

Cricket : ঘরামির দাপুটে ব্যাটিংয়ে বাংলার দাদাগিরি, সেমিতে ঘরের মাঠে বিপক্ষ জে এন্ড কে

Total Views: 9

অন্ধ্রপ্রদেশকে ইনিংস ও ৯০ রানে হারিয়ে রঞ্জি ট্রফির সেমিফাইনালে বাংলা। সামনে সেমিফাইনালে ইতিহাস গড়ে ফেলা জম্মু কাশ্মীর। ৬৬ বছর রঞ্জি ট্রফিতে খেলে এই প্রথমবার দল সেমি ফাইনালে।

রাহুল দাস ( ক্রিকেট বিশ্লেষক) :

ম্যাচে কল্যাণীর মাঠে যখন সুদীপ ব্যাট করতে নেমেছিলেন, বাংলার অবস্থা তখন বেশ সঙ্গীন। ড্রেসিংরুমে ফিরে গিয়েছেন বাংলার দুই নির্ভরযোগ্য ব্যাটার অনুষ্টুপ মজুমদার এবং সুদীপ চ্যাটার্জি। অন্ধ্রপ্রদেশের বানিয়ে দেওয়া ২৯৫ রানের ইনিংস যেন পাহাড়প্রমাণ লাগছিল বাংলার কাছে। সেখান থেকেই প্রথমে সুমন্ত রায় এবং পরে শাকির হাবিব গান্ধীকে নিয়ে একা কুম্ভের মতো সুদীপ রক্ষা করেন বাংলার গড়। রঞ্জি ট্রফিতে বাংলার হয়ে সর্বোচ্চ সপ্তম উইকেট পার্টনারশীপ:২২১- সুদীপ কুমার ঘরামি/ শাকির হাবিব গান্ধী (বনাম অন্ধ্রপ্রদেশ, কল্যাণী, ২০২৬)। এর আগে, ছিল ২১০- মনোজ তিওয়ারি/সৌরাশিস লাহিড়ী(বনাম সৌরাষ্ট্র, রাজকোট, ২০১০)

https://www.facebook.com/share/v/1aZ3DA9ixE

একদিকে, মাত্র ১ রানের জন্য সুদীপ ঘরামীর রঞ্জির নকআউটে ৩০০ রান না করতে পারার হতাশা, গান্ধীর ৯৫ রানে থমকে যাওয়া আর অন্যদিকে শাহবাজের দুরন্ত ঘূর্ণির ফাঁদে অন্ধ্র-বধ। আক্ষেপ-উৎসবে রঞ্জি সেমিফাইনালে বাংলা। ১৯৮৯ সালের পর একবারও রঞ্জি ট্রফির স্বাদ পায়নি বাংলা দল। বেশ কয়েকবার ফাইনালে উঠলেও ফিরতে হয়েছে খালি হাতে। শেষ চারে বাংলার প্রতিপক্ষ জম্মু-কাশ্মীর। প্রথম বার রঞ্জির শেষ চারে তারা। কোয়ার্টার ফাইনালে ৫৬ রানে হারাল মধ্যপ্রদেশকে। বিধ্বংসী ফর্মে রয়েছেন জম্মুর পেস বোলার আকিব নবি। আপাতত ফাইনালের যুদ্ধে নামার আগে বাংলার ভাবনায় ‘মিশন কাশ্মীর’।

গতকাল একটুর জন্য ট্রিপল সেঞ্চুরি মিস করেছেন সুদীপ ঘরামী। ২৯৯ রানের মাথায় নিচু বল ব্যাকফুটে খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়েছেন। এই আউট নিয়ে আক্ষেপ যেন মিটছে না সুদীপের। সংবাদমাধ্যমকে সুদীপ বলেছেন, “হতাশা অবশ্যই আছে। আমাকে আরও মনোসংযোগ নিয়ে ব্যাট করতে হবে।” তাঁর সংযোজন, “আমি আর একটু ব্যাট করতে পারলে বোলাররা বিশ্রাম পেত। আপাতত অন্ধ্র ম্যাচ অতীত। যা হয়নি, তা নিয়ে আর কিছু ভাবছি না।”

