মোদী সরকারের অধীনে ভারত কোনো নির্দিষ্ট আদর্শ মেনে নয়, বরং ভারতের নিজস্ব স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে কূটনৈতিক পথে চলেছে। আমেরিকা ও ইসরায়েলের সাথে সুসম্পর্ক রাখার পাশাপাশি ইরান এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ বজায় রাখাটাই হলো ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’—একে কারোর দিকে ঝুঁকে পড়া বলা চলে না। এতে দেশবাসীর লাভ কোথায়!
দীপঙ্কর গুহ এডিটর ইন চিফ ( pinnaclenews.in)
নামজাদা সাংবাদিক রাজদীপ সরদেশাই-এর এক্স হ্যান্ডেল পোস্টে প্রধানমন্ত্রী মোদির সংসদে ভাষণকে স্বাগত জানিয়েছেন । ইস্যু দেশের সকলের কাছে বলা, ২০২৬ সালের ইরান যুদ্ধ দিয়ে যা শুরু হয়েছে ফেব্রুয়ারি ২৮ তারিখে মার্কিন-ইজরায়েলি বিমান হামলার পর, হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার মধ্যে – তার প্রকোপ কী।
কিন্তু পাশাপাশি রাজদীপ প্রশ্ন তুলেছেন, বিশ্বে ভারতের যে কূটনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা আছে, তা সম্বল করে শান্তির প্রস্তাব কি ট্রাম্প আর নেতানিয়াহুর কাছে পৌঁছবে? মনে রাখতে হবে – শুরু থেকেই ভারতের ঝুঁকে ছিল ইজরায়েলের দিকে। ভারতের ৮৫% তেল আমদানির উপর নির্ভরতা এই সংকটকে আরও গভীর করেছে। টাকার দাম পড়ে যাওয়া আর এলপিজি-র অভাবে দেশের ছোট ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।
আবার মোদিরঐক্যের ডাক সেই যেন করোনাকালের মতোই এসেছে। কিন্তু এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট কথা নেই। তাই বিরোধীদের যৌথ প্রস্তাবের দাবি উঠছে, যাতে সবাই মিলে একটা বার্তা দেওয়া যায়। এই ইস্যুতে মেরুকরণ স্পষ্ট: একদল বলছে ইজরায়েলের সঙ্গে বাস্তববাদী সম্পর্ক ঠিক আছে কিন্তু প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি আর রুশ তেলের জন্য ভাবা উচিত । অন্যদল বলছে ইরানের প্রতি নিরপেক্ষতা অনেক দেরিতে এসেছে। চাবাহার বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্বের কথা মনে রাখা দরকার।
আইইএ-র সতর্কবার্তা অনুযায়ী এই শক্তি সংকট ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের চেয়েও বড় হতে পারে, বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবের সঙ্গে মিলে গিয়ে । অবাক লাগছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হঠাৎ সংসদে দাঁড়িয়ে ভাষণ বিলিয়ে দেওয়া নিয়ে। এ কিসের ইঙ্গিত? আবারও কি কোভিডের সেই ভয়াবহ দিনগুলো ফিরে আসছে?
আমাদের আবারও বলা হচ্ছে যে পরিস্থিতি কোভিডের মতোই হতে চলেছে। কিন্তু ‘কোভিড’ শব্দটা শুনলেই আমাদের চোখে কোন ছবিগুলো ভেসে ওঠে?
* বিপর্যস্ত জনজীবন: বন্ধ ট্রেন, শূন্য মুদি দোকান, ওষুধের হাহাকার আর অক্সিজেনের অভাবে মানুষের ছটফটানি। মানুষ মাছি-মশার মতো মরেছে, আর যারা বেঁচে ছিল তারা ট্রেনের বগিতে সার্ডিন মাছের মতো গাদাগাদি করে ফিরেছে।
* মর্যাদাহীন মৃত্যু: নিজের প্রিয়জনের মৃতদেহ সৎকার করার সুযোগটুকুও পায়নি মানুষ। * স্বচ্ছতাহীন তহবিল: ‘PM Cares Fund’-এর নামে হাজার হাজার কোটি টাকা তোলা হয়েছিল, যার কোনো হিসাব আজও মেলেনি। * উদ্ভট নিদান: যখন মানুষ মরছে, তখন বড় বড় তারকারা ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে থালা বাজিয়ে আর ঘণ্টা নেড়ে প্রহসন করেছেন। * তথ্যের কারচুপি: সরকারি হিসেবে ৫ লক্ষ মৃত্যুর কথা বলা হলেও আসল সংখ্যাটা ছিল তার প্রায় ১০ গুণ বেশি। * পরিযায়ী শ্রমিকদের কান্না: হাজার হাজার কিলোমিটার পায়ে হেঁটে ফেরা, শরীরে কীটনাশক স্প্রে করা আর পুলিশের লাঠি— এই ছিল অভুক্ত শ্রমিকদের প্রাপ্য।
বর্তমান সংকট:
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবআজ যখন আমেরিকা ও ইসরায়েলের ইরান আক্রমণের জেরে ভারতে সংকটের মেঘ ঘনিয়ে আসছে, তখন আবারও সেই একই আশঙ্কার জন্ম দিচ্ছে।ইতিমধ্যেই
এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে : * অনেক জায়গায় এলপিজি (LPG) সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। খোলা বাজারে ১৬৭৫ টাকা দামের সিলিন্ডার ৩৫০০-৪০০০ টাকায় কিনে সংসারের লড়াই শুরু করেছে ছোট ব্যবসায়ীরা। * জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বাড়ছে। * বাণিজ্যিক ডিজেলের দাম ২৫% বাড়ানো হয়েছে। সামনে চার রাজ্যের নির্বাচন না থাকলে হয়তো সাধারণ পেট্রোল-ডিজেলের দামও আকাশ ছুঁত। * পরিবহন ব্যবস্থা ব্যহত হওয়ায় শহরগুলোতে খাদ্যের আকাল এবং অগ্নিমূল্য হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
সামনে এসেছে কিছু জ্বলন্ত প্রশ্ন :
১. এবার ‘গালফ অ্যাটাক’-এর নাম করে সরকার কোন নতুন ‘ট্রাস্ট’ খুলবে এবং কত টাকা সাধারণ মানুষের পকেট থেকে নেওয়া হবে?
২. সরকার কি বুঝতে পারছে না যে ইসরায়েল এবং আমেরিকার একতরফা পক্ষ নিয়ে ভারত আজ এক সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিপদে নিজেদের জড়িয়ে ফেলেছে? যার মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ ভারতীয়দের।
৩. আবারও কি পরিযায়ী শ্রমিকদের সেই অনিশ্চিত পথে নামতে হবে? (ইতিমধ্যেই অনেকে ঘরমুখো হতে শুরু করেছেন)।আমরা আশা করি পরিস্থিতি যেন কোভিডের মতো ভয়াবহ না হয়। কিন্তু বর্তমান লক্ষণগুলো মোটেও সুখকর নয়। সাধারণ মানুষকে সজাগ থাকতে হবে এবং সরকারের কাছে জবাবদিহি চাইতে হবে।সবাই প্রস্তুত থাকুন, সামনে কঠিন সময়।
#IndiaEconomy #PriceRise #PetrolDieselPrice #IranIsraelConflict #LPGShortage #CommonMan #MigrantWorkers #ModiGovernment #Inflation #WestAsiaCrisis #pinnaclenews #Facebokpost