তিনি এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুই নম্বর ব্যাটার। ২৮০০০ রানের গন্ডিতে কুমার সঙ্গাকারা পিছনে গেলেন। সামনে শুধু শচীন !
পিন্নাকেলনিউজ ডেস্ক : টেস্ট ম্যাচ তাঁর অতি প্রিয়। ছেড়ে দিয়েছেন খেলা। টি টোয়েন্টি ক্রিকেটে দেশ বিশ্বসেরা হওয়ার পর ছেড়ে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলা। খেলে চলেছেন ৫০ ওভারের ম্যাচ। ব্যাটিং তাঁর নেশা। আর জিততে থাকা তাঁর নিশানা। দেশের হয়ে মাঠে নামলেই ক্রিকেটকে নিয়ে যান শিল্পের পর্যায়ে। রবিবার, ভাদোদরায় নুতন স্টেডিয়ামে সেই সবই দেখা গেল। বিরাট কোহলি। ভি-কে। ভিকট্রি – কার। বিরাট ম্যাচের সেরা হয়ে, রান তাড়া করে ভারতকে ৪ উইকেটে জেতাতে সাহায্য করলেন। ৩ ম্যাচের সিরিজে টিম ইন্ডিয়া ১-০ তে এগুলো।
আগে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ড নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২৭৭ রান তুলেছিল। জবাবে ভারত ৪৭.৫ ওভারেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।ম্যাচের নায়ক বিরাট কোহলি ৯১ বলে ৯৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে কাইল জেমিসনের বলে একের পর এক বাউন্ডারি মেরে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে যান। শতরানের খুব কাছে গিয়েও আউট হন। তবে তাঁর ইনিংসই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। শেষ দিকে কেএল রাহুল অপরাজিত ৩৪ রান করে দলকে নার্ভাস ফিনিশ থেকে বাঁচিয়ে জয় নিশ্চিত করেন। এই জয়ের ফলে ভারত ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে হালের দারুণ সাফল্য বজায় রাখল। কিউইরা ভারতে শেষ পাঁচটি ৫০ ওভার ম্যাচেই হেরেছে ( সেই ২০১৯ সালের পর থেকে)।
বিরাট কোহলি আবারও প্রমাণ করলেন কেন তিনি ওয়ান ডে ক্রিকেটের অন্যতম সেরা “চেজ মাস্টার” ! ৩০১ রানের চ্যালেঞ্জিং টার্গেট তাড়া করতে নেমে তিনি ৯৩ রান করেন মাত্র ৯১ বলে (৮টি চার ও ১টি ছক্কা সহ), স্ট্রাইক রেট ১০২.১৯। এই দুর্দান্ত ইনিংসের জন্যই তিনি প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ হন। এবং এটি তাঁর ওডিআই ক্যারিয়ারের ৪৫তম ম্যাচ সেরার পুরস্কার!
শুরুতেই আক্রমণাত্মক মেজাজ : রোহিত শর্মা আউট হওয়ার পর (৩৯/১) কোহলি দ্রুত “গিয়ার চেঞ্জ” করে ব্যাটিং শুরু করেন। প্রথম কয়েক ওভারেই তিনি দুটি সুন্দর ড্রাইভ ও পুল শটে চার মারেন। ফুল লেংথ বলে স্ট্রেইট ড্রাইভ এবং শর্ট বলে পুল – দুটোতেই তাঁর সিগনেচার ক্লাসিক টাচ দেখা যায়।
দলের নেতা শুভমন গিলের সাথে বড় পার্টনারশিপ : প্রথম উইকেটে দুজনে মিলে ১১৮ রানের জুটি গড়েন (১৫৭/২ পর্যন্ত)। এই সময় কোহলি একদিকের প্রান্ত আগলে থেকেও রান রেট ঠিক রাখেন। গিল আউট হওয়ার পর তিনি আরও বাড়তি দায়িত্ব নেন।
মিডল ওভারে কন্ট্রোল ও অ্যাক্সিলারেশন : ৫০ থেকে ৮০ রানের মধ্যে তিনি খুব পরিপাটি ব্যাটিং করলেন। সিঙ্গেলস নিয়ে স্ট্রাইক রোটেট করেন। আবার প্রয়োজনে বাউন্ডারি মারেন। তাঁর ফ্লিক শট (বিশেষ করে লেগ সাইডে) মাতিয়ে দিয়েছে। এইসব শটে অনেক রান এসেছে।
শেষ দিকে আউট : ৩৯.১ ওভারে কাইল জেমিসনের হার্ড লেংথ বলে ক্রিজ ছেড়ে বেড়িয়ে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে মিড-অফে মাইকেল ব্রেসওয়েলের হাতে তা ক্যাচ হয়ে যায় । তখন ভারতের দরকার ছিল মাত্র ৬৭ রান (৬৬ বলে, ৭ উইকেট হাতে)। শতরানের খুব কাছে ছিল । দলকে জিতিয়ে ফিরতে চেয়েছিলেন হয়তো। তাই, আউট হওয়ায় তিনি নিজেই খুব হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়েন।
কোহলি কাহিনী :
কোহলির মাস্টারক্লাস কীভাবে?
কোহলির এই ইনিংস ছিল পারফেক্ট রান তাড়া করা ব্যাটিংয়ের উদাহরণ। প্রথমে আক্রমণ করে নিজেদের দলের উপর থেকে চাপ কমানো। তারপর সিচুয়েশন অনুযায়ী ম্যাচের লাগাম নিয়ন্ত্রণ করা। এবং শেষে ফিনিশ করার জন্য দলকে সেই জায়গায় নিয়ে যাওয়া। এদিন তাঁর স্ট্রাইক রেট ১০০+ থাকা সত্ত্বেও কোনো বাড়তি ঝুঁকি নেয়নি। এই ইনিংসেই তিনি ২৮,০০০ আন্তর্জাতিক রান পূর্ণ করেন। শ্রীলঙ্কার কুমার সাঙ্গাকারাকে পিছনে ফেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকহয়ে বসলেন। আর, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে কোহলির রেকর্ড সবসময়ই অসাধারণ (১৬৫৭ রান, গড় ৫৫+)।
এই ম্যাচে তিনি আবার প্রমাণ করলেন – রান তাড়া করে এগিয়ে চলা – তাঁর মতো ক্লাস আর কনসিস্টেন্সি খুব কমই দেখা যায়। শতরান মিস হলেও, এই ৯৩ রানের ইনিংসটা ম্যাচ জিতিয়েছে ভারতকে।দিল্লির হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে ( বিজয় হাজারে ট্রফি) ৫০ ওভারের টুর্নামেন্টে খেলেছেন, এই সিরিজের প্রস্তুতি নিতে। সেখানেও সেঞ্চুরি করেছিলেন। ম্যাচের সেরা হয়েছিলেন। তিনি “কিং কোহলি” এখনও অপ্রতিরোধ্য !
এবার বিরাট কোহলি পোস্ট-ম্যাচ প্রেজেন্টেশনে টিভি ধারাভাষ্যকার হর্ষা ভোগলেকে কী কী বললেন….
**হর্ষা:** এটা আপনার কত নম্বর ম্যান অফ দ্য ম্যাচ পুরস্কার হলো?
**কোহলি:** সত্যি বলতে কোনো আন্দাজই নেই। আমি সবগুলো আমার মায়ের কাছে গুরগাঁও-এ পাঠিয়ে দিই; উনি সেগুলো রেখে দেন।
**হর্ষা:** আপনার ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ের দৌড় নিয়ে একটু ভেবে দেখুন…
**কোহলি:** এটা একটা স্বপ্নের মতো। ঈশ্বর আমাকে প্রচুর আশীর্বাদ করেছেন; আমি পুরোপুরি কৃতজ্ঞ।
**হর্ষা:** মাইলস্টোন বা রেকর্ড নিয়ে ভাবেন কি?
**কোহলি:** না। শুধু দলকে একটা ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি।
**হর্ষা:** আজকের ম্যাচে আপনার অ্যাপ্রোচ কী ছিল?
**কোহলি:** তিন নম্বরে ব্যাটিং করেছি, কাউন্টার অ্যাটাক করে নিউজিল্যান্ডের ওপর চাপ তৈরি করার চেষ্টা করা। কোহলি আরও যোগ করেন:** ক্রিকেট খেলে ফ্যানদের মুখে হাসি ফোটাতে পারলে আমার খুব ভালো লাগে।