কল্যাণীতে বেঙ্গল ক্রিকেট আকাদেমি মাঠে যখন সুদীপ ব্যাট করতে নেমেছিলেন, বাংলার অবস্থা তখন বেশ সঙ্গীন। ড্রেসিংরুমে ফিরে গিয়েছেন বাংলার দুই নির্ভরযোগ্য ব্যাটার অনুষ্টুপ-সুদীপ । অন্ধ্রপ্রদেশের করা ২৯৫ রানের ইনিংস যেন চাপের লড়াই হয়ে উঠছিল বাংলার কাছে। সেখান থেকেই প্রথমে সুমন্ত রায় এবং পরে শাকির হাবিব গান্ধীকে নিয়ে “একা কুম্ভে”র মতো সুদীপ রক্ষা করেন বাংলার “গড়”। সুমন্ত করেন ৮১ রান। শাকিরের অবদান ৯৫ রান। তবে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন সুদীপ। ২৯৯রান করতে ৫৯৬ বল খেলেছেন সুদীপ। মেরেছেন ৩১টি বাউন্ডারি ও ৬টি ওভার বাউন্ডারি। এই কীর্তিতে তিনি ছুঁয়েছেন মার্টিন ক্রো এবং মাইকেল পাওয়েলের মতো কিংবদন্তিদের। এই দুই ক্রিকেটার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২৯৯ করে আউট হয়েছেন।

৩৩৪ রানে পিছিয়ে ম্যাচের চতুর্থ দিনের শুরুটা ভালো হয়নি অন্ধ্রের। ৬৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে দিনের খেলা শেষ করেছিল তারা। প্রথম ইনিংসে ভালো ব্যাটিংয়ের পর দ্বিতীয় ইনিংসে রান পাননি অন্ধ্র অধিনায়ক রিকি ভুইঁ। মাত্র ৩০ রান করেই শাহবাজ আহমেদের বলে আউট হয়ে যান রিকি। ভারতীয় দলের নিয়মিত ব্যাটার নীতিশ কুমার রেড্ডি ৯০ রান না করলে হয়তো আরও লজ্জার মুখে পড়তে হত অন্ধ্রপ্রদেশকে। শেষ মুহূর্তে ৪৬ রান করেন ত্রিপুরানা বিজয়। মাত্র ২৪৪ রানে দ্বিতীয় ইনিংসে অল আউট হয়ে গিয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ। মাত্র ৭২ রান দিয়ে ৪ উইকেট পেয়েছেন বিরাট কোহলির প্রাক্তন সতীর্থ শাহবাজ আহমেদ। তাঁর স্পিন সামলাতে পারেনি অন্ধ্র।

এবার বাংলার সামনে সেমিফাইনালে ইতিহাস গড়ে ফেলা জম্মু কাশ্মীর। ৬৬ বছর রঞ্জি ট্রফিতে খেলে এই প্রথমবার এই দল সেমি ফাইনালে।

https://www.facebook.com/share/p/1awZK7JdHB

অন্ধ্রপ্রদেশকে ইনিংস ও ৯০ রানে হারিয়ে রঞ্জি ট্রফির সেমিফাইনালে বাংলা দল । অনেক অনেক অভিনন্দন বাংলা দলকে ❤

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

অন্ধ্রপ্রদেশ ( প্রথম : ২৯৫/১০ , ৮৮.৪ ওভার ), মুকেশ কুমার ৫/৬৬; আকাশ দীপ ৪/৭৯ বাংলা ( প্রথম ইনিংস) : ৬২৯/১০, ১৯৯.১ ওভার, সুদীপ ঘরামী ২৯৯, শাকির হাবিব গান্ধি ৯৫, সুমন্ত গুপ্ত ৮১,মহম্মদ সামি ৫৩ (৩৩ বলে) এবং সূরজ সিন্ধু জসওয়াল ২০ অন্ধ্রপ্রদেশ( দ্বিতীয় ইনিংস ) : ২৪৪/১০; শাহবাজ আহমেদ ৪/৭২, সূরজ সিন্ধু জসওয়াল ২/৪২, আকাশ দীপ ১/১৩ , অনুষ্টুপ মজুমদার ১/৪৩

Share with

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *