...
Sunday, April 5, 2026,

Sports Funda: IPL – বাংলা এগিয়ে অসমের চেয়ে! এপ্রিলের এই ফল – মে’তে কী হবে?

Total Views: 22

মাসএপ্রিল। বাংলা তথা কলকাতার ইডেনে আইপিএলের প্রথম ম্যাচে স্পোর্টিং উইকেট মিললো। অসমের বারসাপাড়াতে মোটেই তা নয়। এই মাসেই দুই রাজ্যে ভোট। মে মাসে ফল ঘোষণা। মাঠে আর মাঠের বাইরে কী হবে?

দীপঙ্কর গুহ,এডিটর-ইন-চিফ(pinnaclenews.in)

বাংলা আর অসম। সিএবি আর এসিএ। বাংলার ক্রিকেট সংস্থা আর অসম ক্রিকেট সংস্থা। আইপিএলের প্রথম দুটো ম্যাচ দেখে Eden Gardens (কলকাতা)-এর উইকেট গুয়াহাটি (Barsapara/ACA Stadium)-এর তুলনায় ব্যাটিং-এর জন্য অনেক ভালো বলা যায়।

ইডেনে (#KKRvsSRH ম্যাচ, ২ এপ্রিল) সানরাইজার্স হায়দরাবাদ প্রথমে ব্যাট করে ২২৬/৮ তুলে ছিল (২০ ওভারে)। পিচ ব্যাটার-ফ্রেন্ডলি, বল ভালোভাবে ব্যাটে আসছে, স্ট্রোক খেলা সহজ ছিল । ফাস্ট আউটফিল্ডের কারণে রান ওঠা সহজ।সাধারণত এখানে হাই-স্কোরিং ম্যাচ হয় (প্রথম ইনিংসে গড় ১৭০-১৮০+ রান)।নতুন বলে পেসাররা সামান্য মুভমেন্ট পায়, কিন্তু ব্যাটাররা সেট হলে অনেক রান করতে পারে। হতে পারে কেকেআর প্রথম ম্যাচেই হোম ম্যাচ হেরেছে – কিন্তু টি টোয়েন্টি ক্রিকেটের জন্যে যথার্থ উইকেট বানিয়েছেন অভিজ্ঞ পিচ কিউরেটর সুজন মুখার্জি। নাইটদের পেসার ৪ উইকেট নিয়েছেন।

আর গুয়াহাটিতে Guwahati (RR vs CSK ম্যাচ, ৩০ মার্চ ) চেন্নাই প্রথমে ব্যাট করে মাত্র ১২৭ অল আউট হয়েছিল (১৯.৪ ওভারে)। উইকেটে কিছু আর্দ্রতা ছিল (বৃষ্টির কারণে কভার পাতাথাকায়)। প্রথম দিকে পেসাররা ভালো মুভমেন্ট ও বাউন্স পেয়েছে।ব্যাটারদের জন্য শুরুতে রান তোলা কঠিন ছিল। পরে তাই রাজস্থান সহজেই ১২.১ ওভারে চেজ করে ম্যাচ জিতে নিয়েছে। সকলের নজর কেড়ে নিচ্ছে ১৫ বছরের কিশোর বৈভব!

গুয়াহাটির পিচ সাধারণত ব্যাটিং-ফ্রেন্ডলি হলেও, এই ম্যাচে আবহাওয়া ও আর্দ্রতার কারণে বোলারদের সুবিধা হয়েছে। গড় স্কোর এখানে কম (১৪৫-১৭৫ এর মধ্যে) হয় । টি টোয়েন্টি এমনিতেই কম ওভারের ম্যাচ। তাও আরও ছোট গেলে দর্শকদের মন ভরে না।

বাংলা আর অসমের তুলনা করে বললে,লিখতে হয়-ইডেন ছিল ব্যাটারদের জন্য অনেক ভালো (বেশি রান, স্ট্রোক খেলা সহজ, হাই-স্কোরিং ম্যাচের সম্ভাবনা বেশি)।গুয়াহাটির বারসাপাড়া ম্যাচে বোলার-ফেভারিং ছিল (বিশেষ করে প্রথম ইনিংসে), তাই ব্যাটিং করা কঠিন লেগেছে। সাধারণত এটাও ব্যাটিং-ফ্রেন্ডলি, কিন্তু আবহাওয়া/আর্দ্রতা থাকলে পেসাররা সুবিধা পায়।

ইডেনের উইকেট এই দুটো ম্যাচের বিচারে ব্যাটিং-এর জন্য অনেক বেশি ভালো। গুয়াহাটিতে বৃষ্টি/আর্দ্রতার প্রভাবে লো-স্কোরিং হয়েছে, যেখানে ইডেনে ২২৬+ রান উঠেছে সহজেই। এবার দেখুন দুটো ম্যাচের পাওয়ারপ্লে, মিডল ওভার ও ডেথ ওভার বিচার করলে কী মিলছে । এতে স্পষ্ট বোঝা যাবে কোন উইকেট ব্যাটিং-এর জন্য ভালো।

১. ইডেনের (KKR vs SRH)প্রথম ইনিংস: হায়দরাবাদ — ২২৬/৮ (২০ ওভারে) পাওয়ারপ্লে (প্রথম ৬ ওভার): ৮৪/১। খুবই আক্রমণাত্মক, ট্রাভিস হেড ও অভিষেক শর্মা ঝড় তুলেছিল । বল ভালোভাবে ব্যাটে আসছিল। স্ট্রোক খেলা সহজ হয়েছিল । মিডল ওভার (ওভার ৭-১৫): ভালো কন্ট্রোল, ক্লাসন (৫২) ও নীতীশ রেড্ডির মতো ব্যাটাররা সেট হয়ে রান তুলেছে। উইকেট না হারিয়ে রানের গতি বজায় রাখা গেছে। ডেথ ওভার (শেষ ৫ ওভার): ৫৮/৪ (KKR-এর ডেথ বোলিং ভালো ছিল, কিন্তু তাও ২২৬ উঠেছে)। ব্যাটাররা শেষ পর্যন্ত বড় শট খেলেছে।

তাহলে ক্রিকেট কী পেল ?

১.পুরো ইনিংসে ব্যাটিং দেখল । পিচ ব্যাটার-ফ্রেন্ডলি, বল ভালো ক্যারি করছে, বাউন্ডারি মাঝারি দূরত্বের ছিল। গড় প্রথম ইনিংস স্কোর এখানে ~১৭০-২০০ হয় । শিশিরের সমস্যা কম ছিল, তাই চেজ করাও যুক্তিসঙ্গত ছিল।

২. গুয়াহাটিতে (Barsapara/ACA Stadium, RR vs CSK)প্রথম ইনিংস: চেন্নাই — ১২৭ অল আউট (১৯.৪ ওভারে) । পাওয়ারপ্লে: শুরুতে কঠিন অবস্থা ছিল । আর্দ্রতা (বৃষ্টির কারণে কভারে পিচ ঢাকা ছিল ) থাকায় পেসাররা (Nandre Burger, Jofra Archer) ভালো মুভমেন্ট ও বাউন্স পেয়েছে। চেন্নাই টপ অর্ডার চাপে পড়ে। মিডল ওভার: রবীন্দ্র জাদেজার মতো স্পিনাররা নিয়ন্ত্রণ করেছে। ব্যাটাররা সেট হতে পারেনি, উইকেট পড়েছে নিয়মিত। ডেথ ওভার: খুব কম রান (মোট ১২৭-এর মধ্যে শেষ অংশে খুবই কম ওঠে)। বোলাররা দাপট দেখিয়েছে।

তাহলে এখানে কী হল ? এই ম্যাচে উইকেট বোলারদের জন্য ছিল (বিশেষ করে প্রথম ইনিংসে)। সাধারণত গুয়াহাটি ব্যাটিং-ফ্রেন্ডলি হলেও, আবহাওয়া ও আর্দ্রতার কারণে শুরুতে কঠিন হয়ে গেছে। গড় স্কোর এখানে কম (~১৪৫-১৭৫) ওঠে ।

দুটো ম্যাচ বিচার করে বলা যায় ইডেনের উইকেট এই দুটো ম্যাচ + সামগ্রিক ট্রেন্ডে ব্যাটিং-এর জন্য অনেক বেশি ভালো। এখানে ব্যাটাররা স্বাচ্ছন্দ্যে স্ট্রোক খেলতে পারে, বড় স্কোর (২০০+) সম্ভব, এবং পুরো ইনিংস জুড়ে রানের গতি ভালো থাকে।গুয়াহাটিতে উইকেট সাধারণত ভালো ব্যাটিং পিচ হলেও, এই ম্যাচে আবহাওয়া/আর্দ্রতার কারণে বোলারদের সুবিধা হয়েছে। ফলে লো স্কোর হয়েছে এবং ব্যাটিং করা শুরুতে কঠিন লেগেছে।

