Ro-ko। অর্থাৎ রোহিত – কোহলি। সেই জানুয়ারিতে দেশের হয়ে ODI খেলার পর, আবার ৬০ দিন বাদে নামলেন আইপিএলে। প্রথম ম্যাচেই দুই তারকা নয়নের মণি!
দীপঙ্কর গুহ , এডিটর ইন চিফ ( pinnaclenews.in)
IPL 2026 শুরুর আগে একটা প্রশ্ন ঘুরছিল—আবার ব্যাট হাতে মাঠে ফিরছেন ভারতের দুই দুই আধুনিক ধুরন্ধর । বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মা। এতদিন – প্রায় ৬০ দিন ম্যাচের বাইরে, শুরুটা কেমন যে হবে! ভাবনায় ঘুরছিল খেলার বাইরে থেকে ওঁরা কী করছিলেন?
সেই ১৮ জানুয়ারি নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষ ODI খেলার পর প্রায় দুই মাসেরও বেশি সময় চলে গেছে। IPL 2026 শুরুর আগে বিরাট কোহলির শেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ ছিল ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, India vs New Zealand, 3rd ODI। সেই ম্যাচে বিরাট ২৩ রান করেছিল।IPL শুরুর আগে তার ২০২৬-এর সব ইনিংসের মধ্যে সবচেয়ে কম রানের স্কোর ছিল এই ২৩ রান। রাজকোটে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে।
টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ গেছে। টিম ইন্ডিয়া তাঁদের ছাড়া চ্যাম্পিয়ন হয়েছে! কম্পিটিটিভ ক্রিকেট থেকে দূরে ছিলেন দু’জনেই। কিন্তু এই বিরতি মোটেই ছিল না নিছক বিশ্রাম। এটা যেন ছিল একেবারে ছকে কষা নিজেদের প্রাণ শক্তির ব্যাটারি রিচার্জের রুটিন।তাই আইপিএল প্রথম ম্যাচেই কোহলি কাহানি শুরু। RCB-র প্রথম ম্যাচে নেমে ৬৯ রান অপরাজিত ৩৮ বলে ! 🔥
বিরাটের-এর ক্ষেত্রে দেখা গেছে, প্রথমে ছোট্ট একটা মানসিক – শারীরিক বিশ্রাম নেওয়ার পর মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই নেটে ঘাম ঝরানো প্র্যাকটিস শুরু । নতুন ব্যাট। এন্তার থ্রোডাউনে নকিং। টানা ব্যাটিং ড্রিলস! এমনকি RCB শিবিরে কমবয়সীক্রিকেটারদের মোটিভেট করার কাজ সারতে দেখা যায় তাঁকে ।এই পর্বে তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল ব্যাট-বলের সেই টাইমিং ফিরে পাওয়া। যেটা ম্যাচের ছন্দ এনে দেবে ।
আর রোহিত – হিটম্যান ? রোহিত শর্মার ক্ষেত্রে IPL শুরুর আগের শেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেছিল ১৮ জানুয়ারি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচ। সেই ম্যাচে Rohit 11 রান করেছিল। আর তারপর IPL প্রথম ম্যাচেই MI vs KKR ম্যাচে নেমে ৭৮ রান ৩৮ বলে মেরে পুরনো “Hitman” মেজাজ ফিরিয়ে দিয়েছেন । 💥
তাঁর মাঝের সময়ের ব্যাটারি চার্জ আরও আকর্ষণীয় ছিল। তিনি আরও ঝরঝরে চেহারায় আরও ফিটনেস বানিয়ে নিয়ে IPL-এ ফিরেছেন। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের ক্যাপ্টেন এর চাপ না থাকায় পুরো ফোকাস চলে এসে গেছে ব্যাটিংয়ে। পাওয়ার প্লে হিটিং অ্যাকিউরেসিতে। এবং শট খেলার সাবলীল ছন্দে ।মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ক্যাম্পে -এ ম্যাচ সিচুয়েশন নিয়ে ব্যাটিং বিস্ফোরণের কাজ করা হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, দু’জনের ক্ষেত্রেই পরিবার নিয়ে আনন্দ উপভোগ করার কোনও খবর নেই! কোনও পোষ্ট ছিল না। বরং উল্টো। যা পাওয়া যাচ্ছে, তা হলো:নিপাট বিশ্রাম। নিয়মিত জিম সেশন। স্কিলকে আরও মজবুত রাখা। ব্যাট – প্যাড নিয়ে ব্যাটিং মোডে চলে আসা। আর শেষমেশ, ফ্র্যাঞ্চাইজির ক্যাম্পে ঢুকে পড়া। অর্থাৎ, এই ব্রেকটা ছিল “হলিডে” নয়, আরও বড় কিছু করে দেখানোর জন্য নিরবিচ্ছিন্ন বিশ্রাম।
আর তার ফল? IPL ওপেনার দিয়েই দেখা গেছে। বিরাটের অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে নিয়ে ফেরা। পরের দিন ওপেনার রোহিতের হিটম্যান মেজাজে ব্যাটিং আর ম্যাচের সেরা হয়ে মাঠ ছাড়া। আইপিএল ১৯ প্রথম দুটি দিন দুই প্রিয় নায়কের ব্যাটিং জমিয়ে দিয়েছে আসর। এটাও প্রমাণ করে, অভিজ্ঞতা যখন মডার্ন সায়েন্স -এর সঙ্গে মেশে, তখন বয়স শুধু একটা নম্বর ছাড়া, আর কিচ্ছুটি নয়।