৪২ বল । ১০৩* । আগুন পাখি ঈশান কিষান যেন বলে দিল – “আমি এসেছি বিশ্বকাপের জন্য ! সঞ্জু সরি, আজ আমার দিন !” কিপিং শুরু কিষানের
পিনাকেলনিউজ ডেস্ক : ঈশান কিষানের প্রথম #T20I সেঞ্চুরি (১০৩ রান অফ ৪২ বল)। সেটা এল #IndvsNZ পঞ্চম ম্যাচে। সঞ্জু স্যামসন এর হোম গ্রাউন্ড ত্রিবান্দ্রমে (গ্রিনফিল্ড স্টেডিয়াম)। ইনিংসটি ছিল একটা বিস্ফোরক, ক্লাসিক কামব্যাক ইনিংস। এটা নিশ্চিত তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা নক, বিশেষ করে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ঠিক আগে।
ভারত টস জিতে ব্যাটিং নেয়। শুরুতে অভিষেক শর্মা ও সঞ্জু স্যামসন (হোম গ্রাউন্ডে খেলতে নেমে ছিলেন) – কিন্তু স্যামসন আবার ফ্লপ (খুব কম রান)। ঈশান তিন নম্বরে নামেন। প্রথমে স্লো স্টার্ট (২৭ রান আসে ২০ বলে)। কিন্তু তারপর! গিয়ার চেঞ্জ করে পুরো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। অধিনায়ক সুর্যকুমার যাদবের সাথে ১৩৭+ রানের পার্টনারশিপ ( সেটিও রেকর্ড ) – #SKY ৬৩ রান করে যান ৩০বলে ।ইশান আউট হয় ১০৩ রানে। ৪২ বলে (SR ২৪০+), ভারত শেষ করে ২৭১ /৫ তে । বিশাল রানের ইনিংস।
ইনিংসের খুঁটি নাটি : ১০৩বল: ৪২ (কিছু সোর্সে ৪২ বলে সেঞ্চুরি, পরের বলে আউট)। বাউন্ডারি : ৬টি । ওভার বাউন্ডারি : ১০। স্ট্রাইক রেট: ২৪৫.২৪ (প্রায় ২.৫ রান/বল!)। এই ইনিংসের টার্নিং পয়েন্ট : ৫০ এসেছে ২৮ বলে – একটা ওভারে Ish Sodhi-কে এক ওভারে তিনি মারে ৪,৪,৪,৬,৪,৬ (২৮ রান ওভার!) ! আর এখান থেকে টপ গিয়ারে যায় ব্যাটিং ।সেঞ্চুরি করেন Mitchell Santner-এর বলে স্লগ সুইপে ছক্কা হাঁকিয়ে।পুরো ইনিংসে পেসার ও স্পিনার – কাউকে কে ছাড়েননি। লেগ সাইডে পাওয়ারফুল ফ্লিক, পুল, সোজা লফটেড শট। আউট হয়েছেন শেষ দিকে।
এই ইনিংস কেন স্পেশাল? পিছনে ফিরে তাকালে দেখা যাবে, দল থেকে বাদ যাওয়া। বিসিসিআই সেন্ট্রাল কন্ট্রাক্ট হাতছাড়া হাওয়া । ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ খেলা (রঞ্জি, SMAT সেঞ্চুরি)। তারপর চলতি সিরিজে ফিরে এসে ৭৬ রান (৩২ বল), ২৮রান (১৩ বল), এবং এখন ১০৩ রান (৪২ বল)।
“Pocket Dynamo” আবার ফিরেছে! এই ইনিংসে প্রথমে সেট হয়েছেন ঈশান। তারপর জিরো রিস্ক নয়, ক্যালকুটেড আগ্রেশন ছিল। বোলারদের উপর চাপ রেখেছে, কখনও আলগা দেয়নি। আর টেকনিক? ছোট চেহারার হলেও বিশাল পাওয়ার! – হ্যান্ড স্পিড, রিস্ট পাওয়ার, ফুট মুভমেন্ট দিয়ে স্পিনারদের গুঁড়িয়ে দিয়েছেন । লেগ সাইডে তাঁর ফ্লিক/পুল অসাধারণ। তাঁর ব্যাটিংয়ের প্রভাব? ভারতের টোটালকে ২৭১ পর্যন্ত নিয়ে গেছে। NZ-কে চাপে ফেলেছে। T20 WC ২০২৬-এ কিষানের জায়গা এখন প্রায় পাকা (স্যামসনের স্পট নিয়ে প্রশ্ন উঠছে)। তাই টিম ম্যানেজমেন্ট ঠিক কাজটাই করেছে। ম্যাচে কিপিং করিয়েছে।
এই ইনিংসে রেকর্ড ! NZ-এর বিপক্ষে T20I-তে দ্রুততম সেঞ্চুরি (ফাস্টেস্ট vs NZ)। এই ইনিংস দেখে মনে হয়েছে ইশান ভয়ডরহীন মোড-এ ফিরেছে – T20-তে তাঁর মতো আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান খুব কম। গৌতম গম্ভীরও প্রশংসা করেছেন!