...
Friday, March 20, 2026,

Political Adda: কেন বাংলার যুবকরা ছুটছে দক্ষিণে? পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর কর্মসংস্থানের আসল ফারাক কোথায়?

Total Views: 20

তামিলনাড়ু তার বৃহৎ শিল্প ও পরিকাঠামোর জোরে অর্থনৈতিক দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ তার কৃষি ও ক্ষুদ্র শিল্পের মাধ্যমে তৃণমূল স্তরের অর্থনীতিকে সচল রাখার চেষ্টা করছে।

দীপঙ্কর গুহ এডিটর ইন চিফ ( pinnaclenews.in)

তামিলনাড়ু এবং পশ্চিমবঙ্গ। দুটিতে বিধানসভা নির্বাচন। ভৌগোলিক অবস্থানে তামিল রাজ্য বড় পশ্চিমবঙ্গের চেয়ে। অথচ, সেখানে ভোট হতে চলেছে একদিনেই। কিন্তু বাংলায়? দুটি দিন লাগছে। দুটি রাজ্যেই “ডবল ইঞ্জিন” সরকার নেই। কিন্তু দেশে উভয় রাজ্যই ভারতের শক্তিশালী অর্থনৈতিক স্তম্ভ। তবে ২০২৪-২৬ সালের সাম্প্রতিক বাজেট এবং অর্থনৈতিক সমীক্ষা (Economic Survey) বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কিছু ক্ষেত্রে তামিলনাড়ু অনেকটা এগিয়ে রয়েছে, আবার কিছু সামাজিক ও কৃষি ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ ভালো অবস্থানে আছে।

তামিলনাড়ুর সাম্প্রতিক বাজেট (২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬) এবং ক্যাগের (CAG) তথ্য অনুযায়ী কিছু ইস্যুর একটি পরিসংখ্যান নিচে দেওয়া হল:

১. তামিলনাড়ুর বার্ষিক আয় (Revenue Receipts):

বিগত তিন অর্থবছর ধরে তামিলনাড়ুর মোট রাজস্ব আয় ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। এখানে মোট আয়ের (রাজ্যের নিজস্ব কর এবং কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত অংশসহ) হিসাব দেওয়া হলো: অর্থবছর ( ২০২২-২৩ -প্রকৃত) | মোট রাজস্ব আয়— ২,৪৩,৭৪৯ কোটি ২০২৩-২৪ (সংশোধিত অনুমান) মোট রাজস্ব আয় — ২,৭২,৫৭৭ কোটি ২০২৪-২৫ (বাজেট অনুমান) মোট রাজস্ব আয় — ২,৯৯,০১০ কোটি দ্রষ্টব্য: ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য এই আয় ৩,৩২,৩২৫ কোটি টাকা হবে বলে অনুমান করা হয়েছে।

২. রাজ্যের মোট ঋণ (Outstanding Debt):

তামিলনাড়ুর ঋণের পরিমাণ বাড়লেও রাজ্যের মোট জিডিপি (GSDP)-এর তুলনায় এর হার কিছুটা কমছে, যা ইতিবাচক।

* মোট ঋণের স্থিতি: ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে রাজ্যের মোট বকেয়া ঋণের পরিমাণ প্রায় ৮.৩৩ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

* জিডিপি-র শতাংশ হিসেবে ঋণ: ২০২৩-২৪: ২৬.৬%; ২০২৪-২৫: ২৬.৪%; ২০২৫-২৬: ২৬.১% (অনুমান)

৩. সরকারি চাকরি (Recruitment)তামিলনাড়ু সরকার নির্দিষ্ট কোনো একটি সংখ্যার পরিবর্তে বিভিন্ন বোর্ডের মাধ্যমে প্রতি বছর নিয়োগ প্রক্রিয়া চালায়। তবে সাম্প্রতিক প্রবণতাগুলো নিম্নরূপ:

* নিয়োগ বোর্ডসমূহ: মূলত TNPSC (Civil Services), TRB (Teachers), MRB (Medical), এবং Uniformed Services Recruitment Board-এর মাধ্যমে নিয়োগ হয়।

* নিয়োগের সংখ্যা: রাজ্য সরকার ২০২৪-২৫ সালের বাজেটে এবং বিভিন্ন ঘোষণায় প্রায় ৫০,০০০-এর বেশি শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যমাত্রা রেখেছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র শিক্ষক এবং পুলিশ বিভাগেই বড় অংশ নিয়োগ করা হচ্ছে। এছাড়া প্রতি বছর গড়ে ১০,০০০ থেকে ১৫,০০০ কর্মী অবসরে যাওয়ায় সেই পদগুলোও নিয়মিত পূরণ করার চেষ্টা করা হয়।

পশ্চিমবঙ্গের এইসব বিষয়ের তথ্য আমাদের জানা। রোজ চর্বিত চর্বণ এর মতো বলতে হয়। জানতে হয়। তামিলনাড়ু এবং পশ্চিমবঙ্গ—উভয় রাজ্যই ভারতের শক্তিশালী অর্থনৈতিক স্তম্ভ। তবে ২০২৪-২৬ সালের সাম্প্রতিক বাজেট এবং অর্থনৈতিক সমীক্ষা (Economic Survey) বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কিছু ক্ষেত্রে তামিলনাড়ু অনেকটা এগিয়ে রয়েছে, আবার কিছু সামাজিক ও কৃষি ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ ভালো অবস্থানে আছে।

নিচে একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:

১. অর্থনৈতিক আকার (GSDP): রাজ্যের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের নিরিখে তামিলনাড়ু ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি।

* তামিলনাড়ু: ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রাক্কলন অনুযায়ী জিএসডিপি (GSDP) প্রায় ১৫.৭১ লক্ষ কোটি টাকা। এদের বার্ষিক বৃদ্ধির হার (Nominal Growth) প্রায় ১৪-১৬%।

* পশ্চিমবঙ্গ: ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আগাম ভাবনা অনুযায়ী জিএসডিপি প্রায় ৯.০৪ লক্ষ কোটি টাকা। পশ্চিমবঙ্গ দেশের ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতি।

২. রাজস্ব আয় ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা: রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রেও তামিলনাড়ু অনেকটা শক্তিশালী অবস্থানে।

* রাজস্ব সংগ্রহ: তামিলনাড়ুর নিজস্ব কর রাজস্ব (State’s Own Tax Revenue) পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় অনেক বেশি, যা শিল্পায়ন ও নগরায়নের ফল।

* রাজস্ব ঘাটতি: পশ্চিমবঙ্গ তার রাজস্ব ঘাটতি জিএসডিপি-র ২.৪% থেকে কমিয়ে ১.৭% করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। অন্যদিকে তামিলনাড়ুও তাদের ঘাটতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে, তবে বড় সামাজিক প্রকল্পগুলোর কারণে তাদের ঋণের পরিমাণ কিছুটা বেশি।

৩. শিল্প বনাম কৃষি: এটিই এই দুই রাজ্যের মূল পার্থক্যের জায়গা।

* তামিলনাড়ু (শিল্পে এগিয়ে): ইলেকট্রনিক্স রপ্তানি, টেক্সটাইল এবং অটোমোবাইল শিল্পে তামিলনাড়ু ভারতের শীর্ষস্থানে। ২০২৪-২৫ সালে তাদের ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরের বৃদ্ধি জাতীয় গড়ের চেয়ে তিনগুণ বেশি ছিল। * পশ্চিমবঙ্গ (কৃষিতে এগিয়ে): চাল, পাট এবং সবজি উৎপাদনে পশ্চিমবঙ্গ দেশের অন্যতম সেরা। এছাড়া এমএসএমই (MSME) বা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যা সারা দেশের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ।৪. সরকারি চাকরি ও নিয়োগ: * তামিলনাড়ু: নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তামিলনাড়ু (TNPSC, TRB) অনেক বেশি নিয়মিত। ২০২৪-২৫ সালে তারা প্রায় ৫০,০০০ শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যমাত্রা রেখেছে। * পশ্চিমবঙ্গ: এখানেও বড় নিয়োগের (যেমন শিক্ষক বা পুলিশ) প্রক্রিয়া চলছে, তবে অনেক ক্ষেত্রে আইনি জটিলতার কারণে গতি কিছুটা মন্থর। তবে রাজ্য সরকার ২০২৫-২৬ বাজেটে পরিকাঠামো ও সামাজিক প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

তুলনামূলক সারসংক্ষেপ (২০২৫-২৬ অনুমান)

১) বৈশিষ্ট্য A . তামিলনাড়ু B. পশ্চিমবঙ্গ

১) অর্থনীতির আকার A . দ্বিতীয় বৃহত্তম (১৫.৭১ লক্ষ কোটি) | B. ষষ্ঠ বৃহত্তম (৯.০৪ লক্ষ কোটি)

২) মাথাপিছু আয় A. প্রায় ৩.৬ লক্ষ টাকা (উচ্চ) B. প্রায় ১.৭ লক্ষ টাকা (মাঝারি)

A . শিল্পায়ন | অত্যন্ত উন্নত ও বহুমুখী | ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে শক্তিশালী

B. রপ্তানি | ইলেকট্রনিক্স ও গাড়িতে শীর্ষে | কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত পণ্যে ভালো |

যদি নিছক অর্থনৈতিক শক্তি, মাথাপিছু আয় এবং বৃহৎ শিল্পের নিরিখে দেখা হয় , তবে তামিলনাড়ু অনেকটা এগিয়ে। তবে , লক্ষ্য করার যে পশ্চিমবঙ্গ তার সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প (যেমন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা কন্যাশ্রী) এবং ক্ষুদ্র শিল্পের মাধ্যমে তৃণমূল স্তরের অর্থনীতিকে সচল রাখতে বেশি জোর দেয়।পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ুর অর্থনৈতিক তুলনাএই ভিডিওটিতে ২০২৬ সালের বাজেট এবং বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

সৌ : দি হিন্দু

২০২৪-২৬ সালের পরিকল্পিত পরিসংখ্যান এবং সর্বশেষ পাওয়া ডেটা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ুর জনসংখ্যা ও ভাষাগত বিভাজন নিচে দেওয়া হল:

১. মোট জনসংখ্যা (২০২৬ সালের অনুমান)যেহেতু ২০১১ সালের পর ভারতে নতুন কোনো আদমশুমারি (Census) চূড়ান্ত হয়নি, তাই সরকারি তথ্য দিয়ে (Projections) একটা আনুমানিক বর্তমান জনসংখ্যা ধরা হয়: * পশ্চিমবঙ্গ: প্রায় ১০.০৬ কোটি (১০ কোটি ৬ লক্ষ)। এটি ভারতের চতুর্থ জনবহুল রাজ্য। * তামিলনাড়ু: প্রায় ৭.৭৬ কোটি (৭ কোটি ৭৬ লক্ষ)। এটি ভারতের সপ্তম জনবহুল রাজ্য।

২. ভাষাগত জনসংখ্যা (বাঙালি ও তামিল)রাজ্যের মোট জনসংখ্যার মধ্যে মাতৃভাষার নিরিখে বিভাজন নিচে দেওয়া হলো (সর্বশেষ সেন্সাস ট্রেন্ড অনুযায়ী শতাংশের হিসেবে):

বিষয় : পশ্চিমবঙ্গ (বাঙালি)। তামিলনাড়ু (তামিল)— মূল ভাষার শতাংশ – প্রায় ৮৫.৬% থেকে ৮৬% ( বাংলা )। প্রায় ৮.৬১ কোটি। প্রায় ৮৮% থেকে ৯০% ( তামিল) – আনুমানিক সংখ্যা | |প্রায় ৬.৯১ কোটি।

বিস্তারিত বিশ্লেষণ: * পশ্চিমবঙ্গে: বাঙালিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও রাজ্যে হিন্দি (প্রায় ৭%), সাঁওতালি, উর্দু এবং নেপালি ভাষাভাষী মানুষের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। কলকাতার মতো মহানগরীতে মিশ্র জনসংখ্যার প্রভাব বেশি। * তামিলনাড়ুতে: তামিল ভাষার আধিপত্য অত্যন্ত প্রবল (প্রায় ৯০%)। এছাড়া সেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় তেলুগু (প্রায় ৬%), কন্নড় এবং মালয়ালম ভাষাভাষী মানুষ রয়েছেন।এটা খেয়াল রাখুন —পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা তামিলনাড়ুর চেয়ে প্রায় ২.৩ কোটি বেশি, কিন্তু ভৌগোলিক আয়তনে পশ্চিমবঙ্গ (৮৮,৭৫২ বর্গ কিমি) তামিলনাড়ুর (১,৩০,০৫৮ বর্গ কিমি) চেয়ে ছোট। অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যার ঘনত্ব তামিলনাড়ুর তুলনায় অনেক বেশি, যা পরিকাঠামো ও উন্নয়নের পরিকল্পনায় বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।ডাবল ইঞ্জিন সরকার না হওয়া সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ুর অর্থনৈতিক মডেল সম্পূর্ণ আলাদা। বেকারত্বের সমস্যার গভীরতা বুঝতে গেলে কেবল সংখ্যার দিকে তাকালে চলবে না, কর্মসংস্থানের ধরণটিও দেখা জরুরি।

২০২৪-২৫ সালের PLFS (Periodic Labour Force Survey) এবং অর্থনৈতিক সমীক্ষার ট্রেন্ড অনুযায়ী একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো:

১. বেকারত্বের হার (Unemployment Rate)পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তামিলনাড়ুর তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্বের হার কিছুটা কম দেখায়, কিন্তু এর পেছনে একটি বড় কারণ আছে।

* পশ্চিমবঙ্গ: বেকারত্বের হার প্রায় ৪.৪% থেকে ৫%-এর আশেপাশে থাকে। তবে এখানে একটি বড় অংশ ‘ছদ্ম বেকারত্ব’ (Disguised Unemployment) বা কৃষি ও ক্ষুদ্র শিল্পে (MSME) নিযুক্ত। অর্থাৎ, তারা কাজ করছেন ঠিকই, কিন্তু আয়ের পরিমাণ এবং কাজের স্থায়িত্ব খুব কম।

* তামিলনাড়ু: বেকারত্বের হার প্রায় ৫.৩% থেকে ৬%-এর মধ্যে ঘোরাফেরা করে। অবাক করার মতো বিষয় হলো, শিক্ষিত যুবকদের মধ্যে বেকারত্ব তামিলনাড়ুতে বেশি। কারণ সেখানে উচ্চশিক্ষিতের সংখ্যা অনেক বেশি এবং তারা অদক্ষ শ্রমিকের কাজ করতে আগ্রহী নন।

২. কর্মসংস্থানের প্রকৃতি (Nature of Jobs)এখানেই আসল পার্থক্য ফুটে ওঠে:

* তামিলনাড়ু (সংগঠিত ক্ষেত্র): এখানে টেক্সটাইল, অটোমোবাইল এবং ইলেকট্রনিক্স শিল্পে প্রচুর ‘ফরমাল’ বা নিয়মিত বেতনের চাকরি রয়েছে। ভারতের মোট কারখানার (Factories) ১৬% এবং নারী কর্মীদের সিংহভাগই তামিলনাড়ুতে। ফলে সেখানে কাজ পাওয়ার সুযোগ বেশি, যদি দক্ষতা থাকে।

* পশ্চিমবঙ্গ (অসংগঠিত ক্ষেত্র): এখানে কর্মসংস্থান মূলত কৃষি, নির্মাণ কাজ এবং ক্ষুদ্র শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। বড় শিল্প বা আইটি সেক্টরের বড় বিনিয়োগের অভাব থাকায় উচ্চশিক্ষিত যুবকদের একটি বড় অংশ কাজের খোঁজে অন্য রাজ্যে (যেমন ব্যাঙ্গালোর, হায়দ্রাবাদ বা চেন্নাই) চলে যেতে বাধ্য হয়।

৩. পরিযায়ী শ্রমিকের সমস্যা (Migrant Labour Issue)বেকারত্বের সমস্যার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা। * পশ্চিমবঙ্গ: প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ যুবক কাজের খোঁজে কেরল, তামিলনাড়ু বা মহারাষ্ট্রে যায়। এটি প্রমাণ করে যে রাজ্যে স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত ‘উৎপাদনশীল’ কর্মসংস্থান নেই। * তামিলনাড়ু: তারা উল্টো অবস্থানে। তামিলনাড়ু বর্তমানে উত্তর ও পূর্ব ভারত (বিহার, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ) থেকে আসা শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ, তাদের অর্থনীতিতে শ্রমিকের চাহিদা বেশি, জোগান কম।

সংখ্যার বিচারে পশ্চিমবঙ্গকে হয়তো এগিয়ে মনে হতে পারে, কিন্তু বাস্তব সমস্যার গভীরতা পশ্চিমবঙ্গে বেশি। কারণ একটি রাজ্যের অর্থনীতি তখনই সুস্থ থাকে যখন মানুষ নিজ রাজ্যে সম্মানজনক আয়ের সুযোগ পায়। তামিলনাড়ুর অর্থনীতি ‘চাহিদা চালিত’ (Demand-driven), যেখানে পশ্চিমবঙ্গ এখনও ‘টিকে থাকার অর্থনীতি’ (Subsistence economy)-র ওপর বেশি দাঁড়িয়ে।

এই শেষ পর্বে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থানের মূল পার্থক্যগুলো পরিষ্কারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।এখানে আপনার জন্য একটি সহজবোধ্য সংক্ষেপ তথ্য দেওয়া হল যা আপনি মনে রাখতে পারেন:

এক নজরে: পশ্চিমবঙ্গ বনাম তামিলনাড়ু (২০২৪-২৬)

* অর্থনৈতিক শক্তি: তামিলনাড়ু জিএসডিপি-র নিরিখে ভারতের ২য় বৃহত্তম অর্থনীতি, যেখানে পশ্চিমবঙ্গ ৬ষ্ঠ স্থানে।

* কর্মসংস্থানের ধরণ: তামিলনাড়ু মূলত ভারী শিল্প ও ইলেকট্রনিক্স রপ্তানিতে এগিয়ে। পশ্চিমবঙ্গ কৃষি ও ক্ষুদ্র শিল্প (MSME) খাতে শক্তিশালী।

* বেকারত্ব ও শ্রম: পশ্চিমবঙ্গের বড় চ্যালেঞ্জ শিক্ষিত যুবকদের বহির্গমন (Migrant Labour), অন্যদিকে তামিলনাড়ু অন্যান্য রাজ্যের শ্রমিকদের জন্য কর্মসংস্থানের বড় কেন্দ্র।

* মাথাপিছু আয়: তামিলনাড়ুর মাথাপিছু আয় পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

আপনি কী মনে করেন, বাংলার শিল্পায়নের জন্য আরও কী ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত? কমেন্ট করে জানান। আর এই ধরণের আরও বিশ্লেষণের জন্য ফলো করুন- পেনাকল নিউজ।

Share with

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *