দুই দিনে মাঠে প্রায় ১.৮৫ লাখ লোক! কী দেখতে পেলেন ? আয়া রাম , গয়া রাম – টেস্ট ক্রিকেট গেল জাহান্নাম।
দীপঙ্কর গুহ ( এডিটর ইন চিফ)
অ্যাশেজ সিরিজের চতুর্থ টেস্ট। প্রথম দিন অস্ট্রেলিয়া ইনিংস শেষ করল ১৫২ রানে। সেই দিনই ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংসে শেষ করে ফেলল ১১০ রানে। ৪২ রানে পিছিয়ে ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় দিন। অজিদের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ ১৩৫ রানে! অর্থাৎ ১৭৫ রান জয়ের লক্ষ্য ইংল্যান্ডের সামনে। বিতর্কিত “বাজবল” মিশনের মাঝেই কিন্তু জয় এসে গেল। ৫ ম্যাচের সিরিজ ০-৩ ম্যাচে হাতছাড়া করার পর ইংল্যান্ড এবার জয় হোক পেল। ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে পুরনো টেস্ট লড়াই এই অ্যাশেজ। ইতিহাসের পাতা উল্টে জানা যাচ্ছে পনেরো বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইংল্যান্ড একটা টেস্ট ম্যাচ জিতল। অবশ্যই প্রশংসনীয়। কিন্তু তা বলে একটা টেস্ট ম্যাচ শেষ হয়ে গেল ১৪২ ওভারেই ৩৬টি আউটেই ! মাত্র দুটো দিন গড়াতে না গড়াতেই? #ICC প্রসার ঘটাতে চাইছে টেস্ট ক্রিকেটের ? তাই এর টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ? বলিহারি ক্রিকেট!
ক্রিকেটের রথী – মহারথী অনেকেই বলছেন সব দোষ ওই ২২ গজের উইকেটের। যে ব্যাটা উইকেটটা বানিয়েছে তাকেই আগে তাড়িয়ে দেওয়া হোক। কেন? তার কি দোষ? “হোম” টিম যেমন চেয়েছে তেমনি উইকেট বানিয়ে দিয়েছে। এখন হোম টিমের যারা ব্যাট হাতে উইকেটে যাচ্ছে তারা যদি দাঁড়িয়ে না থাকতে পারে ক্রিজে তার দায় পিচ যে বানিয়েছে তার! বিচিত্র কথা। হতে পারে এই টেস্ট ম্যাচটি ইংল্যান্ড জিতেছে কিন্তু তাদের ব্যাটাররাই বা কী এমন কৃতিত্বের কাজ করেছে?
মনে আছে, ইংল্যান্ডে প্রাক্তন অধিনায়ক মাইকেল ভন কী যেন বলছিলেন! থুরি – এক্স হ্যান্ডেল এ পোস্ট করেছিলেন। “কলকাতায় একদিনে ১৫ উইকেট! এ কেমন পিচ?” – সেই ভন এখন ঘ্যান-ঘ্যান করছেনবেকার উইকেট বলে। তাঁর দেশের দল জিতেছে, খুশি হওয়ার কথা। তিনি এখন বসেন কমেন্ট বক্সে। তাঁদের কি পার ডে পেমেন্ট হয়? তা না হলে এসব বলছেন কেন? নাকি সেই পুরনো অস্ট্রেলিয়া ভার্সেস ইংল্যান্ড এর মাঠের বাইরের লড়াই?
ভন বলুন আর যেই বলুন, মেনে নিতে বাধ্য হতে হচ্ছে এই টেস্ট সিরিজের ব্যাটাররা টেস্ট খেলার টেকনিক টাই ভুলে গেছেন। কিংবা অত্যাধিক সীমিত ওভারের ক্রিকেট খেলার কুফল। একটু এদিক ওদিক করে বলতে পারা যায় যে “বাজবলে” মজেছে তাঁদের মন। বিদেশের ক্রিকেটে মেলবোর্ন তো এক মক্কা। সেখানে দ্বিতীয় দিনের লাঞ্চের মধ্যে ২৬ টা উইকেট পড়ে যাচ্ছে ( ৯৮ ওভারেই) । দু’পক্ষের কোন দল পঞ্চাশ ওভার ফেলতেই পারল না। আইসিসি কি কড়া ব্যবস্থা নেবে মেলবোর্নের বিরুদ্ধে? সে গুড়ে বালি।
ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট সিরিজ বা এই চলতি অ্যাশেজ সিরিজ আইসিসি এবার ভাবাবে। বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থার একটা টেকনিক্যাল কমিটি আছে। তাদের ভাবতে হবে কি করলে এমন উইকেট বা দিনে ১৫-২০ টি উইকেট পড়ে গেলে বিপক্ষ বাড়তি পয়েন্ট পাবে। ম্যাচ দু’দিন কিংবা ৩ দিনে শেষ হয়ে গেলে সফরকারি দল বাড়তি পয়েন্ট পাবে। এই ধরনের কিছু একটা বার করতে হবে। তাতে যদি টেস্ট ক্রিকেট খেলতে নামা দলের টনক নড়ে। আমি জানি অনেকে হয়তো বলবেন – ওই ম্যাড়মেড়ে ড্র ম্যাচ দেখার চেয়ে এ আর মন্দ কি! আরে বাবা স্পন্সরদের কথা ভাবুন। দর্শকদের কথা ভাবুন। যারা টিভি সত্য কিনছে – তাদের কথা তো ভাবুন! পাঁচ দিনের বুক হওয়া বিজ্ঞাপনের স্লট কি করে দু- দিনের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া যায় বলুন তো? ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখুন সমস্যাটা কিন্তু শুধু টেস্ট ম্যাচের ওই ২২ গজ উইকেট বা সবুজ মাঠের মধ্যে নয়। মাঠের বাইরেও বিস্তর সমস্যা হয়ে যাচ্ছে এমন ঘটনার জন্য। ভাবুন তো এই মেলবোর্ন ম্যাচের প্রথম দিন হিসেব দিল ৯৪ হাজার ১৯৯ জন্য নাকি মাঠে হাজির ছিল! দ্বিতীয় দিন – শনিবার আরও বেশি, ৯২ হাজার ৪৫ জন ! কী দেখতে পেলেন ? আয়া রাম , গয়া রাম – টেস্ট ক্রিকেট গেল জাহান্নাম।