ইডেনের অভিজ্ঞ পিচ কিউরেটর সুজন মুখার্জি ব্যাটিং-এর জন্য “ভালো” (বেশি ব্যাটার-ফ্রেন্ডলি) ২২ গজ দিয়েছিলেন। Guwahati-ও খারাপ নয়, কিন্তু আবহাওয়া নির্ভরশীল — ভালো আবহাওয়ায় এটাও রান-ফেস্ট হতে পারে । এবার দুটো ম্যাচের দর্শক সংখ্যা এবং টিকিটের দাম নিয়ে ভাবা যাক।

১. ইডেন (KKR vs SRH, ২ এপ্রিল ২০২৬) দর্শক সংখ্যা: অফিসিয়ালি প্রায় ৩৪,০০০ থেকে ৩৮,০০০ জনের মতো ছিল। সিএবি নিজেদের ফেসবুক পোস্টে দিয়েছে ৫৪ হাজারের বেশি! স্টেডিয়ামের ক্যাপাসিটি প্রায় ৬৬,০০০। ম্যাচের শুরুতে অনেক সিট খালি দেখা গিয়েছিল, পরে ভিড় বেড়েছিল। অনেক ফ্যান অভিযোগ করেছেন যে টিকিটের দাম বেশি হওয়ায় দর্শক কম এসেছে।

টিকিটের দাম (KKR হোম ম্যাচের জন্য সাধারণ রেঞ্জ):সাধারণ স্ট্যান্ড/গ্যালারি: ₹১,২০০ থেকে শুরু (কিছু ব্লকে ₹১,৫০০–₹২,৫০০)।মিড-রেঞ্জ/প্রিমিয়াম ব্লক (B, C, K ইত্যাদি): ₹৩,০০০ থেকে ₹৫,৫০০।ক্লাব হাউস/প্রিমিয়াম: ₹৮,০০০ থেকে ₹৮,৫০০ (কিছু ক্ষেত্রে আরও বেশি)।হসপিটালিটি/ভিআইপি: ₹১৫,০০০+ পর্যন্ত।

Book My Show দিয়ে অনলাইনে টিকিট বিক্রি হয়েছিল।

২. অসমের গুয়াহাটিতে (Barsapara/ACA Stadium, RR vs CSK, ৩০ মার্চ ২০২৬)দর্শক সংখ্যা: প্রায় ৪০,০০০ জনের কাছাকাছি (এটাই পুরো দর্শক আসন সংখ্যা )।স্টেডিয়ামের ক্যাপাসিটি প্রায় ৪০,০০০ ( কেউ কেউ স্থানীয় দাবি করে ৪৬,০০০)। ম্যাচের আগে ৭০% টিকিট বিক্রি হয়ে গিয়েছিল, এবং স্টেডিয়াম প্রায় ভর্তি ছিল। উত্তর-পূর্বে প্রান্তের ক্রিকেট ফ্যানদের মধ্যে বেশ উত্তেজনা ছিল ধোনি খেলবেন বলে। কিন্তু চোটের কারণে খেলেননি। দলের সঙ্গে যান নি।

সেখানে টিকিটের দাম (RR হোম ম্যাচের জন্য):বাজেট/সাধারণ স্ট্যান্ড: ₹১,০০০ থেকে ₹২,৮০০ (কিছু স্পেশাল ₹১,৪৯৯ টিকিটও ছিল লোকাল ফ্যানদের জন্য)।মিড-রেঞ্জ/প্রিমিয়াম: ₹২,৭০০ থেকে ₹৪,২০০ (কিছু ব্লকে ₹৩,২০০–₹১১,৫০০ পর্যন্ত)।হসপিটালিটি/কর্পোরেট বক্স: ₹১৮,০০০ থেকে ₹৫০,০০০ পর্যন্ত।

বুকিং মূলত District by Zomato অ্যাপ/ওয়েবসাইটে হয়।

Share with

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *