পশ্চিমবঙ্গে লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা — মুখ্যমন্ত্রী নিজে কোর্টে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন তুললেন, কেন শুধু বিরোধী রাজ্যে এত তাড়াহুড়ো?
দীপঙ্কর গুহ ( এডিটর ইন চিফ) : ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ — এক অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটল সুপ্রিম কোর্টে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের দায়ের করা মামলায় নিজেই সওয়াল করলেন। ইস্যু সকলের আজ জানা — নির্বাচন কমিশনের (ECI) Special Intensive Revision (SIR) প্রক্রিয়া, যা রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। প্রধান বিচারপতি মাননীয় সূর্যকান্তের বেঞ্চে শুনানিতে মমতা শান্ত কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে বললেন, “এটা গণতন্ত্রের উপর আঘাত।” আদালত কমিশনকে নোটিস দিয়েছে এবং পরবর্তী শুনানি রেখেছে সোমবার।
কেন এই মামলা? SIR-এর বিতর্ক কেন ? নির্বাচন কমিশন ২০২৫-এর জুন ও অক্টোবরে নির্দেশ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে Special Intensive Revision (SIR) শুরু করে। এতে ভোটার তালিকা থেকে ভুল/ডুপ্লিকেট নাম বাদ দেওয়া এবং নতুন যোগ করার কথা।
কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ: সাধারণত এই ধরনের রিভিশন ২ বছর সময় নেয় — কেন এবার মাত্র ৩ মাস?প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে বলে দাবি (The Hindu, Indian Express রিপোর্ট একই কথা লিখছে )। জীবিত মানুষকে মৃত বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে, বিশেষ করে যুবক ও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষের নাম বেশি বাদ যাচ্ছে।উৎসব (দুর্গাপুজো পরবর্তী), ফসল কাটার মরসুমে এত তাড়াতাড়ি করায় লক্ষ- লক্ষ মানুষ নাম সংশোধন করতে পারছে না।মাইক্রো-অবজার্ভারদের মধ্যে অনেকে বাইরের রাজ্য (বিজেপি-শাসিত) থেকে আনা হয়েছে বলে অভিযোগ।
মমতা কোর্টে প্রশ্ন তুললেন: “কেন শুধু পশ্চিমবঙ্গে? অসমে কেন SIR হচ্ছে না?” তিনি বলেন, “এটা বিরোধী রাজ্যকে টার্গেট করা। কমিশন WhatsApp-এ নির্দেশ দিচ্ছে, এটা ‘WhatsApp Commission’।”
আদালতে কী ঘটল? মমতার সওয়াল ও CJI-এর প্রতিক্রিয়া : মমতা নিজে party-in-person হিসেবে উপস্থিত হয়ে সওয়াল করেন — একজন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে এটা বিরল।প্রধান বিচারপতি মাননীয় সূর্যকান্ত তাঁকে কথা বলার সুযোগ দেন। মাঝে বাধা এলে CJI বলেন, “তাকে বলতে দিন, তিনি অনেক দূর থেকে এসেছেন।” মমতা বলেন: “এই প্রক্রিয়ায় ১০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে চাপে। গণতন্ত্র রক্ষা করুন।”সিনিয়র অ্যাডভোকেট শ্যাম দিওয়ান (রাজ্যের পক্ষে) বলেন, SIR বন্ধ করে ২০২৫-এর তালিকায় ২০২৬-এর নির্বাচন করতে হবে।

আদালতের অর্ডার কী? নোটিস ইস্যু করা হয়েছে ECI ও পশ্চিমবঙ্গের Chief Electoral Officer-কে। কমিশনকে রিপ্লাই ফাইল করতে বলা হয়েছে।
রাজ্য সরকারকে নির্দেশ: নামের বানান/স্পেলিং ভুল সংশোধনের জন্য সরকারি অফিসারদের লিস্ট দিতে।মাইক্রো-অবজার্ভার নিয়োগ নিয়েও নোটিস।কোনো ইন্টারিম স্টে (প্রক্রিয়া থামানো) দেওয়া হয়নি, কিন্তু CJI বলেন: “কমিশনকে ‘carefully’ ও ‘sensitive’ ভাবে কাজ করতে হবে। কোনো নির্দোষ ভোটার বাদ যাবে না।”
পরবর্তী শুনানি: সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)।
নির্বাচন কমিশনের পালটা যুক্তি (আগের অ্যাফিডেভিট ও শুনানি থেকে)EC বলেছে: অভিযোগ “highly exaggerated” ও “politically motivated”। SIR-এর উদ্দেশ্য inclusion বেশি, deletion নয়। প্রক্রিয়া স্বচ্ছ। রাজ্যে SIR কর্মীদের উপর হুমকি আসছে বলে অভিযোগ (যেমন: মন্ত্রী/MLA-দের মন্তব্য)।সব নোটিসে কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। ভুল সংশোধনের সুযোগ আছে। অন্য রাজ্যেও SIR হচ্ছে যেখানে প্রয়োজন।
এই ঘটনা ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় টার্নিং পয়েন্ট। একজন মুখ্যমন্ত্রীর সুপ্রিম কোর্টে নিজে লড়াই করা দেখে অনেকে একে গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই বলছেন। আদালত যদিও এখনও মূল প্রক্রিয়া থামায়নি, কিন্তু নোটিস ও “careful” নির্দেশ দিয়ে ভোটার অধিকার রক্ষার বার্তা দিয়েছে। সোমবারের শুনানিতে কমিশনের রিপ্লাই এলে ছবিটা আরও স্পষ্ট হবে। গণতন্ত্রে ভোটারের নাম থাকা মৌলিক অধিকার — এই লড়াই তা রক্ষা করবে কি না, সময়ই বলবে।